রামদেবের 'সন্ত সমাগম' থেকে দাবি উঠল গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করার!
নজরবন্দি ব্যুরোঃ মঙ্গলবার রামদেব আয়োজিত 'সন্ত সমাগম' থেকে দাবি তোলা হলো গরুকে জাতীয় পশু আর বাঘকে জাতীয় প্রতীক করার। এই 'সন্ত সমাগম'-এ কর্ণাটকের উদুপির পেজাওয়ার মঠের প্রধান বিশ্বেসাতীর্থ স্বামী এই দাবি তোলেন। এর সাথে, গরুর কসাইখানা পুরোপুরি বন্ধ করা,গঙ্গা নদীর শুদ্ধিকরণে প্রয়োজন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ আইন চালু করার দাবিও জানান তিনি কেন্দ্রের কাছে। এই সমাগমে উপস্থিত হয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধু-সন্তরা।
সকলের সামনে বক্তব্য রাখার সময় এই দাবি গুলো সকলের সামনে রাখেন ধর্মগুরু বিশ্বেসাতীর্থ স্বামী। তার ধারণা, ' বাঘকে জাতীয় পশু ঘোষণা করার কারণেই দেশে সন্ত্রাসবাদ বেড়ে গেছে।গরুকে হল ভারতীয় নাগরিকের মা বলা হয়। তাই, বাঘের বদলে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা হলে দেশে শান্তি আসবে। কারণ গরু কে জাতীয় পশু ঘোষণা করা হলে দেশে আর কোনও সন্ত্রাসবাদীর জন্ম হবে না।’
বাঘ আমাদের জাতীয় পশু। দেশবাসীরা শুরু থেকে বাঘকেই জাতীয় পশু হিসাবে মেনে আসছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাঘ জাতীয় পশু হওয়ার কারণেই যদি দেশে সন্ত্রাসবাদের বাড়বাড়ন্ত হয়ে থাকে তাহলে এই ভাবনা এতো দিন মাথায় আসেনি কেন? এই দাবিকে কি শুধু একজন ধর্মগুরুর দাবি? নাকি, এই দাবির কোন রাজনৈতিক দিক আছে? গরুকে জাতীয় পশু হিসাবে ঘোষনা করাটাই কি একমাত্র উপায় দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ কমানোর?
বিশ্বেসাতীর্থ স্বামী গঙ্গা নদীর শুদ্ধিকরণে আরও গুরুত্ব আরোপ করার কথা উল্লেখ করেন সকলের সামনে । এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একসময় গঙ্গা আমাদের পবিত্র করত। দুর্ভাগ্যের বিষয় তাকে আমরা এতটাই দূষিত করেছি যে আজকে সেই গঙ্গাকেই শুদ্ধ করতে হচ্ছে'। তিনি আরও বলেন যে, ভারতীয় সংস্কৃতি মেনে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে গেলে দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা উচিৎ। একমাত্র আলোচনার মধ্যে দিয়ে অভিন্ন দেওয়ান বিধি চালু করার বিষয়ে ঐক্যমত হলেই সবার মঙ্গল হবে, এর জন্য মুসলিম, ক্রিশ্চান, শিখ ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুদের সঙ্গে সাধু-সন্তদের আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবারের সন্ত সমাগম সভাতে ধর্মগুরু বিশ্বেসাতীর্থ স্বামী তার ইচ্ছা প্রকাশ করে জানান ‘মৃত্যুর আগে অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি হওয়া দেখে যেতে চাই। দেশও রাম রাজ্যে পরিণত হোক।

No comments