ছিল ন্যায্য দাবি, সামাজিক দূরত্বও তবুও গ্রেফতার; রাজ্যবাসীর হৃদয় জিতলেন বিমান বসু'রা।
অরুনাভ সেন, নজরবন্দিঃ করোনার পরাক্রমের আগে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির চমকপ্রদ উত্থানের পর রাজ্য রাজনীতিতে ডুয়েল ছিল তৃণমূল বনাম বিজেপি৷ রাজ্যে বিজেপির দ্বিতীয় স্থান অর্জন অনেকগুলি সত্য প্রতিষ্ঠিত করেছিল৷ বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপি ক্রমশ শক্তিবৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে পারছিল সেটা অনেক বিশেষজ্ঞ বুঝতে পেরেছিলেন৷ অনেকে এর পিছনের কারন হিসেবে যেমন বিজেপির মেরুকরনের রাজনীতির সুফল ঘরে তোলাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন তেমনই রাজ্যের বৃহৎ অংশের মানুষ বাম এবং কংগ্রেসের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছিলেন৷আবার বিজেপির মতাদর্শের প্রতি এতটুকু বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অন্ধ তৃণমূল বিরোধীতায় অনেকে বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়ছিলেন৷কিন্তু করোনার পরাক্রম রাজ্য রাজনীতির অনেক সমীকরণ বদলে দিল৷রেশন নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের ক্ষোভকে রাস্তার আন্দোলনে পরিণত করে পুলিসের হাতে গ্রেফতার হয়ে রাজ্যবাসীর হৃদয় জিতলেন বাম নেতারা,এই কথা বললে বোধহয় অত্যুক্তি হয়না৷করোনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য,পরিসংখ্যানকে চ্যালেঞ্জ সহ বিভিন্ন দাবিতে বামপন্থীদের ইতিবাচক রাস্তার আগ্রাসী রাজনীতি রাজ্যের সচেতন মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে৷এক ঢিলে অনেক পাখি মারার কাজটা বেশ দক্ষতা ও মুন্সিয়ানার সঙ্গে বাম নেতারা করতে পারেন সেটা কিন্তু রেশন নিয়ে মানুষের ক্ষোভকে রাস্তার বিক্ষোভে পরিনত করে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে তারা বুঝিয়ে দিলেন৷ স্ট্রাটেজি ও রণনীতি নির্ধারনে শীর্ষ বাম নেতৃত্বের স্কিলে এতটুকু মরচে ধরেনি৷বামেদের এই ছক ভাঙা রাজনীতি পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে মাইলফলক হয়ে উঠবে কি, সময় বলবে,তবে ট্যাকটিক্যাল রাজনীতিতে তারা সরকার তথা শাসক তৃণমূলকে বড় ধাক্কা দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷পাশাপাশি মানুষের প্রাপ্য রেশন অমিল এই অভিযোগে রাজ্য সরকারকে অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বামেরা এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছে৷ রাজ্য রাজনীতির রনাঙ্গনে বিজেপিকে বেশ কয়েক কদম যেমন পিছিয়ে দেওয়া গেল,তেমনই তৃণমূলের আগামীদিনের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপিকে সরিয়ে রাজ্যে বামেদের নতুন করে উত্থান হলে অবাক হবেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ থেকে রাজনীতি সচেতন মানুষ৷করোনা নিয়ে বামেদের বিবৃতি,মুখ্যমন্ত্রীকে সুজন চক্রবর্তীর চিঠি সব কিছুতেই বিনা যুদ্ধে যেমন সুচাগ্র মেদিনী না দেওয়ার আবহ যেমন আগে থেকেই ছিল৷ বাম শীর্ষ নেতৃত্ব রেশনের দাবিতে পথে নেমে বোঝালেন রাজ্যের মানুষের অধিকার রক্ষায় তারা প্রয়োজনে রাস্তায় নামবেন,গ্রেফতারও বরন করবেন৷বাম শীর্ষ নেতৃত্বের রাস্তায় নেমে আসা গ্রেফতার বরন করা আগামীদিনে ভোট রাজনীতিতে তাদের কতটা ডিভিডেন্ট দেবে ভবিষ্যত সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে,তবে বামেদের এই ইতিবাচক রাজনীতি যে রাজ্যের তৃণমূল বিরোধী মানুষকে নাড়া দিচ্ছে সেই কথা হলফ করে বলা যায়৷ গরিব.নিন্মবিত্ত মানুষের টাকার দাবিতে সরব হওয়া,কিংবা ব্লাড ব্যাঙ্ক গুলিতে রক্তের হাহাকার মেটাতে ত্রাতার ভুমিকায় বামেদের এগিয়ে আসা অথবা হাওড়ায় করোনায় মৃত মানুষের সংখ্যা নিয়ে রাজ্য সরকারকে বামেদের চ্যালেঞ্জ সবমিলিয়ে কোথাও যেন সরকারের সঙ্গে সৌজন্যের সুর কাটার ঈঙ্গিত ছিল আগে থেকেই!এটুকু বলা যায় পরিবর্তনের পর এই প্রথম বামেদের গেমচেঞ্জিং রাজনীতি গোটা বাংলার মানুষকে মুগ্ধ করছে৷স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দুরত্ব রেখে হাতে প্ল্যাকার্ড গণবণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে সঠিক ভাবে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে না গরিবদের ঘরে চাল-ডাল,এই অভিযোগে বামেদের রাস্তার প্রতিবাদ নিঃসন্দেহে গেম চেঞ্জিং রাজনীতি৷ভোটে এই রাজনীতি বাম শীর্ষ নেতৃত্বকে কতটা ডিভিডেন্ট দেবে ভবিষ্যত বলবে,তবে মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ে বাম শীর্ষ নেতৃত্ব যেভাবে সরকারের বিরুদ্ধে সন্মুখ সমরে নেমে গ্রেফতার বরন করলেন,তাতে আর কিছু হোক আর না হোক রাজ্যবাসীর হৃদয়টা কিন্তু জিতে নিলেন পক্ককেশের বিমান,সুর্য থেকে সুজন,সেলিমরা৷

No comments