ভোট বৈতরণী পার হতেই নেতাজি আবেগে সওয়ার হতে মরিয়া বিজেপি৷
অরুনাভ সেন: পরাধীন ভারতের জাতীয় সরকার আজাদ হিন্দ সরকারের ৭৫ বছর উপলক্ষে লালকেল্লা থেকে পতাকা উত্তোলন করে প্রধানমন্ত্রী সারা ভারতের মানুষের হার্টথ্রব নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ অপর্ন করেছেন বলে অনেকের আপাত দৃষ্টিতে মনে হলেও অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের প্রশ্ন বাঙালির নেতাজি-আবেগে সওয়ার হতেই কি দেশের সরকার এবং দেশের প্রধান শাসক দল রবিবার ভারত জুড়ে ‘বোধন’ ঘটাল জাতীয় পতাকার।
স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম বার ১৫ অগস্ট ছাড়া অন্য কোনও তারিখে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। আর পূর্ণ উদ্যমে গোটা বাংলায় জাতীয় পতাকা তুলে আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পালন করল বিজেপি।১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়েছিল। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেই সরকারের প্রধান হয়েছিলেন।
নেতাজি সুভাষের নেতৃত্বাধীন সেই সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল বিশ্বের ১০টা দেশ। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, স্বাধীন ভারতের কোনও সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে নেতাজির সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।এই সত্যকেও অস্বীকার করা যাচ্ছে না৷ বাংলার প্রতিটি জেলায় বিজেপি কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উঠেছে। অন্যান্য রাজ্যেও বিজেপি পালন করেছে আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর।নেতাজি সুভাষকে নিয়ে বিজেপির তথা কেন্দ্রীয় সরকারের এই তৎপরতা কি শুধুই রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা থেকে?যদি তেমন হয় তাহলে কারো প্রশ্ন তোলার অধিকার থাকে না কিন্তু নিন্দুক প্রশ্ন তুলছেন আসন্ন লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়েই বিজেপির নেতাজিকে ঘিরে এই তৎপরতা৷এই প্রশ্নটির উত্তর বিজেপি নেতারা নিজেরাই যতেষ্ট যুক্তি সহকারে দিতে পেরেছেন বলে মনে করেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷তাদের বক্তব্য খুব স্পষ্ট নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সারা ভারতবর্ষের অসংখ্য মানুষের আইকন,হার্টথ্রব, যাঁকে খুব সহজেই নেহরু-গাঁধী রাজের পাল্টা মেরু হিসেবে খাড়া করা যায়৷
অনেক বাঙালি তথা ভারতীয়ের চোখে রিয়েল হিরো নেতাজি৷ প্রধানমন্ত্রীর লালকেল্লা থেকে সেই ভাষণে ‘পাল্টা মেরু’ তৈরির চেষ্টা পরিষ্কার। শুধুমাত্র একটা পরিবারের স্বার্থে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের অবদান ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মোদি৷যদিও আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর উপলক্ষে বিজেপির তৎপরতাকে কটাক্ষ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷ কেবল সমালোচকরা নন,বিজেপি বিরোধী কংগ্রেস ও বাম নেতারা হঠাৎ মোদির সরকার তথা বিজেপির নেতাজি বন্দনায় উল্লসিত হওয়ার বদলে তাদের উদ্দেশ্যে রাজনীতি খুঁজে পেয়েছেন৷তাদের দাবি মানুষ এখন বিজেপির উপর যারপরনাই বিরক্ত৷এখন নেতাজিকে আঁকড়ে ধরে দেশের মানুষের নজর ঘোরানোর চেষ্টা চলছে৷বিরোধীদের আরও বক্তব্য নেতাজির সম্পর্কে হিন্দু মহাসভা কিংবা আরএসএসের অতীত মূল্যায়ন আতস কাচের নীচে রাখতেই হবে৷
স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম বার ১৫ অগস্ট ছাড়া অন্য কোনও তারিখে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। আর পূর্ণ উদ্যমে গোটা বাংলায় জাতীয় পতাকা তুলে আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পালন করল বিজেপি।১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়েছিল। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেই সরকারের প্রধান হয়েছিলেন।
