মন্ত্রী মুকুল? পেছনে কতটা সুক্ষ রাজনীতি? সাপ মরবে, ভাঙবে না লাঠি! #Editorial
অর্ক সানা, সম্পাদক(নজরবন্দি): মন্ত্রী হচ্ছেন? মুকুল শিবিরে স্বস্তির হাওয়া না অস্বস্তির! ২০১৭ সালে বিজেপি যোগদানের পর গেরুয়া পালে হাওয়া লেগেছিল, বহু মানুষ মুকুল রায়ের আবহে বিজেপি-তে যোগদান করেছেন। দলীয় আদর্শের থেকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক উর্দ্ধে স্থান পায় ক্ষমতার স্বাদ। আর সেই লালসার অস্ত্রেই মুকুল রায় জখম করছেন তাঁর প্রাক্তন দলকে। তবে ব্যাপারটা কি খুব সহজ ছিল? সহজ উত্তর 'না'। কারন মুকুল রায় জখন তৃণমূলের হয়ে অন্য দলের ঘর ভাঙাতেন তখন তাঁর হাতে শাসকের ক্ষমতা ছিল, যার ফলে আদর্শচ্যুত ক্ষমতালোভিদের ক্রিড়নক করে শাসক দলে নিয়ে আসার কাজটা ছিল অনেক সহজ।
কিন্তু শাসক দল থেকে বিরোধীদলে যোগদান করানোর জন্যে যথেষ্ট রাজনৈতিক পরিপক্কতা দরকার হয়। অন্যকোন থেকে দেখলে, যে সমস্ত শাসক দলের সাংসদ বিধায়করা বিজেপি যোগদান করছেন তাঁরা কমবেশি মার্কেট স্টাডি নিশ্চিত ভাবেই করেছেন না হলে শাসক দল ছেড়ে মার খেতে বিরোধী দলে কেন? অনুপম হাজরা বা সৌমিত্র খানের কথাই ধরা যাক, নিজের নিজের এলাকায় এদের এমন দাপট নেই যে পুরনো আসনে জোড়া ফুলের বদলে পদ্ম চিহ্নে দাঁড়ালে আবার জিতবেন। তাহলে এরা তৃণমূল ছাড়বেন কেন? ক্ষমতা ছাড়বেন কেন? শুধুমাত্র টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কায়? নাকি অদূর ভবিষ্যতে নিজেদের মধুর ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছেন বলে! অর্জুন সিং, কিছুদিন আগেও যে ভাষায় বিজেপিকে গালাগাল দিচ্ছিলেন তা মোটেই শ্রুতিমধুর নয়। যে মুকুল রায় কে আক্রমন করছিলেন কদর্য ভাবে সেই অর্জুন সিং আজ মুকুলের হাত ধরে বিজেপি নেতা। জামা বদলে গেছে, বদলে গেছে পরিচয়। কারন কি?
মনে রাখতে হবে কোন দলের হাতে ক্ষমতা আসতে গেলে লাগে জন সমর্থন, পশ্চিমবঙ্গে সরপঞ্জ না থাকলেও এলাকার দাদা বাম-তৃনমূল সব আমলেই দেখা যায়। দাদারা জামা বদলে ফেললেই ক্ষমতার হস্তান্তর। নতুন ভোটার গজিয়ে ক্ষমতাসীন দলকে হারানো যায়না, বরং পুরোনো ভোটাররা মন পরিবর্তন করলেই ক্ষমতার পরিবর্তন হয়। একটু অতীতে ফেরা যাক, ২০০৮ সাল। বাম জমানার পতনের শুরু, আর জামা বদলের শুরু সেখান থেকেই। হাতে নাতে ফল ২০০৯ লোকসভা নির্বাচনে।
ইঙ্গিত পাওয়া গেল ২০১১য় বাম দুর্গ পতনের। বাকিটা ইতিহাস, সবাই জানেন। যে দলকে পশ্চিমবঙ্গবাসী একবার ক্ষমতাচ্যুত করেছে তাঁরা আর মসনদে ফেরেনি বলছে ইতিহাস। কংগ্রেস তাঁর সব থেকে বড় প্রমাণ। কংগ্রেস নেতা নেত্রীরাই জামা বদলে তৃণমূল হয়ে এখন ক্ষমতায়, মানুষ না বদলালেও বদলেছিল সিম্বল। জনগন কিন্তু লালদূর্গ ধ্বংস করতে হাত ছেড়ে হাত ধরেছিল ঘাসফুলের। সেই সন্ধিক্ষন সম্ভবত আবার উপস্থিত, জামা বদল পক্ষান্তরে ক্ষমতা বদলেরই ইঙ্গিত নয় কি?
