Header Ads

করোনা পজিটিভ যুব সভাপতি, তবুও ভার্চুয়াল নয় প্রকাশ্য মিটিং! বিতর্কে তৃণমূল।

অঞ্জন বল, বালুরঘাটঃ খোদ জেলা তৃনমুলের যুব কংগ্রেসের সভাপতির করোনা পজিটিভ আসায় লকডাউনের সময়ে ভার্চুয়াল সভা না করে মঞ্চে বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়কে নিয়ে বিশেষ সভা করা নিয়ে বড় সড় প্রশ্নের মুখে দক্ষিন দিনাজপুর জেলা তৃনমুল নেতৃত্ব। কেননা গত বৃহষ্পতিবার বুনিয়াদপুরে জেলা তৃনমুলের ডাকা ওই বিশেষ সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুব কংগ্রেসের সভাপতি অম্বরিশ সরকার। সেদিনের সভায় তার সাথে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের রাষ্ট্র মন্ত্রী তথা তপন বিধানসভার বিধায়ক বাচ্চু হাসদা সহ অনেক নেতা কর্মীদের জমিয়ে খোশ গল্প করতে ও নানান আলাপ আলোচনা করতে দেখা গেছে। এমনকি বন মন্ত্রীর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ও অনেকে তাকে ধারেপাশে দেখেছে।
গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে দলীয় সভা করেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে অন্যদের মধ্যে ছিলেন উঃবঃ উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা প্রাক্তনমন্ত্রী শংকর চক্রবর্তী সভাধিপতি লিপিকা রায় যুব নেতা সহ একাধিক জেলা তৃণমূলের পদাধিকারী নেতা ও কর্মীরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মঞ্চে ও সভায় থাকা মন্ত্রী সহ জেলা তৃনমূল নেতৃত্বকে ১৪ দিন কোয়ারাইন্টাইন থাকার কথা হলেও কিন্তু আজ দুপুর পর্যন্ত কোন লক্ষন দেখা যায় নি। এমনকি আজ পেট্রল ডিজেলের বৃদ্ধি সহ অন্য বিষয় নিয়ে জেলা তৃনমুল সভাপতি অর্পিতা ঘোষ বালুরঘাট পুরভবনের সুবর্ণতট প্রেক্ষা গৃহে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
 কেননা বিধি অনুযায়ী তাদের ও কোয়ারাইন্টাইনে যাওয়া উচিত। যদিও আজকের সাংবাদিক বৈঠকে জেলা তৃনমুল সভাপতি অর্পিতা ঘোষ বিষয়টি স্বিকার করে নিয়ে জানান দলের সবাইকে কোয়ারাইন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এব্যাপারে এখনও কোন হেল দোল নেই জেলা স্বাস্থ্য দফতরের। এদিকে বৃহষ্পতিবার সভা করে গতকাল শুক্রবার জলপাইগুড়িতে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বন মন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়। করোনার স্বাস্থ্য বিধি মানলে মন্ত্রীর সফরের সময় যে সব আমলা বা অনান্য লোকজন মন্ত্রীর সাথে মিশেছেন মন্ত্রী ও তার গাড়ির চালক সহ সবাইকে কোয়ারাইন্টানে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সে ব্যাপারে সব পক্ষই নিরব। যদিও ফোনে বন মন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়কে ধরা হলে তিনি বিষয়টি শুনেছেন বলে জানান।
পাশাপাশি তিনি নিজের কোয়ারাইন্টাইনের ব্যাপারে কোন কথা না বলে বরং সেদিনের সভায় যারা যুব সভাপতির সংষ্পর্শে ছিলেন তাদের সাত দিনের জন্য কোয়ারাইন্টাইনে পাঠানোর জন্য জেলা তৃনমুল সভাপতিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে মন্ত্রী জানান।
 অপরদিকে সংক্রমণ ঠেকাতে সেদিনের সভায় উপস্থিত সকলকে সাতদিনের জন্য সেফ হোম থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্পিত ঘোষ। এমনকি বিষয়টি জানানো হয়েছে বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়কেও। অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে সেদিন উপস্থিত সকলের লালারসের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
আজ দক্ষিণ দিনাজপুরে নতুন করে যে ১২ জনের পজেটিভ ধরা পড়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেলা তৃনমুলের এই যুব নেতাও রয়েছেন । এদিকে করোনা আক্রান্তের রিপোর্ট পাওয়া মাত্রই সেদিনের সভায় উপস্থিত মন্ত্রী তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও শুরু হয়েছে আতংক। তবে আজকের ১২ জন কে ধরে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাড়িয়েছে ১৯১ জন। তার মধ্যে ১০০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পাশাপাশি জেলায় ফিরে আসা প্রায় ৫০ হাজার পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে ৪৪ হাজার শ্রমিক তাদের হোম কোয়ারাইন্টাইনে থাকার মেয়াদ পার করেছেন বলে জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ইস্যু কে হাত ছাড়া করতে রাজি নয় শাসক দলের বিরোধীপক্ষ। জেলার একমাত্র সাংসদ তথা জেলা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ তিনি দিল্লি থেকে ফিরে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানিয়ে ১৪ দিন হোম কোয়ারাইন্টাইনে থাকা সত্বেও আমাকে পরে ত্রান নিয়ে যেতে পুলিশ প্রশাসন বাধা দিয়েছে। এমনকি ফের কোয়ারাইন্টাইনে যাওয়ার নোটিশ পর্যন্ত ধরানো হয়েছিল। আর এখন করোনা আক্রান্তের সাথে মিটিং করার পরও জেলা তৃনমুল সভাপতি কি করে হোম কোয়ারাইন্টাইনে না থেকে সাংবাদিক বৈঠক করছে। তিনি অভিযোগ জানিয়ে বলেন এখন কোথায় পুলিশ প্রশাসন, তারা কি অন্ধ হয়ে থাকতেই ভাল বাসেন। সেদিনের সভায় হাতের ডান দিক থেকে বসে থাকা দ্বীতিয় জন হলেন যুব নেতা অম্বরীশ সরকার।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.