Header Ads

এই প্রথমবার কোভিডজয়ী মনামীর শরীর থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করলো মেডিক্যাল কলেজ।

নজরবন্দি ব্যুরো: কোভিডজয়ীর রক্ত থেকে প্লাজমা বের করে সংরক্ষণ করার কাজ শুরু করলো মেডিক্যালের ব্লাড ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ। আর এই প্রথম প্লাজমা দাতা হাবড়ার মেয়ে মনামী বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার মনামীর শরীর থেকে প্লাজমা থেরোসিস পদ্ধতিতে রক্তরস সংগ্রহ করেন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডঃ প্রসূন ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার বেলা পৌঁনে বারোটা নাগাদ বাবার সাথে মেডিক্যালে আসেন মনামী। প্লাজমা থেরাপির জন্য আগেই রক্তদানের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। এদিন ওজন, রক্তচাপ ও শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়। তারপর সোয়া একটা নাগাদ শুরু হয় প্লাজমা সংগ্রহের কাজ, চলে ২.০৫ পর্যন্ত। ডঃ প্রসূন ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন পূর্ব ভারতে এই প্রথম কোভিডজয়ীর শরীর থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হল।
 সেই অর্থে এটা ইতিহাস তো বটেই। খুশি মনামীও। তার বক্তব্য নজির গড়তে কে না চায়? এরকম একটা সুযোগ করে দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের ধন্যবাদ। প্লাজমা দানের আগে মনামীকে চকলেট,ফ্রুট জ্যুস, মিল্ক শেক খেতে দেওয়া হয়। পঞ্চাশ মিনিট ধরে ৪১০ মিলিলিটার প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়। লোহিত রক্তকণিকা প্লেটলেট সহ রক্তের বাকি উপাদান ফের মনামীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়। জটিল হলেও এই পদ্ধতি সাধারণ রক্তদানের মতোই সুরক্ষিত। প্রসুন বাবু জানান ডেঙ্গু, থ্যালাসেমিয়া বা লিউকোমিয়ার মতো রোগে এই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্লাজমা থেরাপির জন্য এই প্রথম সেল সেপারেটর যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়।
আগামী সোমবার আরো একজন প্লাজমা দেবেন। এছাড়া প্লাজমা দেবেন টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের ২৮ বছরের এক কোভিডজয়ী চিকিৎসক।১০-১২ পাউচ প্লাজমা হলেই সংকটজনক কোভিড রোগীদের জন্য প্লাজমা থেরাপি শুরু করা যাবে। মনামীর মত আরো অনেক এরকম প্লাজমাদাতা আছেন। স্কটল্যান্ডের পড়ুয়া মনামী বিদেশ থেকে বাড়ি ফেরার পরে করোনা আক্রান্ত হয়। এবং তিনি বাংলা তৃতীয় করোনা রোগী। এই কঠিন লড়াইয়ে জিতে সুস্থ হয়ে বাড়িও ফেরেন। তার পরেই তিনি করোনা চিকিৎসার স্বার্থে প্লাজমা দানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.