তাই ২০০৯ সম্ভবত ফিরেছে ২০১৯ এ বিজেপি ২ থেকে একলাফে ১৮! আর ভোট শেয়ারে তৃনমূলের প্রায় কাছাকাছি! যদিও লোকসভার পর হওয়া রাজ্যের ৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জিতেছে তৃনমূল! কিন্তু উপনির্বাচন আর সরাসরি বিধানসভা ভোট এক নয়। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলকে তাড়া করছে ২০১১ সালের ইতিহাস এ নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। কিন্তু বিজেপি কি পারবে তৃণমূল কে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাজ্যে পালাবদল ঘটাতে? উত্তর মিলবে ১ বছর পরে। আপাতত বঙ্গ বিজেপি-ই হয়ে দাঁড়িয়েছে বঙ্গ বিজেপির সবথেকে বড় শত্রু!
কেউ মানুন না মানুন বঙ্গ বিজেপি মোটামুটি দুটি 'লবি' তে অদৃশ্য ভাবে বিভক্ত! এক মুকুল রায় অন্যজন দিলীপ ঘোষ। তবে মাঝে মধ্যেই অদৃশ্য বিভাজন দৃষ্টিপাতে চলে আসে। বিজেপির মধ্যে এই অদৃশ্য দুটি লবির সমর্থকই চান তাদের নেতা হোক পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী যদি বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসে!
এবার আসা যাক মূল প্রসঙ্গে, বিজেপি সূত্রে খবর মুকুল রায় কে রাজ্যসভায় নিয়ে গিয়ে দেওয়া হতে পারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় যায়গা! মুকুল অনুগামীরা ব্যাপারটাতে আপ্লুত হলেও একটু গভীরে ভাবলে খানিক সুক্ষ রাজনৈতিক চালের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
লোকসভা নির্বাচন ২০১৯, বিজেপি-র হয়ে নিজে ভোটে না দাঁড়িয়ে কিং মেকারের কাজ করলেন মুকুল রায়। বোঝালেন তিনি কেন বঙ্গ রাজনীতির চানক্য! অন্যদিকে দিলীপ ঘোষ ভোটে লড়লেন, জিতলেন! অর্থাৎ সাংসদ হলেন! ব্যাপারটা কি খুব সহজ সরল? মোটেই না। দিলীপ সাংসদ হওয়া মানে, রাজ্যের মুখ হওয়ার লড়াই থেকে সামান্য হলেও সরে যাওয়া! বলা ভাল মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড় থেকেও। কাজেই মুকুল রায়ের সামনে ফাঁকা মাঠ, গোল দেওয়ার সূবর্ণ সুযোগ। কিন্তু তখনই সামান্য ভুলে ঘটল মনিরুল কাণ্ড। আরএসএসের চোখে কিছুটা প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড় মুকুল রায়ের সিদ্ধান্ত! তারপর থেকেই বঙ্গ বিজেপির মুখ হয়ে উঠতে থাকা মুকুল রায় কিছুটা থমকে গেছেন। এদিকে দিলীপ ঘোষ ছিলেন লোকসভা ভোটে বঙ্গ বিজেপির ক্যাপ্টেন তাই যিনিই খেলুন ট্রফি উঠেছে তাঁর হাতেই! বঙ্গ বিজেপির কাণ্ডারি এখনও তিনি! দিলীপের প্লাস পয়েন্ট তাঁর আরএসএস ব্যাকগ্রাউণ্ড।
তা স্বত্বেও মুকুল রায়ের মত যোগ্য রাজনীতিক কে সরাসরি সাইডলাইন করে মুখ্যমন্ত্রীত্বের দৌড়ে দিলীপের এগোনো কঠিন, যদিও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর এমন কথা অন্দরে বা বাইরে কখনও বলেননি মুকুল রায়। তবুও তিনি মুকুল রায়, যিনি মমতা কে বেগ দিতে পারেন! ৩৪ বছরের বাম শাসনের পতন ঘটাতে পারেন মমতা বন্দোপাধ্যায়কেই সামনে রেখে তিনি তো বড় বাধা অবশ্যই!
তাই অনুগামী বা সমর্থকদের না চটিয়ে মুকুল রায়কে যদি সাইড লাইনে ফেলে দেওয়া যায় তাহলে সাপ মরে লাঠিও ভাঙে না! মুকুল রায় কে রাজ্যসভায় জিতিয়ে যদি কেন্দ্রের মন্ত্রীসভার অংশ করে নেওয়া হয়? রাজনীতি...... ভাবুন ভাবা প্র্যাক্টিশ করুন।
তবে অনেকে বলতেই পারেন বিজেপি ক্ষমতায় এমন কথা ভাবছি আমি মানে গাছে না উঠতেই এক কাঁদি! তাদের আমার প্রশ্ন জনসমর্থনের ভিত্তিতে তৃণমূলের সাথে টক্কর দেওয়ার মত দল এই মূহুর্তে রাজ্যে বিজেপি ছাড়া কে আছে?
