Header Ads

রাজপথে বেহালা বাজান 'ভগবান'! #SpecialArticle

মৌনী মণ্ডল, নজরবন্দিঃ আমি যামিনী তুমি শশী হে..... আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা... দিওয়ানা হুয়া বাদল.... ৬', ৭' অথবা ৮'এর দশক, হিন্দি অথবা বাংলা, তিনি যেকোনও গানেই স্বচ্ছন্দে সুর তোলেন তাঁর একমাত্র সঙ্গী- রঙ চটা, পোড় খাওয়া আদ্দিকালের বেহালায়। প্রায় প্রতিদিনই এই সঙ্গীকে নিয়েই তিনি বেরিয়ে পড়েন শহরের পথে পথে। চাল নেই চুলো নেই, সংসার নেই, কোথাও পৌঁছে যাওয়ার তাড়া নেই, দিনগুজরানের চিন্তা নেই। শুধু আছে নিত্য দিন শহরবাসীকে নিজের বাজনা শোনাবার অদম্য তাগিদ। নিজের নাম বলার সময় একটু মেজাজ নিয়েই বলেন- 'ভগবান দাস'।
যাঁরা কাজে অথবা অ-কাজে নিত্যদিন শহরে এদিক-ওদিক করে বেড়ান, তাঁরা দেখে থাকলেও থাকতে পারেন এই ‘ভগবান’ কে। কোনও দিন একেবারে সক্কাল-সক্কাল, কোনও দিন গড়িমসি করে দুপুর কিংবা বিকেল গড়িয়ে সন্ধে। যাই ঘটে যাক না কেন সফর সঙ্গীকে নিয়ে বেরিয়ে পড়া চাইই চাই। বইপাড়া, চায়ের ঠেক অথবা যেকোনও ভিড়বহুল রাস্তায় হঠাৎ করেই বেজে ওঠে তাঁর বেহালা। গমগমে সুরে কেউ কেউ থমকে দাঁড়িয়ে শোনেন, কেউ কেউ আবার গুনগুন করতে করতে বেরিয়ে পড়েন নিজের কাজে, কেউ কেউ খুশী হয়ে ভগবানের হাতে তুলে দেন খুচরো দক্ষিনা, কারো কারো খুশীর মাত্রা এত বেড়ে যায় যে তাঁরা ভগবানকে ডেকে নেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। এমনকি মাঝে মধ্যে শহরের বাইরেও আমন্ত্রণ রক্ষার্থে যেতে হয় তাঁকে। এই নিয়েই কেটে যায় ভগবানের জীবন। থাকেন গিরীশ পার্ক এলাকায়। নিজেই জানিয়ে দিলেন, "ঐ অঞ্চলে গিয়ে ভগবানের নাম করলেই যে কেউ দেখিয়ে দেবে।" জন্মসূত্রে গুজরাটি হলেও, ছোটবেলা থেকেই কলকাতাবাসী এই ভগবান। কোথায় শিখলে এ বাদ্যি?
"আজ্ঞে বাবার কাছেই শেখা, বাবা শিখেছিলেন কোনও এক সাহেবের কাছে।বাবাও এরকমভাবে রাস্তায় ঘুরেঘুরে বাজাতেন,আমিও তাই করি।আমার দোস্ত (তাঁর পুরনো বেহালা)-এর সঙ্গেই সারাদিন এভাবে কাটিয়ে দিই আমি।যে যা দেন তাতে আমার চলে যায়, ওর (তাঁরপুরনোবেহালা)পেটও নেই, খিদেও নেই, আর তাই আমার কোনও ভাবনাও নেই।" ক্লাসিক্যাল, ওয়েস্টার্ণ বাজাও? - "(খানিক হতভম্ব হয়ে) শুধু পুরানা গানই আমার ভালোলাগে, ছোটবেলা থেকে তাইই বাজাচ্ছি।"
সেদিন সন্ধে ঘনিয়ে এসেছিল, হঠাৎ করেই বেহালায় টান দিলেন তিনি, ততক্ষণে তাঁকে ঘিরে জটলা করেছে কৌতুহলী কিছু কান, যখন যখন তিনি সুর ধরছিলেন ভিড় থেকে ভেসে আসছিল, 'আরে আমি তো ভাবলাম বেটোফেন!', 'রাস্তায় ভায়োলিন! এসব তো বিদেশে হয়'...... কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সেই ভিড় সরতে শুরু করল, কানাঘুষোতে বোঝা গেল প্রচুর মশার উপদ্রবে দু'দণ্ড স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারছেন না কেউই। বুঝলাম আজ ভগবানের দক্ষিণার ভাঁড়ার শূন্য। তবে এও দেখলাম- কোনও ভ্রূক্ষেপ না করে একটানা মশার উপদ্রব সহ্য করতে করতেই পুরনো বেহালায় 'পুরানা গান' বাজিয়ে চলেছেন ভগবান। ৬', ৭' অথবা ৮'এর দশক, হিন্দি অথবা বাংলা, তাঁর সুরে কোনও ভুল ছিলনা।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.