পিআরটি চেয়ে 'সরকার বিরোধী' কাজ করেছেন শিক্ষকরা, শাস্তি বহুদূরে ট্রান্সফার!! #Exclusive
নজরবন্দি ব্যুরোঃ পশ্চিমবঙ্গে সরকারী কর্মচারীদের বঞ্চনার শেষ নেই। আর সেই বঞ্চনার প্রতিবাদে মুখরিত সরকারী কর্মচারীদের আন্দোলনেরও শেষ নেই। বিগত প্রায় এক বছরে এই রাজ্য স্বাক্ষী থেকেছে একাধিক সরকারী কর্মচারী আন্দোলনের। যার প্রভাব এ বছর লোকসভা নির্বাচনে বিলক্ষণ চোখে পড়েছে। আর এই সমস্ত সরকারী কর্মচারীদের আন্দোলনে প্রায় শীর্ষ ভূমিকা নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারী টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন। যারা দীর্ঘ এক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে তাদের বেতন বঞ্চনার বিরুদ্ধে, অর্থাৎ সর্বভারতীয় যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক বেতন কাঠামোর দাবীতে। সেই আন্দোলন দমন করতে শাসক দলের নিপীরণেরও শেষ নেই।
ধমকানো, চমকানো ভয় দেখানো, অনৈতিক বদলী সহ সমস্ত পন্থা অবলম্বন করে চলেছে শাসকদল। এতো দমননীতি স্বত্বেও দমানো যায় নি শিক্ষকদের। কিছুদিন আগে থেকেই তারা অনৈতিক বদলীপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ঘরে ফেরানোর দাবীতে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও ডেপুটেশন দিতে শুরু করেছে। দেখা করেছে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও। যে সরকারী মদতপুষ্ট শিক্ষক নেতার অঙ্গুলিহেলনে ৬০০ কিমি দূরে শিক্ষকদের অনৈতিক বদলী করানো হয় বলে অভিযোগ শিক্ষকদের, তার বাড়ির সামনে গিয়েও বিক্ষোভ দেখান হাজারো প্রাথমিক শিক্ষক। বিতর্কের শুরু এখানেই। সেই শিক্ষকনেতা, অশোক রুদ্র এই বিক্ষোভ মিছিলের পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করেন গতকাল।
এবং বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "এন্টি গভমেন্ট কাজের জন্য ট্রান্সফার করা হয়েছে শিক্ষকদের।" প্রশ্ন উঠেছে এই কথা নিয়েই। একটি গণতান্ত্রিক দেশে ন্যায্য অধিকার এর দাবীতে পথে নামা ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করা কি "এন্টি গভমেন্ট কাজ" হতে পারে? এই প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার এক শিক্ষক অনন্ত পাত্র বলেন, "এই শিক্ষকনেতা, যার সঙ্গে আমরাও ছিলাম, যখন PTT আন্দোলন করেছিলেন, তখন সেটাও কি এন্টি গভমেন্ট কাজ ছিল?" বর্ধমানের এক শিক্ষক সন্দীপ মুখার্জী এই শিক্ষকনেতার ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেন। গতকালের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, "জঙ্গিপুরের এক সভায় এই শিক্ষকনেতা বলেন সরকারের সমালোচনা করলেই ৬০০ কিমি দূরে বদলী করা হবে।
বার্নপুরে ইনি বলেন সরকারী চাকুরিতে বদলী তো আগে থেকেই চালু আছে তাহলে অসুবিধে কোথায়? আজ আবার বলছেন এই কথা। আবার ট্রান্সফার্ড টিচার্সদের ট্রান্সফার অর্ডারে লেখা আছে শিক্ষকদের আবেদনের ভিত্তিতে বদলী। তাহলে কার কোন কথাটা সত্যি?" আবার বর্ধমানেরই আর এক শিক্ষক বুদ্ধদেব মন্ডল বলেন, "এই শিক্ষকনেতা শিক্ষকদের একতাকে ভয় পেয়েছেন। তাই পাল্টা মিছিল করেছেন অশিক্ষকদের নিয়ে। উনি নিজেই এন্টি গভমেন্ট কাজে লিপ্ত। বছরের পর বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে যে শিক্ষক প্রতি মাসে বেতন নিতে পারেন, তার চেয়ে বড় এন্টি গভমেন্ট কাজ আর কিছু হতে পারে না।
আমরা এই শিক্ষকনেতা ও তার সঙ্গে যেসব শিক্ষক এইরকম এন্টি গভমেন্ট কাজে যুক্ত, তাদের উপর নজর রাখছি।" অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষকরা যে নাছোড়বান্দা মনোভাব নিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। তারা শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যে আন্দোলন করেই যাবে তা তারা জানিয়েই দিয়েছেন। তাই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাকি সব জেলায় বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য।
ধমকানো, চমকানো ভয় দেখানো, অনৈতিক বদলী সহ সমস্ত পন্থা অবলম্বন করে চলেছে শাসকদল। এতো দমননীতি স্বত্বেও দমানো যায় নি শিক্ষকদের। কিছুদিন আগে থেকেই তারা অনৈতিক বদলীপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ঘরে ফেরানোর দাবীতে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও ডেপুটেশন দিতে শুরু করেছে। দেখা করেছে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও। যে সরকারী মদতপুষ্ট শিক্ষক নেতার অঙ্গুলিহেলনে ৬০০ কিমি দূরে শিক্ষকদের অনৈতিক বদলী করানো হয় বলে অভিযোগ শিক্ষকদের, তার বাড়ির সামনে গিয়েও বিক্ষোভ দেখান হাজারো প্রাথমিক শিক্ষক। বিতর্কের শুরু এখানেই। সেই শিক্ষকনেতা, অশোক রুদ্র এই বিক্ষোভ মিছিলের পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করেন গতকাল।
আমরা এই শিক্ষকনেতা ও তার সঙ্গে যেসব শিক্ষক এইরকম এন্টি গভমেন্ট কাজে যুক্ত, তাদের উপর নজর রাখছি।" অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষকরা যে নাছোড়বান্দা মনোভাব নিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। তারা শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যে আন্দোলন করেই যাবে তা তারা জানিয়েই দিয়েছেন। তাই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাকি সব জেলায় বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য।

No comments