শুধু কি নিরাপত্তা? আর কিছুই নয়! কি বলছে শিক্ষকের কলম? পড়ুন...
কিংকর অধিকারীঃ শুধু কি আমাদের নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার জন্যই আমাদের এই লড়াই? আর কিছুই নয়? শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চ শুধু এ জন্যই এত বড় একটা লড়াইয়ে নেমেছে তা কিন্তু নয়। পরিষ্কার করে আমাদের সেটা বুঝে নিতে হবে।
বলুন তো শিক্ষক হিসাবে আপনার মর্যাদাবোধ নেই? ভোট কর্মী হিসাবে যখন আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করবেন তখন একজন রাজনৈতিক মস্তান এসে আপনাকে হুমকি দেবে তার অন্যায় দাবি মেনে নেওয়ার জন্য। যেমন বুথ দখল করতে দিতে হবে, ছাপ্পা ভোটের জন্য ব্যালট পেপার দিতে হবে বা তাদের কর্মীরা ভোটকক্ষের কাছে দাঁড়িয়ে থেকে জনগণের ভোট নিরীক্ষণ করবে ইত্যাদি ইত্যাদি আবদার।
জনগণের কাছে আপনার মর্যাদা কিন্তু ভূলুণ্ঠিত হলো। আপনি মুখ বুজে সব সহ্য করলেন জীবনের নিরাপত্তার জন্য। প্রতিবাদের কন্ঠটাকে দুহাত দিয়ে চেপে ধরলেন আটকে রাখার জন্য। যে আপনি ছাত্রদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াবার কথা বলেন সেই আপনি কি না ভোট গ্রহণ করার জন্য বুথে গিয়ে এতবড় একটা অন্যায়ের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করলেন? বিবেক সায় দেবে তো? জীবন রক্ষার জন্য বাধ্য হলেন কম্প্রোমাইজ করতে। আর না হলে রাজকুমার! যারা শিক্ষকদের এই আত্মমর্যাদাবোধ নষ্ট করে দিতে চাইছে তার বিরুদ্ধে আপনি রুখে দাঁড়াবেন না? দাঁড়াতে হবে বন্ধু। না হলে সমাজের মানুষ আপনার দিকে আঙুল তুলবেই।
শুধু কি আমাদের নিরাপত্তা এবং আত্মমর্যাদাবোধ রক্ষার জন্য আমাদের এ লড়াই? না, শুধু এর জন্য নয়। আমাদের সম্মিলিত প্রতিবাদ যেমন নিরাপত্তা এবং আত্মমর্যাদাবোধ অক্ষুন্ন রাখতে সাহায্য করবে তেমনি সামান্য হলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপমৃত্যুর হাত থেকে কিছুটা হলেও আমরা রক্ষা করতে পারবো। বাইরে কি ঘটছে তা আমাদের কন্ট্রোল করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু আপনি আমি যে বুথে পোলিং অফিসারের দায়িত্ব নিয়েছি সেই বুথে গণতান্ত্রিক নিয়মে ভোট প্রক্রিয়া জারি রাখার দায়িত্ব বা কর্তব্য মর্যাদার সাথে আমরা সম্পন্ন করতে পারি। তার জন্য এ লড়াই। এই ভিত্তি আমরা যদি রচনা করতে পারি তাহলে আগামী দিনে কোনো রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রটাকে নিজেদের পকেটে নিয়ে ঘুরতে পারবে না।
ব্যক্তিগতভাবে কার কোন্ দল বা প্রার্থী পছন্দ তা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু মানুষ যেন তার গণতান্ত্রিক অধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেন তা অনেকটাই সুনিশ্চিত করতে পারি আমরা এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। ভোটে কোন্ দল জিতবে আর কোন দল পরাজিত হবে তা দেখবার দায়িত্ব ভোটকর্মী হিসেবে আমাদের কারোর নয়। আমাদের এ লড়াই আগামী দিনে সরকার বদল হলেও জারি থাকবে।
তাই বন্ধু এ লড়াইটা শুধুমাত্র আমাদের স্বার্থপর নিরাপত্তার জন্য নয়, এর সাথে শিক্ষক বা মানুষ হিসাবে আত্মসম্মান, মর্যাদাবোধ এবং মুমূর্ষু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটুকু টিকিয়ে রাখার এ লড়াই। আসুন সংঘবদ্ধভাবে সেই প্রতিরোধ গড়ে তুলি। যতই ঝড় আসুক তাকে মোকাবিলা করার সৎসাহস শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব হিসাবে রাখতেই হবে আমাদের।

No comments