রাজকুমার রায়ের হত্যা মামলায় রাজ্য সরকারের কাছ থেকে স্টেটাস রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাইকোর্ট।
কিংকর অধিকারীঃ আজ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রহস্যজনকভাবে মৃত রাজকুমার রায়ের বিচার মামলায় রাজ্য সরকারের কাছ থেকে স্টেটাস রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। ওই নির্বাচন চলার সময়ে নিখোঁজ হওয়ার পর শেষ 11 ঘণ্টার রিপোর্ট চাইল মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার শুনানিতে মৃত প্রিসাইডিং অফিসারের মা অন্নদা রায়ের আইনজীবী উদয়শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, ‘রাজকুমারের মৃত্যুর কোনও তদন্ত করেনি পুলিশ। সঠিক ময়নাতদন্তও হয়নি। ময়নাতদন্তের কোনও ভিডিও ফুটেজ রেকর্ড করা হয়নি। একজন প্রিসাইডিং অফিসারের মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশনও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’’
তাই সিবিআইকে দিয়ে পুনরায় গোটা ঘটনার তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন উদয়বাবু। শিক্ষক শিক্ষা কর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, "এই ঘটনার প্রথম থেকেই আমরা সিবিআই তদন্ত চেয়ে এসেছি কিন্তু রাজ্য সরকার সেই দাবি আজও মানে নি। অথচ বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করার সময় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন রহতপুর হাই মাদ্রাসার তরুণ শিক্ষক রাজকুমার রায় এবং পরে তাঁর ছিন্ন বিচ্ছিন্ন দেহ পাওয়া যায় রেল লাইনের উপরে। আমরা চাই অবিলম্বে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত সত্য জনগণের কাছে নিয়ে আসা হোক।
আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে জোরালোভাবে দাবি রেখেছি যে, আগামী যেকোনো নির্বাচনে ভোট কর্মীদের যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করলে আমরা ভোট গ্রহণের দায়িত্ব বয়কট করব। এ্যাডিশনাল সিইও আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আগামী লোকসভা নির্বাচনে নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বলে। আমরা মনে করি কোন দল ক্ষমতায় আসবে কি আসবে না সেটা আমাদের বিচার্য বিষয় নয়। কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেকের ভোট দানের অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের মানুষ যাতে নির্ভয়ে তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং ভোট কর্মীরা যাতে নির্ভয় সংবিধান স্বীকৃত দায়িত্ব পালন করতে পারেন তার জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা এবং দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।"

No comments