Header Ads

ধীরেন লেটকে কান ধরে সিপিএম না করার মুচলেকা দিতে বাধ্য করা তৃণমূলের পাশে সিপিএম? অসম্ভব। #SpecialArticle

নজরবন্দি ব্যুরোঃ স্মৃতির টাইমলাইন ধরে একটু পিছিয়ে চলুন,বেশীদিন আগের কথা নয় মাত্র ২০১৫সাল,নভেম্বর মাস বাতাসে হিমের পরশ৷কিন্তু বাংলার রাজনৈতিক আকাশে তখন তৃণমূলের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের বিভীষিকাময় ছবি সারা রাজ্যের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়েছিল৷মানুষ বলেছিল সত্যিই কি তৃণমূল গণতন্ত্রে বিশ্বাস কর?সিপিএমের জাঠায় অর্থাৎ মিছিলে যারা পা মিলিয়ে ছিলেন সারা রাজ্যেই তাদের কেউ লুকিয়েছিলেন, কেউ কান ধরে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন 'আমি আর সিপিএম করব না৷’ কাউকে মেরে অজ্ঞান করে রাস্তার ধারে ফেলে দেওয়া হয়েছিল৷প্রানের ভয়ে ধানের গাদায় লুকিয়ে পড়তে হয়েছিল সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যকেও৷হ্যাঁ সেদিন কান ধরতে বাধ্য করা হয়েছিল ধীরেন লেটকে৷ তিনি ছিলেন বীরভূম জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি৷ আরও অনেককে অনেক রকমভাবে হেনস্থা হতে হয়েছিল৷তাদের একটাই অপরাধ ছিল মিছিলে (জাঠা) পা মিলিয়েছেন৷লাল পতাকাকে হয়ত প্রাণের থেকে ভালবাসেন,তাই তৃণমূলের সন্ত্রাস,হুমকি উপেক্ষা করে সিপিএমের মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন৷তৃণমূলের সেই হুমকি উপেক্ষা করার ফল তারা পেয়েছিলেন হাতে-হাতে৷ তাই ‘উচিত শিক্ষা’ দিয়েছিলেন নাকি তৃণমূল-কর্মীরা৷ পুলিশ সেদিন সব দেখেছিল৷কিন্তু কিছুই করেনি৷ না কিছুই না৷পিংলায় তৃণমূলের মারে পা ভেঙেছিল প্রবীণ নেতা সিপিএম নেতার৷ নারায়ণগড়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র৷ হামলা হয়েছিল বীরভূমে, পশ্চিম মেদিনীপুরের, দাসপুর ও ঝাড়গ্রাম সহ রাজ্যের অনেক জায়গায়৷ বয়স্ক মানুষগুলিকে নির্মম ভাবে মেরেছিল, রাস্তায় ওঁরা পড়েছিলেন রক্তের উপর৷ তোলার কেউ ছিল না৷ পুলিশও উদ্ধারের চেষ্টা করেনি৷গ্রামের মানুষ আর সাহসী বাম কর্মী-সমর্থকরা আক্রান্তদের তুলে এনে রক্ত মুছিয়ে মাথায় জল ঢেলেছিলেন, পরে তাঁরাই ওদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন৷ তৃণমূলের জেলা থেকে শীর্ষস্তরের নেতারা অবশ্য সেদিন বলেছিলেন,না-না ‘কোনও ঘটনাই হয়নি৷ খবরের কাগজে নাম তোলার জন্য সিপিএম নাটক করছে৷ তৃণমূলের কেউ নাকি সেইসব ঘটনায় জড়িত নয়৷তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও আক্রান্তরা বাম নেতা,কর্মীরা সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূলের দিকে৷তাদের বক্তব্য খুব স্পষ্ট ছিল যারা সেদিন হাড় হিম করা সন্ত্রাস চালিয়েছিলেন শুধু মাত্র সিপিএমের মিছিলে হাঁটার অপরাধে৷তারা সবাই তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত৷ ময়ূরেশ্বরে সেদিন মারমুখী মেজাজেই ছিলেন তৃণমূল-কর্মীরা৷ ঘটনার দিন বীরভূম জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি ধীরেন লেটকে তাড়া করে তৃণমূলেরই কর্মী,সমর্থকেরা৷ মারের চোটে তাঁর মাথা থেকে রক্ত ঝরছিল৷ তৃণমূলের কর্মীরা তাঁকে গালাগাল করে বলতে থাকে, বল, আর সিপিএম করব না৷ কান ধর৷দৌড়তে দৌড়তে হাতজোড় করে ধীরেন লেটকে কাকুতি মিনতি করে বলতে শোনা যায়, ‘আর মেরো না ভাই৷’ কে শোনে কার কথা৷ শেষে কান ধরে আর সিপিএম করবেন না বলে মৌখিক মুচলেকা দিতে বাধ্য হন বৃদ্ধ ধীরেন লেট৷সেই দিন এই ঘটনার কথা শুনে শিউরে উঠেছিলেন রাজ্যের সব গনতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন মানুষরা৷তৃণমূলের সেই বলগাহীন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন সারা রাজ্যের সব শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ৷হয়ত একজন বা দুজন ধীরেন লেটের কথা সংবাদ মাধ্যম তুলে আনতে পেরেছে৷অন্যদের খবর সংবাদ মাধ্যম হয়ত দিতে পারেনি৷কিন্তু সেইদিনই মানুষ প্রশ্ন তুলেছিলেন কোন রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী তৃণমূল?