মাঝেরহাটের পর বিদ্যাসাগর সেতু?.....হাহাকার করছে দ্বিতীয় হুগলী ব্রিজ। #Editorial
অর্ক সানাঃ কিছুদিন আগে ভেঙে পড়েছিল পোস্তার ফ্লাইওভার, তারপর উল্টোডাঙা সর্বশেষ সংযোজন মাঝের হাট ব্রিজ। মানুষের অকারন মৃত্যু, আহত হওয়া আর বেশ কিছু পরিবারের সর্বস্ব হারানোর আর্তনাদ। আপনি শুনতে পান মুখ্যমন্ত্রী? নিশ্চই পান, আপনার নামেই তো মমতা লুকিয়ে আছে! সাধারণ মানুষের জন্যে আপনার মন সর্বদা বিচলিত। আপনি সততার প্রতীক, পোস্টার ফ্লেক্স গুলি অন্তত সেই কথাই চিৎকার করে করে বলে রাস্তার দু-ধারে দাঁড়িয়ে। ২০১১ তে ক্ষমতার পরিবর্তন, 'হার্মাদ'দের হারিয়ে মা মাটি মানুষের সরকার রাজ্যে।
২০১১ থেকে ২০১৮ এই সাত বছরের জার্নিতে কত সুবোধ অবোধ হার্মাদি ছেড়ে সততার আঁচলের ছায়ায় মায়ের স্পর্শ পেয়ে মাটির উপর দাঁড়িয়ে মানুষ হয়েছে। আবার সততার মূর্ত প্রতীক হয়ে থাকা জোড়া ফুল দলের সংস্রব ত্যাগ করা মাত্রই কত মুকুল অঙ্কুরিত হওয়ার আগেই চোর চাটনির তকমা নিয়ে অন্য দলে ঠাই নিয়েছে। আসলে বট বৃক্ষের তলায় থাকলে স্নিগ্ধতা মেলে আর বট বৃক্ষ মাথার উপর না থাকলে ভারতী হয়ে যায়।
সব থেকে বড় কথা রাজ্যের মানুষ আপনাকে অসম্ভব ভালবাসে। বাসবে নাইবা কেন? উন্নয়ন আর উন্নয়ন চারিদিকে।
নন্দন বা রবীন্দ্র সদন চত্বরে ঢুকলে এখন মন ভরে যায়। আগে তো কিছুই ছিলনা! কত সুন্দর সুন্দর বড় বড় এলইডি বসেছে তাতে মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর করা উন্নয়নের ছবি ভিডিও কত কিই না চলে। দেখতে দেখতে বেশ সময় কাটে। নতুন গাছ বসেছে, সে হোক না কৃত্তিম! সুন্দর পাথর বসেছে রাস্তায়, সুন্দর লাগছে ভীষণ! রবীন্দ্রসদন, গগনেন্দ্র, শরৎ সদন, নন্দন, চারুকলা, বাংলা অ্যাকাডেমি আগে যে অবস্থায় ছিল এখন বদলে গেছে আমূল, মুখ্যমন্ত্রীর অকৃত্রিম অনুপ্রেরনা বদলে দিয়েছে কলকাতার সংস্কৃতি-র প্রানকেন্দ্রকে। এখানে ঢুকলে সব থেকে ভাল দেখতে যেটা লাগে সেটা হল বেশ সুন্দর কালো পাথরে লেখা জ্বলজ্বলে অনুপ্রেরনার ফলক। তবে কি আমরা তো নিতান্ত ছাপোষা নাগরিক, তাই আবদার বাড়তেই থাকে। যেমন নন্দন চত্বরে মাত্র ৭ - ৮ টা ফলক কেন? সবার চোখে পড়েনা অন্তত গোটা কুড়ি দরকার ছিল! আর রংটা কালো??? সত্যি বলছি পোষায় না, ওটা নীল সাদা করা যেতনা!
