Header Ads

লুঠ, কাটমানি, তোলাবাজি! সত্যিই বন্ধ করার সদিচ্ছা তৃণমূলের নাকি আইওয়াশ?#SpecialArticle

নজরবন্দি ব্যুরোঃ শীর্ষ নেতৃত্বের মুখে,আত্মসমালোচনার অন্যতম বিষয়, সেকথা তারা স্বীকার করছেন প্রকাশ্যে৷কিন্তু এতদিন কেন তারা স্বীকার করেন নি,কেন কাটমানি খাওয়া জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদম্ত করে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেননি?কেন প্রান্তিক মানুষরা সরকারি প্রকল্পের ঘর সহ অন্যান্য সুবিধা পেতে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি থেকে নেতাদের কাটমানি দিয়েই তবে বিনিময়ে পেয়েছেন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা৷গরিব মানুষের ন্যায্য প্রাপ্য টাকার একটি অংশ শাসক দলের প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের দিয়েই তবেই ঘর সহ অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গরিব মানুষেরা পেয়েছেন৷ সমাজের প্রান্তিক,নিরূপায় সেই মানুষগুলি তখন মুখবুঝে সেই শর্ত মেনে নিলেও নিজের হকের টাকা শাসক দলের নেতা,জনপ্রতিনিধিকে ভাগ দিতে বাধ্য হওয়ায় তাদের রোষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে ইভিএমে প্রতিফলিত হয়েছে৷উচ্চ মাধ্যমিকে রেজাল্ট আউটের পর রাজ্যের মেধাবি অথচ দরিদ্র্য শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের চিন্তায় পড়া যেন একপ্রকার ভবিতব্য ছিল৷
সন্তানের ভাল রেজাল্টের আনন্দের তুলনায় তাদের দুশ্চিন্তা ছিল কিভাবে নিজের সন্তান পছন্দের বিষয়ে অনার্স পড়ার সুযোগ পাবে৷কারন ছাত্র সংসদের নামে শাসক দলের ছাত্র নেতারা প্রকাশ্যে বিভিন্ন কলেজে অনার্স পাইয়ে দেওয়ার নামে হাজার হাজার টাকা অভিভাবকদের থেকে অবৈধ ও অনৈতিক ভাবে নিয়েছেন৷চোখের জলে দরিদ্র্য মেধাবী সন্তানের অভিভাবকরা সন্তানের স্বার্থে নিজের জমি,গহনা বন্ধক রেখে সুদে টাকা জোগাড় করে তৃণমূলের ছাত্র নেতাদের হাতে টাকা তুলে দেওয়ার পর তবেই তাদের সন্তানরা কলেজে অনার্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন৷এসব খবর সংবাদ মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশিত হলেও শীর্ষ নেতৃত্ব কেন তাদের থামায় নি৷নাকি শীর্ষ নেতৃত্বের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছিল সারা বছর পার্টিটা করে,এখন ভর্তির সময়,ওরা বরং কিছু আয় করুক!রাজ্য জুড়ে রাস্তাঘাট থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছু উন্নয়ন হয়েছে৷যদিও এখন ঠিকাদাররাও অভিযোগ করছেন রাজ্যের বহু এলাকায় সরকারের বরাদ্দ করা অর্থের একটি অংশ শাসক দলের জনপ্রতিনিধি থেকে নেতাদের নিয়ম করে কাটমানি দিতে হয়েছে৷তারাই বলছেন কাজ পেতে তারা ও বাধ্য হয়েছেন শাসকের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কাটমানি দিতে৷না হলে কাজের গুনগত মান আরও ভাল হত!১০০দিনের কাজ নিয়ে প্রান্তিক মানুষের বিস্তর অভিযোগ আছে৷
