Header Ads

করোনা আবহেও অব্যাহত বেসরকারি স্কুলগুলির জুলুমবাজি! সরকার কোথায়?

অরুনাভ সেন, নজরবন্দিঃ বেসরকারি স্কুলগুলো কোনও ভাবে ফি বাড়াতে পারবে না বার্তা আবার পাঠাবে রাজ্য শিক্ষা দফতর৷ ৮ এপ্রিল রাজ্য সরকারের প্রথম আবেদনে কার্যত সাড়াই দেয়নি রাজ্যের বেসরকারি স্কুলগুলি৷শিক্ষা দফতরের অনুরোধের সদর্থক সাড়া মেলেনি রাজ্যের বেসরকারি স্কুল গুলির তরফ থেকে৷আরও একবার রাজ্য সরকারের আবেদন তাদের স্মরন করিয়ে দিতে আবার রাজ্যের শিক্ষা দফতর বেসরকারি স্কুলগুলির কাছে আবেদন করবে৷রাজ্যে বেসরকারি স্কুলগুলির বিরুদ্ধে নিয়মবিরুদ্ধ ভাবে ফি বাড়ানোর অভিযোগ নতুন নয়৷কারনে-অকারনে নানা অজুহাতে পড়ুয়াদের অভিভাবকদের থেকে নানা ধরনের ফি আদায় যেন বেশীরভাগ বেসরকারি স্কুলগুলির সংস্কৃতি৷স্কুল গুলি অবশ্য বলে শিক্ষার গুনগত উৎকর্ষ পেতে হলে গ্যাঁটের কড়ি কিছু খরচ নাকি করতেই হবে!
যদিও এই বছরটা ভিন্ন করোনার আবহে চলছে টানা লকডাউন৷সংগঠিত ক্ষেত্র ছাড়াও অনেক পড়ুয়া আছে যাদের অভিভাবকদের কার্যত আয় রোজগার স্তব্ধ৷স্বভাবত স্কুলের ফি মেটানো তাদের কাছে দুঃস্বপ্ন৷সেইসব মানুষদের সুরাহা দিতেই রাজ্য সরকারের এই আবেদন৷ তবে ভুক্তভোগী অভিভাবকরা বলছেন সম্পূর্ন অন্য কথা৷তাদের বক্তব্য লেখাপড়া সংক্রান্ত ফি ছাড়াও অন্যান্য খাতে অভিভাবকদের থেকে মোটা অঙ্কের নিয়ম বহিভূর্ত ফি প্রতিবছর কার্যত জুলুম করে আদায় করে বেসরকারি স্কুলগুলো৷অথচ রাজ্য সরকার ইচ্ছা করলেই বেসরকারি স্কুলগুলোর এই শোষন রুখতে পারে৷অভিভাবকরা বারবার অভিযোগ করেন বেসরকারি স্কুলগুলির ফি নিয়ে সরকারের আদৌও কোনও মনিটরিং নেই৷সেইজন্য বেসরকারি স্কুলগুলো যা খুশী তাই করতে পারে৷অভিভাবকরা বারবার অভিযোগ করেছেন সরকার কেন এইসব দিকে নজর দেয় না?বেসরকারি স্কুলগুলোর হাজারো ফি আর বায়নাক্কা পোহাতে পোহাতে প্রতিবছর নাজোহাল হন অভিভাবকরা৷অথচ খোদ এই বেসরকারি স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বেতন কাঠামো মেনে উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঠিক বেতন দেয়না৷অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে অত্যন্ত কম বেতনে কাজ করতে হয়৷বেতন নিয়ে মুখ খুলতে ভয় পান তারা,কারন তাহলে ছাঁটাই হওয়ার ভয় আছে৷যদিও বুদ্ধিমান স্কুল কতৃপক্ষ অফিসিয়াল পেপার ওয়ার্কটা এমন সুন্দর ভাবে তৈরি রাখেন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কম বেতন বাস্তবে প্রমান করা ভীষন কঠিন! কিন্তু সরকারের স্বদিচ্ছা থাকলে অনায়াসে এই বৈষম্য দূর করা যায়৷
প্রশ্ন হল সরকার কেন এই বেসরকারি স্কুল গুলির অন্যায় কঠোর হাতে দমন করতে পারে না?প্রথমত এইসব স্কুলগুলোর মাথায় দেখা যারে সরকার ঘনিষ্ঠ কোন রাঘব-বোয়াল বসে আছেন৷বাম আমলে ছিল,এখনও আছেন৷যাদের আসল কাজ সরকারি মনিটরিংটা সামলে নেওয়া৷তাহলেই কেল্লাফতে৷এরপর ফি বৃদ্ধি,শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কম বেতন সহ অন্যান্য অভিযোগগুলো অনায়াসে ধামাচাপা দেওয়া যায়৷বেসরকারি স্কুলগুলির বিরুদ্ধে আরও বড় অভিযোগ এই সব স্কুলের অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা নাকি মার্চের বেতন পান নি৷যদি এই তথ্য সত্য হয় তাহলে দুর্ভাগ্যের আর কিছু নেই৷অথচ স্কুল গুলো খুব ভাল বোঝে ওদের মিডিয়ামটা যেহেতু ইংরাজি,অতএব যত অর্থ লাগুক ছাত্র-ছাত্রীদের বাবা-মা মনে প্রানে চান সন্তানকে এইসব স্কুলে ভর্তি করতে৷বাবা-মায়ের আশা আর সেন্টিমেন্টকে মূলধন করে প্রতি বছর বেসরকারি স্কুলগুলির ফি বৃদ্ধি যেন নিয়ম৷অথচ সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রনই নেই৷এমনি শিক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণ হয়েছে,টাকা যার শিক্ষা তার৷মেধার মূল্য নেই৷যার বাবার টাকা থাকবে সে শিক্ষা না পাক ডিগ্রি অর্জন করবে৷,প্রশ্ন সরকার কাদের স্বার্থ রক্ষা করবে?কিছু ব্যবসাদারের নাকি পড়ুয়াদের,নাকি উচ্চশিক্ষিত অথচ ভীষন কম বেতনে যারা ঐসব স্কুল গুলিতে চাকরি করছেন তাদেরত বছরভর বেসরকারি স্কুলগুলোর জুলুমবাজি চলছে৷একদিকে পড়ুয়াদের নানা ফি বৃদ্ধি,অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিব্যি কম বেতন দিয়ে শুধু ব্যবসা করছে বেসরকারি স্কুলগুলো৷

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.