যারা একজন প্রবীন সিপিএম নেতাকে কান ধরে মুচলেকা দিতে বাধ্য করছেন আর সিপিএম করবেন না বলে!ক্ষমতার দম্ভ শাসক দলকে অন্ধ করে৷ন্যায়-অন্যায় সব কিছুর বোধ তখন তাদের হারিয়ে যায় জয়ের ঔদ্ধত্বে৷কারন তখন তৃণমূলে বসন্ত,মাত্র একবছর আগে লোকসভায় দল ৪২-এর মধ্যে ৩৪টি আসন জিতেছে৷স্বভাবত দলের জয়ে যেসব কর্মী-সমর্থকেদের অবদান,তাদের বিরুদ্ধে ওঠা কোনও অভিযোগ শুনতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব৷অথচ ১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের পর ৩৪থেকে কমে এখন তৃণমূল ২২৷প্রতিদিন যেন নিয়ম করে দল ছাড়ছেন বিধায়ক থেকে কাউন্সিলর৷কর্মী-সমর্থকেরাও দলের অবস্থা ভাল নয় বুঝে কেউ কেউ ইতিমধ্যে গেরুয়া শিবিরে ভিড়েছেন,কেউবা একেবারে নিষ্ত্রিয় হয়ে অন্য শিবিরকে বার্তা দিচ্ছেন তিনি এখন দলের সঙ্গে সংশ্রব রাখছেন না!
বিজেপির ১৮আসন জয়ের পরই রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছে তৃণমূল৷রাজ্যের মানুষ বুঝতে পারছেন একক শক্তিতে বিজেপির মোকাবিলা তাদের পক্ষে অসম্ভব৷দেওয়াল লিখনটা বুঝতে পারছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব৷তারাই এখন বার্তা দিচ্ছে বাম-কংগ্রেসকে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাশে চান৷যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব বলছে আসলে সংবাদমাধ্যম তাদের বক্তব্য বিকৃত করেছে৷কথার মারপ্যাঁচ না বুঝে এটুকু বলা যায় তৃণমূলের একসাথে লড়াইয়ের প্রস্তাব নাকচ বাম,কর্মী সমর্থক থেকে রাজ্যের সব শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের হৃদয়ে জিতেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীরা৷বাস্তব ঘটনা হল আদর্শগত ভাবে বিজেপির চরম শত্রু বামেরা হলেও তৃণমূল সমর্থক নন,সে তিনি বিজেপির সমর্থক হন বা সিপিএমের কিংবা কংগ্রেসের সবাই যেন তৃণমূলের এভাবে শক্তি কমায় খুশী৷যেভাবে তৃণমূলের ঘর নিয়ম করে ভাঙাচ্ছে বিজেপি,তার নৈতিকতা নিয়ে তৃণমূল সমর্থকরা প্রশ্ন তুললেও বাংলার অন্য রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা বলছেন কোথায় ছিল সেদিন নৈতিকতা যখন রাজ্যে পালাবদলের পর নিয়ম করে বিরোধীদের দখলে থাকা পঞ্চায়েত,জেলাপরিষদ থেকে পুরসভাগুলি বেআইনি ভাবে দখল করেছিল?বাম সমর্থকরা বলছেন এখন কেন দরকার সিপিএমকে যেদিন ধীরেন লেটকে কানধরে মুচলেকা দিতে হয়েছিল সিপিএম করবে না বলে,সেদিন কেন তৃণমূলের মনে হয়নি বিজেপিকে ঠেকাতে বামেদের দরকার?কংগ্রেস সমর্থকরা কটাক্ষ করে বলছেন প্রদেশ কংগ্রেস বাংলায় নাকি সাইনবোর্ড!তবে এখন কেন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাম-কংগ্রেসকে পাশে চায় তৃণমূল?মোদ্দা কথা হল রাজ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাম-কংগ্রেসের আসল লক্ষ হল, তৃণমূলের বিজেপি বিরোধীতার সামর্থ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অনেক মানুষ,সেই মানুষদের আস্থা অর্জন করে বিজেপি বিরোধীতায় তৃণমূলকে রাজনৈতিক ভাবে টেক্কা দিয়ে পুনরায় রাজ্য রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে আনা,তৃণমূলের কাছে হারানো নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক আবার উদ্ধার৷

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.