শিক্ষকদের সাথে কেন এত বঞ্চনা? আবার আন্দোলনে উস্থি; মিছিল মিশবে BGTA-র ধর্নায়!
নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিক্ষক ও বঞ্চনা শব্দটি কেমন যেন ওতপ্রোতভাবে যুক্ত হয়ে গেছে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায়। 2009 সালে প্রকাশিত ROPA তে রাজ্য সরকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনের চাইতেও অনেক গুণে বেশি বেতনের বরাদ্দ করা হয় মাদ্রাসা বোর্ডের প্রাথমিক শিক্ষকদের। সেই বৈষম্য ও বঞ্চনার পুরো নিরসন ও ন্যায্য বেতন দেওয়ার পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৎসহ পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
2009-10 সালে তাদের ভোটের প্রচারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায় সরকারী কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ ও প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বঞ্চনা। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি পূরণ তো দূরের কথা, বঞ্চনার পরিমাণ দিন দিন আরো বেড়েই চলেছে বলে দাবী করেছেন সরকারী কর্মচারী থেকে প্রাথমিক শিক্ষকরা। প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বঞ্চনা নিয়ে বারংবার পথে নেমেছে বিভিন্ন সংগঠন। তাদের মধ্যে অন্যতম মাত্র দু'বছরের গঠিত এক সংগঠন UUPTWA। মাননীয়ার দেখানো পথেই টানা 14 দিন অনশন করে তারা তাদের আন্দোলনরত বেআইনী বদলিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিজ জেলায় ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হয় ও 26/07/2019 এ প্রাথমিক শিক্ষকদের 2600 থেকে 3600 গ্রেড পে বৃদ্ধি ও পে স্কেল বৃদ্ধির অর্ডার বার করতে সমর্থ হয়। তথাপি বঞ্চনার অবসানের পরিবর্তে নতুন বঞ্চনার সৃষ্টি হয়। অর্ডারের সঠিক ক্ল্যারিফিকেশন না থাকায় 2013 সাল থেকে 2019 সাল অবধি যোগদান করা সকল শিক্ষকদের বেতন সমান হয়ে যায়, সঠিক নোশ্যনাল এফেক্ট না দেওয়ার কারণে। এর পর প্রকাশিত হয় ROPA 2019 যেখানে গিয়ে সব বঞ্চনা মিলেমিশে বৃহত্তর বঞ্চনার সৃষ্টি হয়।
প্রধান শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তে হেড টিচার বেনিফিট উধাও করে শুধু মাত্র 400 টাকা এডিশনাল গ্রেড পে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোন শিক্ষক 18 বছর শিক্ষকতা করার পরে যে increment পেয়েছিলেন সেটা উধাও করে দেওয়া হয় এই ROPA তে। এবং গ্রেড পে তে A catagory স্কেল বাতিল করে B catagory স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়। 2015 সালে যে শিক্ষক চাকরিতে যোগদান করেছেন, তার বেতন 2016, 2017, 2018 ও 2019 এ যোগদান করা সকল শিক্ষকের বেতনের সমান। যা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সারা ভারতবর্ষে নজিরবিহীন ঘটনা। এমনকি 2014 সালে যে শিক্ষক ননট্রেন্ড হিসেবে যোগদান করেছিলেন তার বেতনও এদের সমান।
2010 ও 2011 সালে ট্রেন্ড বা ননট্রেন্ড হিসেবে নিযুক্ত সেই সালের সকল যোগদানকারী শিক্ষকের বেতন সমান।