কিন্তু শাসক দল থেকে বিরোধীদলে যোগদান করানোর জন্যে যথেষ্ট রাজনৈতিক পরিপক্কতা দরকার হয়। অন্যকোন থেকে দেখলে, যে সমস্ত শাসক দলের সাংসদ বিধায়করা বিজেপি যোগদান করছেন তাঁরা কমবেশি মার্কেট স্টাডি নিশ্চিত ভাবেই করেছেন না হলে শাসক দল ছেড়ে মার খেতে বিরোধী দলে কেন? অনুপম হাজরা বা সৌমিত্র খানের কথাই ধরা যাক, নিজের নিজের এলাকায় এদের এমন দাপট নেই যে পুরনো আসনে জোড়া ফুলের বদলে পদ্ম চিহ্নে দাঁড়ালে আবার জিতবেন। তাহলে এরা তৃণমূল ছাড়বেন কেন? ক্ষমতা ছাড়বেন কেন? শুধুমাত্র টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কায়? নাকি অদূর ভবিষ্যতে নিজেদের মধুর ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছেন বলে! অর্জুন সিং, কিছুদিন আগেও যে ভাষায় বিজেপিকে গালাগাল দিচ্ছিলেন তা মোটেই শ্রুতিমধুর নয়। যে মুকুল রায় কে আক্রমন করছিলেন কদর্য ভাবে সেই অর্জুন সিং আজ মুকুলের হাত ধরে বিজেপি নেতা। জামা বদলে গেছে, বদলে গেছে পরিচয়। কারন কি?
তাই ২০০৯ সম্ভবত ফিরেছে ২০১৯ এ বিজেপি ২ থেকে একলাফে ১৮! আর ভোট শেয়ারে তৃনমূলের প্রায় কাছাকাছি! যদিও লোকসভার পর হওয়া রাজ্যের ৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জিতেছে তৃনমূল! কিন্তু উপনির্বাচন আর সরাসরি বিধানসভা ভোট এক নয়। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলকে তাড়া করছে ২০১১ সালের ইতিহাস এ নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। কিন্তু বিজেপি কি পারবে তৃণমূল কে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাজ্যে পালাবদল ঘটাতে? উত্তর মিলবে ১ বছর পরে। আপাতত বঙ্গ বিজেপি-ই হয়ে দাঁড়িয়েছে বঙ্গ বিজেপির সবথেকে বড় শত্রু!
কেউ মানুন না মানুন বঙ্গ বিজেপি মোটামুটি দুটি 'লবি' তে অদৃশ্য ভাবে বিভক্ত! এক মুকুল রায় অন্যজন দিলীপ ঘোষ। তবে মাঝে মধ্যেই অদৃশ্য বিভাজন দৃষ্টিপাতে চলে আসে। বিজেপির মধ্যে এই অদৃশ্য দুটি লবির সমর্থকই চান তাদের নেতা হোক পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী যদি বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসে!
লোকসভা নির্বাচন ২০১৯, বিজেপি-র হয়ে নিজে ভোটে না দাঁড়িয়ে কিং মেকারের কাজ করলেন মুকুল রায়। বোঝালেন তিনি কেন বঙ্গ রাজনীতির চানক্য! অন্যদিকে দিলীপ ঘোষ ভোটে লড়লেন, জিতলেন! অর্থাৎ সাংসদ হলেন! ব্যাপারটা কি খুব সহজ সরল? মোটেই না। দিলীপ সাংসদ হওয়া মানে, রাজ্যের মুখ হওয়ার লড়াই থেকে সামান্য হলেও সরে যাওয়া! বলা ভাল মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড় থেকেও। কাজেই মুকুল রায়ের সামনে ফাঁকা মাঠ, গোল দেওয়ার সূবর্ণ সুযোগ। কিন্তু তখনই সামান্য ভুলে ঘটল মনিরুল কাণ্ড। আরএসএসের চোখে কিছুটা প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড় মুকুল রায়ের সিদ্ধান্ত! তারপর থেকেই বঙ্গ বিজেপির মুখ হয়ে উঠতে থাকা মুকুল রায় কিছুটা থমকে গেছেন। এদিকে দিলীপ ঘোষ ছিলেন লোকসভা ভোটে বঙ্গ বিজেপির ক্যাপ্টেন তাই যিনিই খেলুন ট্রফি উঠেছে তাঁর হাতেই! বঙ্গ বিজেপির কাণ্ডারি এখনও তিনি! দিলীপের প্লাস পয়েন্ট তাঁর আরএসএস ব্যাকগ্রাউণ্ড।
তাই অনুগামী বা সমর্থকদের না চটিয়ে মুকুল রায়কে যদি সাইড লাইনে ফেলে দেওয়া যায় তাহলে সাপ মরে লাঠিও ভাঙে না! মুকুল রায় কে রাজ্যসভায় জিতিয়ে যদি কেন্দ্রের মন্ত্রীসভার অংশ করে নেওয়া হয়? রাজনীতি...... ভাবুন ভাবা প্র্যাক্টিশ করুন।
তবে অনেকে বলতেই পারেন বিজেপি ক্ষমতায় এমন কথা ভাবছি আমি মানে গাছে না উঠতেই এক কাঁদি! তাদের আমার প্রশ্ন জনসমর্থনের ভিত্তিতে তৃণমূলের সাথে টক্কর দেওয়ার মত দল এই মূহুর্তে রাজ্যে বিজেপি ছাড়া কে আছে?

No comments