আপনার হাত ধরে বিশ্ব-বাংলায় বিশ্বকাপ এসেছে, কি সুন্দর একটা স্টেডিয়াম, সবই অনুপ্রেরনা। আপনার আগে একজন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু, একজন ক্রীড়া মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী এনারা কি একটা স্টেডিয়াম বানিয়েছিলেন আপনার আর আপনার ক্রীড়া মন্ত্রী কি যেন নাম! মনে নেই(মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি পরে দেখে নেব কে দায়িত্বে আছেন) যাই হোক আপনাদের পরশপাথরের ছোঁয়ায় স্কন্ধকাটা অনন্য সাধারণ স্থাপত্যের ঠিক পিছনে বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বিবেকানন্দ যুবভারতী, তুলনাহীন। এখানেও অনুপ্রেরনা কাজ করেছে আপনারই।
রাজ্য জুড়ে উন্নয়নের ছোঁয়াতে সুসজ্জিত বাংলা, অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। নতুন নতুন শিল্প স্থাপনের আইডিয়া বদলে দিয়েছে রাজ্যের বেকার দের জীবন, সিপিআইএম সরকার কিছু সারমেয় পুষেছিল সেগুলো ডিএ, পে কমিশনের জন্যে মাঝে মধ্যে ঘেউ ঘেউ করা ছাড়া মোটের উপরে সরকারি কর্মচারী - শিক্ষকরা খুশি। মিডিয়া বামফ্রন্ট আমলে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারত না, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সূর্য মিশ্র বা গৌতম দেব এনাদের ইন্টারভিউ করা দুঃসহ ব্যাপার ছিল। স্বস্তি জনক প্রশ্ন না করলেই রেগে যেতেন, চাইলে কেরিয়ারের বারোটা বাজিয়ে দিতেন। ভাল হয়েছে এরা ক্ষমতায় নেই। এখন মিডিয়া সম্মান ফিরে পেয়েছে, আপনি সবার মুখ্যমন্ত্রী হতে পেরেছেন। আপনাকে যেকোন প্রশ্ন অকপটে করা যায়, নির্ভয়ে করা যায়। রাগ, বা চিৎকার চ্যাঁচামেচির কোন অবকাশ নেই।
বিরোধীরা বলে আপনার মন্ত্রী নেতারা চোর! এর থেকে বড় মিথ্যা বোধহয় হতে পারেনা। পশ্চিমবঙ্গ আগে কখনও এত সৎ মন্ত্রীসভা পায়নি একথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। আরও অনেক কথা আছে... আসলে গত সাত বছরে এত প্রশংসা সূচক কাজ হয়েছে যে বলে শেষ করতে গেলে মহাভারত লেখা হয়ে যাবে। তাই এই এত্ত উন্নয়নের ভার মাথায় নিয়ে অন্য একটি কথা বলতে চাই। তার আগে সামান্য ইতিহাসের অবতারনা। আমার প্রসঙ্গ বিদ্যাসাগর সেতুকে নিয়ে আর প্রশ্ন ওটা কবে ভেঙে পড়বে?
যাই হোক বিদ্যাসাগর সেতুর কথায় আশা যাক, রবীন্দ সেতু তথা হাওড়া ব্রিজের ভার লাঘব করার উদ্যেশ্যে ১৯৭২ সালের ২০ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই সেতুর শিলান্যাস করেন। কাজ শুরু হয় সাত বছর পর ১৯৭৯ সালের ৩রা জুলাই। আর উদ্বোধন হয় ১৯৯২ সালের ১০ই অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু আর প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাওয়ের হাত ধরে।
আমি নিশ্চিত ইন্দিরা গান্ধী, নরসীমা রাও বা জ্যোতিবসু আপনার মত সৌন্দর্যের পূজারি ছিলেন না এমনকি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও না তাই তাঁরা বিদ্যাসাগর সেতুকে সেতু হিসেবেই ভেবেছিলেন বাহারি নীল সাদা টবে বৃক্ষ রোপণের যায়গা হিসেবে দেখেন নি।
বিদ্যাসাগর সেতু পেরোনোর সময় আপনার মত আমাদেরও এখন দারুন ভাল লাগে, নীল-সাদা আবহে সবুজের সমারোহ আহা মন ভরে যায়।
