Header Ads

পুলিশ গাড়ি ধরছে রাস্তায়? ভয় পাবেন না; কি করবেন জেনে নিন। #SpecialArticle

পিউ দে, নজরবন্দিঃ নতুন ট্রাফিক আইনে কোন অপরাধে কি শাস্তি ? একনজরে জেনে নিন। রাস্তায় ট্রাফিক পুলিস আটকালে কি কি করণীয় ও আপনার অধিকার : পুলিসের চাপে পড়ে অন্যায় কাজ করবেন না, ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা কখনও নয়। দুচাকা বা চারচাকা গাড়ি থাকলে সবাই এই অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন ,পুলিস দাঁড় করিয়েছে! ঘাবড়ানোর কিছু নেই,আপনারও কিছু অধিকার আছে সেগুলি জেনে রাখা ভালো।
১) যদি ট্রাফিক পুলিস থামায় তবে গাড়ি বন্ধ করে আপনার বাহন সম্পর্কিত তথ্য পুলিসের কাছে পেশ করুন। মনে রাখা দরকার, শুধুমাত্র ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখানোই যথেষ্ট। পুলিসের কাছে সেটা হস্তান্তর করবেন কিনা সেটা নিতান্তই আপনার ইচ্ছা,মোটর ভেহিকেল অ্যাক্টের ১৩০ ধারা অনুযায়ী ‘প্রডিউস’ করতে অর্থাৎ দেখালেই হবে। দিতে হবে না। ২)পুলিসের সঙ্গে কখনও বাদানুবাদে জড়াবেন না। কিছু ভুল করে ফেললে সেটি জানান, পুলিস আপনাকে যেতে দেবে।
৩)পুলিস খালি হাতে কিছু দাবি করতে পারে না। নিদেনপক্ষে চালান বই কিংবা ই-চালান মেশিন থাকতে হবে।
৪) লালবাতি দেখেও না থামা, বহুল জায়গায় পার্কিং, হেলমেট ছাড়া চালানো, গতিবেগ বেশী, গাড়ি চালানোর সময় ধূমপান, নাম্বার প্লেটে গোলমাল, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গাড়ি রাস্তায় নামানো, বীমার বৈধকাগজ, দূষণের যথাযথ কাগপত্র, এই কয়েকটি জিনিস না থাকলে ট্রাফিক পুলিস জরিমানা করতে পারে।
৫) ট্রাফিক পুলিসকে বহুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না। ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা কখনও নয়। ট্রাফিক পুলিসের পোশাকে কোনও ব্যাজ দেখতে না পেলে পরিচয় পত্র দেখতে চান। পরিচয় পত্র না দেখালে তাঁকে গাড়ির কাগজপত্র দেবেন না। ৬) জরিমানার টাকা দেবেন সাব ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কোনও পুলিস অফিসারকে।
৭) লাইসেন্স বা পারমিট না থাকলে পুলিস দুচাকা বা চারচাকা গাড়ি আটক করতে পারে। রেজিস্ট্রেশন না থাকলেও আটক করতে পারে।
৮) বৈধ রসিদ ছাড়া, ট্রাফিক পুলিস কারও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে পারে না। লালাবাতিতে না থামা, ওভারলোডিং, মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বললে পুলিস ড্রাইভিং লাইসেন্স আটক করতে পারে।
 ৯) ট্র্যাফিক পুলিশ কর্তৃক অপরাধের জন্য আটক করা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারকের কাছে হাজির করতে হবে। ১০) ট্রাফিক পুলিস হয়রানি করলে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে পুলিসে অভিযোগ জানাতে পারেন। পথ সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্র একটি নতুন বিল এনেছে। এই বিলে ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করলে বিপুল অঙ্কের জরিমানার উল্লেখ রয়েছে। নতুন বিলে পথ সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে নাবালকদের গাড়ি চালালে, লাইসেন্স ছাড়া ড্রাইভিং, বিপজ্জনক ভাবে গাড়ি চালালে, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালালে, নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি বেগে গাড়ি চালালে এবং নির্ধারিত মাত্রার চাইতে বেশি পরিমাণ পণ্য বহনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিলে জরিমানা এবার বাড়ানো হয়েছে পাঁচ গুণ।নতুন এই সংশোধনীর ফলে আগের তুলনায় কয়েকগুন কড়া হতে চলেছে ট্র্যাফিক আইন। শুধু কড়া আইন নয়, পাশাপাশি আইন ভাঙলে জরিমানার পরিমাণও বাড়বে কয়েকগুণ।
নতুন আইনে জরিমানার পরিমাণ ৫০০ থেকে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। পুলিশকে তথ্য দিতে অস্বীকার করলে ২০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। কোনও নাবালক গাড়ি চালালে ১০,০০০ টাকা জরিমানা ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চালালে ১ বছর পর্যন্ত জেল অথবা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা। অতিরিক্ত স্পীডে গাড়ি চালালে হালকা গাড়ির জন্য ১০০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। মাঝারি যাত্রীবাহী গাড়ি বা মালবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা। দ্বিতীয়বার অপরাধে লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হবে।মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালালে– প্রথম অপরাধে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা ৬ মাস পর্যন্ত জেল, দ্বিতীয় অপরাধে ৩০০০ টাকা জরিমানা অথবা ২ বছর পর্যন্ত জেল। শারীরিক / মানসিক ভাবে সুস্থ্য না হওয়া সত্ত্বেও গাড়ি চালালে– প্রথম অপরাধে ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, দ্বিতীয় অপরাধে ২০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। দুর্ঘটনার শাস্তি (ধারা ১৩২ (১), ১৩৩, ১৩৪) অপরাধে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা ৬ মাস পর্যন্ত হতে পারে জেল।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.