১০০দিনের কাজ নিশ্চিতভাবে বহু প্রান্তিক মানুষকে কিছুটা রিলিফ দিলেও অনেকের অভিযোগ এখানেও বিস্তর দুর্নীতি আছে৷অনেকে বলেন যাদের জব কার্ড আছে,অথচ কাজ করেন না,এমন বহু কার্ডের সরকারি টাকা আত্মসাত করা হচ্ছে৷ বিরোধীরা পুলিশকে দলদাস বলে কটাক্ষ করলেও পুলিশের স্বাধীনভাবে কাজের ক্ষেত্রে শাসক দলের নানা নেতার অনভিপ্রেত প্রভাব খাটানোর চেষ্টা খোদ পুলিশ কর্মীদের বিরাট অংশ ভাল চোখে দেখেন নি সেকথা তারা তাদের একান্ত আলাপচারিতায় কাছের মানুষদের কাছে স্বীকার করেছেন৷ গ্রামগঞ্জ থেকে শহরেও মাত্র কয়েক বছরে শাসক দলের নেতা থেকে জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক অবস্থার মারাত্মক উন্নতি চোখ এড়ায়নি রাজ্যের সাধারন মানুষের৷অনেকেরই বক্তব্য এত দ্রুত তারা কিভাবে আঙুল ফুলে কলা গাছ হলেন? সত্যি কথা বলতে কি তৃণমূলের বিরুদ্ধে এই সব পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিন্দু থেকে সিন্ধুতে রূপান্তরিত হতে সময় লাগল মাত্র ৮ বছর৷হয়ত দুর্নীতি নিয়ে শাসকের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সত্য নয়,আবার হয়ত অনেকাংশে সত্যি৷ শাসক তৃণমূল কিন্তু বরাবর স্বচ্ছতার কথা বলেছে,যদি সত্যিই এই অভিযোগগুলি সঠিক হয়,তবে একথা বলতে হবে তৃণমূলকেও কেন শুদ্ধিকরণের জন্য এতদিন অপেক্ষা করতে হল?কেন কাটমানি খাওয়া জনপ্রতিনিধিদের হুঁশিয়ারি দিতে এতদিন লাগল?অনেকে বলছেন সবই চলত ঠিক ১১সালের পরিবর্তনের পর,কিন্তু গোলটা বাধল বাধল এবার, তৃণমূল ২২,বিজেপির ১৮ সিটে৷ঘাড়ের কাছে গেরুয়া শিবিরে নিশ্বাস,২১এ রাজ্যপাট বাঁচানোর তাগিদ,দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার তথা তৃণমূল সুপ্রীমোর কড়া অবস্থান৷কিন্তু মানুষ বলছেন এই সদিচ্ছা এতদিন কোথায় ছিল তৃণমূলের?
সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গরিব মানুষদের তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের কাটমানি দেওয়া,কিংবা কলেজে অনার্স পেতে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর পিতা-মাতাকে জমি,গয়না বন্ধক দিয়ে সেই টাকা শাসক দলের ছাত্র নেতার হাতে গুঁজে তবেই কলেজে অনার্স পড়ার সুযোগ পাওয়া৷দুর্নীতির বিরুদ্ধে হঠাৎ শাসক দলের বার্তা,এই সদিচ্ছা,এই অনুশাসন, রাজধর্ম পালনের চেষ্টা সরকার আগে দেখালে এত মানুষের বিশ্বাস হারাত না তৃণমূল৷তবে অনেকে বলছেন বেটার লেট দ্যান নেভার৷দেখা যাক বিধানসভা ভোটের আগে কতটাই বা শুদ্ধিকরণ সঠিক ভাবে করতে পারে তৃণমূল সেদিকে যেমন অনেকের নজর থাকবে,তেমন অনেকের বক্তব্য প্রবল সিপিএম বিরোধীতা করে দলটা ক্ষমতায় এলেও আসলে তৃণমূল দলটায় নাকি আদৌ কোনও ফিলসফি নেই, মাত্র ৮বছরে জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে পারছেন৷

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.