Header Ads

করোনায় মৃতদের সৎকার নিয়ে রাজ্যকে কড়া নির্দেশ দিল আদালত!

নজরবন্দি ব্যুরো: আদালতের নির্দেশে অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি করোনা নিয়ে এক জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যকে পাঁচ দফা নির্দেশিকা ধরিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। শনিবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে করোনায় মৃতদের সৎকার সংক্রান্ত একটি মামলার রায়ে দেওয়া নয়া নির্দেশ। শনিবারের মামলায় হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী জানিয়ে দিয়েছেন, করোনা ভাইরাসে মৃত ব্যক্তি বা মহিলা বা শিশুর দেহ সৎকার করতে হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর-র গাইডলাইন মেনেই। রাজ্য প্রশাসনকেই দাঁড়িয়ে থেকে সেই গাইডলাইন মেনে কাজ করতে হবে।

এলাকা সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, হাওড়ায় গত ৩ এপ্রিল এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অভিযোগ ওঠে কোনওরকম গাইডলাইন না মেনেই দক্ষিণ হাওড়ার এ জে সি বোস বোটানিক্যাল গার্ডেন থানা এলাকার আন্দুল রোডের পাশে থাকা কবরস্থানে সেই ব্যক্তিকে কবর দেওয়া হয়। মৃতের পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ তোলা হয় নি। কিন্তু এলাকার কিছু লোকজন অভিযোগ তোলেন যে স্থানীয় প্রশাসনের মদতেই এমনটা করা হয়েছে। সেই ঘটনার জেরেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। আর সেই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত এমন নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অপরদিকে, কিছুদিন আগে সিপিআই(এম) নেতা ড. ফুয়াদ হালিম কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করেন। তাতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ করা হয়। সেই মামলার মূল বিষয়বস্তুই ছিল নভেল করোনার সংক্রমণ নিয়ে রাজ্য সরকার সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃতের সংখ্যা সঠিক ভাবে দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ ছিল রোগ মোকাবিলায় ঘাটতি রয়েছে পরিকাঠামোতেও। ওই মামলায় শুক্রবার রাজ্য সরকারকে পাঁচ দফা নির্দেশিকা জারি করেছেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ।বৃহস্পতিবার এই মামলাটি শুনানির জন্য আদালতে ওঠে।
রাজ্য সরকারের তরফে স্বাস্থ্য-দপ্তরের প্রধান সচিব ডা. সৌমিত্র মোহন রিপোর্ট পেশ করেন। কিন্তু তখন ফুয়াদ হালিমের আইনজীবী তথা সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্য সরকার ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিকেল রিসার্চ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে কাজ করছে না। এর পরে বিচারপতি রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে পাঁচ দফা নির্দেশ জারি করেন। সেই নির্দেশে বলা হয়, করোনা চিকিৎসা এবং প্রতিরোধে 'হু' এবং আইসিএমআর-এর গাইডলাইন নির্দিষ্টভাবে মেনে চলতে হবে রাজ্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে। এর পাশাপাশি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাড়াতে হবে টেস্টের সংখ্যা। মামলাকারী এবং রাজ্য কেউই গোষ্ঠী সংক্রমণ নিয়ে কিছু না বললেও এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেটা দুই তরফকেই খেয়াল রাখতে হবে। দ্রুত এই সংক্রমণ আটকাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সঙ্গে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় স্ক্রিনিংও করতে হবে। বিশেষ নজর দিতে হবে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য-কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টিতেও। নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরপর রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্য সরকারকে।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.