নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২২ ঘণ্টা পর ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের অবরোধ ওঠে। তবে এখনও দক্ষিণপূর্ব রেলে স্বাভাবিক হয়নি পরিষেবা। বাতিল করা হয়েছে হাওড়া-সেকেন্দরাবাদ আপ ফলকনুমা এক্সপ্রেস এবং আপ হাওড়া-যশোবন্তপুর দুরন্ত এক্সপ্রেস।
দক্ষিণ ভারত যাওয়ার এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল হওয়ায় হাওড়ায় বিক্ষোভ দেখান যাত্রীরা। চিকিৎসার
জন্য, কর্মসূত্রে বা পরীক্ষা দিতে এই দুটি ট্রেনে প্রচুর মানুষ তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা বা কর্নাটক যাচ্ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যা থেকে হাওড়া স্টেশনে অপেক্ষা করার পর মঙ্গলবার সকালে ফলকনুমা এবং যশোবন্তপুর এক্সপ্রেস বাতিলের খবর পেয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারা। আগের দিন থেকে খড়গপুরে আটকে থাকায় সেখান থেকেই মঙ্গলবার ছেড়ে গিয়েছে সাঁতরাগাছি-পুরুলিয়া রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস, হাওড়া-বারবিল জনশতাব্দী এক্সপ্রেস, হাওড়া-পুরী ধৌলি এক্সপ্রেস এবং হাওড়া-পুরুলিয়া লালমাটি এক্সপ্রেস।
প্রথমে ওই ট্রেনগুলি বাতিলের কথা বলা হলেও পরে রেলের তরফে জানানো হয় সেগুলি খড়গপুর থেকেই ছেড়ে চলে গিয়েছে। কিন্তু সেই ট্রেন ধরার জন্য খড়গপুর পৌঁছতে রেলের তরফে কোনও আলাদা ট্রেনের ব্যবস্থা না করায় যাত্রীরা আরও বিপাকে পড়েন। প্রসঙ্গত আদিবাসী সরকারি কর্মীদের বদলি করা যাবে না, সব সরকারি দপ্তরে অলচিকি ভাষা চালু করতে হবে- সহ মোট ৮ দফা দাবিতে সোমবার সকাল ৬টা থেকে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে রেল এবং সড়ক অবরোধ করেছিল আদিবাসীরা।
সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় অবরোধ উঠলেও পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গায় মঙ্গলবার ভোররাত দুটো পর্যন্ত অবরোধ হয়। ফলে ওই জেলাতেই যাত্রীদুর্ভোগ চরমে পৌঁছয়। রাতের দিকে, সংগঠনের মধ্যেই একটি পক্ষ অবরোধ তুলে নিতে চাপ দেয় অনড় পক্ষকে। অবশেষে মঙ্গলবার ভোররাত দুটোর পর অবরোধ ওঠে পশ্চিম মেদিনীপুরে। তারপরই ছাড়তে শুরু করে ট্রেনগুলি।