নেতাজি সুভাষের নেতৃত্বাধীন সেই সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল বিশ্বের ১০টা দেশ। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, স্বাধীন ভারতের কোনও সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে নেতাজির সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।এই সত্যকেও অস্বীকার করা যাচ্ছে না৷ বাংলার প্রতিটি জেলায় বিজেপি কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উঠেছে। অন্যান্য রাজ্যেও বিজেপি পালন করেছে আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর।নেতাজি সুভাষকে নিয়ে বিজেপির তথা কেন্দ্রীয় সরকারের এই তৎপরতা কি শুধুই রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা থেকে?যদি তেমন হয় তাহলে কারো প্রশ্ন তোলার অধিকার থাকে না কিন্তু নিন্দুক প্রশ্ন তুলছেন আসন্ন লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়েই বিজেপির নেতাজিকে ঘিরে এই তৎপরতা৷এই প্রশ্নটির উত্তর বিজেপি নেতারা নিজেরাই যতেষ্ট যুক্তি সহকারে দিতে পেরেছেন বলে মনে করেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷তাদের বক্তব্য খুব স্পষ্ট নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সারা ভারতবর্ষের অসংখ্য মানুষের আইকন,হার্টথ্রব, যাঁকে খুব সহজেই নেহরু-গাঁধী রাজের পাল্টা মেরু হিসেবে খাড়া করা যায়৷
সর্বোপরি নেতাজির আজাদ হিন্দ সরকাররের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর কে কেন্দ্র করে বিজেপির এই আবেগ তৈরির চেষ্টাকে তারা ভোট বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল বলেই অভিহিত করেছেন৷আসলে সুভাষচন্দ্রকে ঘিরে বাঙালির আবেগে আজও এতটুকু ভাঁটা পড়েনি৷ বাঙালির সেই আবেগে ভেসে বাংলায় বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী করার চেষ্টা শুরু হয়েছে৷ সেইজন্য বাংলার বিজেপি নেতৃত্ব সবচেয়ে জোর দিয়ে উদযাপন করেছে আজাদ হিন্দ সরকারের ৭৫ বছর৷ হিন্দি বলয়ে বিজেপির আসন সংখ্যা বেশ কমবে সেই বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্ব নিশ্চিত৷সেই ঘাটতি লোকসভায় পুষিয়ে নিতে তাদের টার্গেট উত্তর পূর্বের রাজ্য গুলির পাশাপাশি বাংলা৷ আর সেই লক্ষ্য পূরণে মোদি-অমিত শাহ জুটির মূল নিশানা এখন বাংলা৷ লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যতিক্রমী জাতীয় পতাকার উত্তোলন এক বাঙালির জন্য— এই দৃশ্য তৈরি করে মোদি-অমিত শাহ জুটি আসলে নিজেদের সাংগঠনিক লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছতে চাইছেন, তা বুঝতে কারওরই অসুবিধা হওয়ার কথা নয় বলছেন বিজেপি বিরোধী দলগুলির নেতা,কর্মী,সমর্থকেরা৷যদিও সমালোচক তথা বিরোধীদের বিজেপির রাজনৈতিক অভিসন্ধি’র অভিযোগ নস্যাৎ করছেন বিজেপি নেতৃত্ব৷তবুও বিরোধীরা অভিযোগ করছেন মরিয়া হয়ে বিজেপি এখন প্রতিটি জাতীয়তাবাদী বিষয়কে হস্তগত করতে ঝাপাচ্ছে৷কারন তাদের সরকারের সব প্রতিশ্রুতি ফাঁফা বলে পরিগনিত হয়েছে৷
হাজার,হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিরা অবাধে দেশ থেকে পালাতে পেরেছেন৷নোটবন্দি একটা ভুল সিদ্ধান্ত বলে প্রমানিত হয়েছে৷জিএসটি সাধারন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কোমর ভেঙে দিচ্ছে৷ মেরুকরনের রাজনীতির সুফল দেশের সব প্রান্তে পাওয়া সম্ভব নয়,স্বভাবত ব্যাকফুটে বিজেপি সেইজন্য নতুন করে জনমানসে জাতীয়তাবাদী আবেগ তৈরি করতে তাদের নেতাজি,বল্লভভাই প্যাটেলদের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে৷বিজেপির সর্ব ভারতীয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্ধী কংগ্রেস বিজেপিকে আক্রমন করে বলেছে আরএসএস ও হিন্দু মহাসভার বিভেদমূলক ও অসহিষ্ণু নীতির ঘোরতর বিরোধী ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু ও সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল৷সবমিলিয়ে এটা বলা যায় আজাদ হিন্দ সরকারের ৭৫ বছর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ব্যতিক্রমী পতাকা উত্তোলনে নতুন করে নেতাজিকে নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে৷সাধারন মানুষের কিন্তু একটাই দাবি নেতাজির উত্তরাধিকার নিয়ে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি বা রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসেব নয়, বরং ভারতের এই বীর সন্তান রাজনীতির উর্ধে উঠে যেমন অমর হয়ে আছেন,তিনি তেমন ভাবেই সবার হৃদয়ে শ্রদ্ধার আর ভালবাসার মানুষ হয়ে থাকুন৷