HRA সাধারণত প্রতি বছর বাড়ে, এবার HRA 15% থেকে কমিয়ে 12% করা হল। DA বিহীন বেতন তো ভারতের ইতিহাসে প্রথম। এছাড়াও রয়েছে শিক্ষকদের প্রশিক্ষনগত নানা সমস্যা। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা বলছে উচ্চমাধ্যমিক এ 50 শতাংশ নম্বর না থাকলেও যাদের গ্র্যাজুয়েশন আছে তাদের আর আপগ্রেডেশন এর প্রয়োজন নেই। অথচ NIOS তা মানতে নারাজ। ফলত, NIOS থেকে ট্রেনিং করেও অনেক শিক্ষক সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না। আবার ট্রেনিং এর পরীক্ষা দিয়েও অনেক শিক্ষককে এখনও এবসেন্ট দেখানো হচ্ছে NIOS এ। ফলে আবার তাদের পরীক্ষায় বসতে হয়েছে। অর্থাৎ প্রচুর প্রতিশ্রুতি, নানান অর্ডার এর পরেও রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের বঞ্চনা ও প্রবঞ্চনা যে কার্যত একই রয়েছে তা বলাই বাহুল্য। তাই আবার আগামী 11ই ফেব্রুয়ারি, 2020 এক অভিনব প্রতিবাদ আন্দোলন নিয়ে রাজপথে নামতে চলেছে উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারী টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন। ওইদিন সকাল 11টায় সল্টলেক করুনাময়ী বাস স্ট্যান্ড থেকে এক বিশাল শিক্ষক মিছিল রওনা দেবে বিকাশ ভবনের উদ্দেশ্যে। তারপর অবস্থান বিক্ষোভ চলবে যতক্ষণ না শিক্ষামন্ত্রী তাদের ডেপুটেশন গ্রহণ করে বঞ্চনা নিরসনের সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন। আবার ওই একই সময়কালে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশন, BGTA ও বৃহত্তর OBR এর টানা কর্মসূচিও রয়েছে সেখানে। তাই আন্দোলনের পারা যে চরমে উঠবে বলার আর অপেক্ষা রাখে না।
2010 ও 2011 সালে ট্রেন্ড বা ননট্রেন্ড হিসেবে নিযুক্ত সেই সালের সকল যোগদানকারী শিক্ষকের বেতন সমান।
HRA সাধারণত প্রতি বছর বাড়ে, এবার HRA 15% থেকে কমিয়ে 12% করা হল। DA বিহীন বেতন তো ভারতের ইতিহাসে প্রথম। এছাড়াও রয়েছে শিক্ষকদের প্রশিক্ষনগত নানা সমস্যা। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা বলছে উচ্চমাধ্যমিক এ 50 শতাংশ নম্বর না থাকলেও যাদের গ্র্যাজুয়েশন আছে তাদের আর আপগ্রেডেশন এর প্রয়োজন নেই। অথচ NIOS তা মানতে নারাজ। ফলত, NIOS থেকে ট্রেনিং করেও অনেক শিক্ষক সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না। আবার ট্রেনিং এর পরীক্ষা দিয়েও অনেক শিক্ষককে এখনও এবসেন্ট দেখানো হচ্ছে NIOS এ। ফলে আবার তাদের পরীক্ষায় বসতে হয়েছে। অর্থাৎ প্রচুর প্রতিশ্রুতি, নানান অর্ডার এর পরেও রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের বঞ্চনা ও প্রবঞ্চনা যে কার্যত একই রয়েছে তা বলাই বাহুল্য। তাই আবার আগামী 11ই ফেব্রুয়ারি, 2020 এক অভিনব প্রতিবাদ আন্দোলন নিয়ে রাজপথে নামতে চলেছে উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারী টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন। ওইদিন সকাল 11টায় সল্টলেক করুনাময়ী বাস স্ট্যান্ড থেকে এক বিশাল শিক্ষক মিছিল রওনা দেবে বিকাশ ভবনের উদ্দেশ্যে। তারপর অবস্থান বিক্ষোভ চলবে যতক্ষণ না শিক্ষামন্ত্রী তাদের ডেপুটেশন গ্রহণ করে বঞ্চনা নিরসনের সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন। আবার ওই একই সময়কালে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশন, BGTA ও বৃহত্তর OBR এর টানা কর্মসূচিও রয়েছে সেখানে। তাই আন্দোলনের পারা যে চরমে উঠবে বলার আর অপেক্ষা রাখে না।

No comments