Header Ads

ধ্বংসের মুখে প্রকৃতি: চূর্ণী নদী

দীপ্তরাজ সরকার,রাণাঘাট: সময়ের চাকা ঘোরে দিন বদলায় ,বদলায় সময় , বদলায় মানুষের মানসিকতা , বদলায় সরকার তবুও বদলায় না বাংলার চূর্ণী নদীর পরিস্থিতি। পশ্চিমবঙ্গের প্রেসিডেন্সি বিভাগের নদিয়া জেলা সারা বাংলার মতোই নদীমাতৃক জেলা । এই জেলা দিয়েই বয়ে গিয়েছে গঙ্গা, জলঙ্গি, ভাগীরথী , চূর্ণী সহ একাধিক নদী। এই সমস্ত নদীই এক জেলার প্রাণকেন্দ্র। মৎস্যজীবিদের জীবিকা নির্বাহও এই নদী গুলি থেকে। কিন্তু বর্তমানে চূর্ণী নদীর অবস্থা দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে ।

 প্রতিবেশী বাংলাদেশের কুস্টিয়া জেলা থেকে পদ্মা থেকে উৎপন্ন মাথাভাঙ্গা নদী থেকে বেরিয়ে নদীয়ার মাজদিয়াতে এসে এই নদী দুটি ভাগে ভাগ হয় একটি অংশ ইছামতী নামে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে অপর অংশটিই চূর্ণী নামে দক্ষিণ পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে মাজদিয়া, শিবনিবাস ,হাঁসখালি, বীরনগর, আড়ংঘাটা, রাণাঘাট , আনুলিয়া , চাকদহের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়ে হুগলী নদীতে গিয়ে পতিত হয়েছে। চূর্ণীর প্রবাহ পথে কিছু নদী চর ও দ্বীপ দেখা যায় । অতীত ইতিহাসও জড়িয়ে আছে চূর্ণী নদীর সাথে । পরাধীন ভারতে ১৯৩০ সালে এই নদীটি এই অঞ্চলের বণিক দের প্রধান বানিজ্য পথ হিসাবে ব্যবহৃত হত। বাংলা সাহিত্যে উঠে এসেছে অতীতের বিখ্যাত এই নদী। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৩০৪ বঙ্গাব্দে রচিত “দেবতার গ্রাস” কবিতায় এই চূর্ণী নদীর উল্লেখ রয়েছে। “হেমন্তের প্রভাতশিশিরে ছলছলকরে গ্রাম চূর্ণী নদী তীরে”।
 এছাড়াও বাংলার জীবণমুখী গায়ক শিলাজিৎ মজুমদারের গানে উঠে এসেছে এই চূর্ণী নদীর কথা। এই নদীই দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ যাওয়ার রাস্তা ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের মাঝে যেন এক সংযোগস্থল। অথচঃ বর্তমানে দিনে দিনে চূর্ণী নদীর অবস্থা সংকটজনক ও আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ছে। নাব্যতা হারিয়ে এই নদী। সেই সঙ্গে বেরেই চলেই দূষণ এর পথ দূষণ। প্রতি বছরে দুই তিন বার বাংলাদেশের চিনি কল থেকে চিনি কলের দূষিত জল ফেলা হয় চূর্ণী নদীতে। তখনই নদীর জলের রঙ হয়ে যায় কালো , প্রচুর মাছ মারা যায় , সঙ্গে বারে মরা মাছ ধরবার হিড়িক। প্রতিদিনই রাণাঘাটের মানুষের দ্বারাও দূষিত হচ্ছে এই নদী। ফেলা হচ্ছে প্লাস্টিক। কালিনারায়ণপুর এলাকায় রেলের ব্রীজ বানানোর জন্য মাটি ফেলে এক প্রকারের রুদ্ধই হয়ে গিয়েছিলো চূর্ণী নদী। সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও প্রতিবছর এখনও প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয় কিন্তু কাঠামো তোলা হয় না , দূষিত হয়ে চলেছে নদী। এলাকার স্থানীয় পঞ্চায়েত , পৌরসভা থেকে রাজ্য কিংবা কেন্দ্র , কারোরই কোনো হেলদোল নেই এই নদীকে নিয়ে।
প্রতিবছর কয়েকটি বেসরকারী সংগঠন ও স্থানীয় ছাত্র ছাত্রী দের নিয়ে বের হয় সচেতনতা মিছিল । কিন্তু চূর্ণীর অবস্থা যে তিমিরে সেই তিমিরেই থাকে। এলাকার মানুষের একটাই দাবী অবিলম্বে যেন চূর্ণী নদীর সংস্কার করা হয়। ভোট আসে ভোট যায় , সবকটি রাজনৈতিক দলই প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু অতীতের বিখ্যাত সুপরিচিত নদী চূর্ণী থেকে যায় একই ভাবে.... বিলুপ্তির পথে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিতে।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.