কিন্তু ভাল লাগার পাশাপাশি মন ভরাক্রান্ত হয়ে আসে ভয়ে! কারন যে সেতু রবীন্দ্র সেতুর ভার লাঘব করার জন্যে নির্মিত আজ সৌন্দর্যায়নের ধাক্কায় নাজানি কত টন অতিরিক্ত ভার বহন করছে। আমার জানানেই নীল সাদা সুসজ্জিত ঐ এক একটি টব কত ভারি। যদি ওই টব গুলির ওজন এক গ্রামও হয় সেটা বিদ্যাসাগর সেতুর জন্যে অতিরিক্ত ভার বলেই বিশ্বাস করি। কারন টব গুলি চলমান গাড়ি নয়। বাড়তি বোঝা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক সাধের বিদ্যাসাগর সেতুকে। আমি বিশ্বাস করি আপনি অত্যন্ত মানবিক, আপনি নিশ্চই আর একবার বিচার করবেন। আর আপনার মত বিবেচক কে পরামর্শ দেওয়ার ধৃষ্টতা করার জন্যে মার্যনা করবেন।
২০১১ থেকে ২০১৮ এই সাত বছরের জার্নিতে কত সুবোধ অবোধ হার্মাদি ছেড়ে সততার আঁচলের ছায়ায় মায়ের স্পর্শ পেয়ে মাটির উপর দাঁড়িয়ে মানুষ হয়েছে। আবার সততার মূর্ত প্রতীক হয়ে থাকা জোড়া ফুল দলের সংস্রব ত্যাগ করা মাত্রই কত মুকুল অঙ্কুরিত হওয়ার আগেই চোর চাটনির তকমা নিয়ে অন্য দলে ঠাই নিয়েছে। আসলে বট বৃক্ষের তলায় থাকলে স্নিগ্ধতা মেলে আর বট বৃক্ষ মাথার উপর না থাকলে ভারতী হয়ে যায়।
সব থেকে বড় কথা রাজ্যের মানুষ আপনাকে অসম্ভব ভালবাসে। বাসবে নাইবা কেন? উন্নয়ন আর উন্নয়ন চারিদিকে।
নন্দন বা রবীন্দ্র সদন চত্বরে ঢুকলে এখন মন ভরে যায়। আগে তো কিছুই ছিলনা! কত সুন্দর সুন্দর বড় বড় এলইডি বসেছে তাতে মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর করা উন্নয়নের ছবি ভিডিও কত কিই না চলে। দেখতে দেখতে বেশ সময় কাটে। নতুন গাছ বসেছে, সে হোক না কৃত্তিম! সুন্দর পাথর বসেছে রাস্তায়, সুন্দর লাগছে ভীষণ! রবীন্দ্রসদন, গগনেন্দ্র, শরৎ সদন, নন্দন, চারুকলা, বাংলা অ্যাকাডেমি আগে যে অবস্থায় ছিল এখন বদলে গেছে আমূল, মুখ্যমন্ত্রীর অকৃত্রিম অনুপ্রেরনা বদলে দিয়েছে কলকাতার সংস্কৃতি-র প্রানকেন্দ্রকে। এখানে ঢুকলে সব থেকে ভাল দেখতে যেটা লাগে সেটা হল বেশ সুন্দর কালো পাথরে লেখা জ্বলজ্বলে অনুপ্রেরনার ফলক। তবে কি আমরা তো নিতান্ত ছাপোষা নাগরিক, তাই আবদার বাড়তেই থাকে। যেমন নন্দন চত্বরে মাত্র ৭ - ৮ টা ফলক কেন? সবার চোখে পড়েনা অন্তত গোটা কুড়ি দরকার ছিল! আর রংটা কালো??? সত্যি বলছি পোষায় না, ওটা নীল সাদা করা যেতনা!
আপনার হাত ধরে বিশ্ব-বাংলায় বিশ্বকাপ এসেছে, কি সুন্দর একটা স্টেডিয়াম, সবই অনুপ্রেরনা। আপনার আগে একজন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু, একজন ক্রীড়া মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী এনারা কি একটা স্টেডিয়াম বানিয়েছিলেন আপনার আর আপনার ক্রীড়া মন্ত্রী কি যেন নাম! মনে নেই(মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি পরে দেখে নেব কে দায়িত্বে আছেন) যাই হোক আপনাদের পরশপাথরের ছোঁয়ায় স্কন্ধকাটা অনন্য সাধারণ স্থাপত্যের ঠিক পিছনে বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বিবেকানন্দ যুবভারতী, তুলনাহীন। এখানেও অনুপ্রেরনা কাজ করেছে আপনারই।
রাজ্য জুড়ে উন্নয়নের ছোঁয়াতে সুসজ্জিত বাংলা, অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। নতুন নতুন শিল্প স্থাপনের আইডিয়া বদলে দিয়েছে রাজ্যের বেকার দের জীবন, সিপিআইএম সরকার কিছু সারমেয় পুষেছিল সেগুলো ডিএ, পে কমিশনের জন্যে মাঝে মধ্যে ঘেউ ঘেউ করা ছাড়া মোটের উপরে সরকারি কর্মচারী - শিক্ষকরা খুশি। মিডিয়া বামফ্রন্ট আমলে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারত না, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সূর্য মিশ্র বা গৌতম দেব এনাদের ইন্টারভিউ করা দুঃসহ ব্যাপার ছিল। স্বস্তি জনক প্রশ্ন না করলেই রেগে যেতেন, চাইলে কেরিয়ারের বারোটা বাজিয়ে দিতেন। ভাল হয়েছে এরা ক্ষমতায় নেই। এখন মিডিয়া সম্মান ফিরে পেয়েছে, আপনি সবার মুখ্যমন্ত্রী হতে পেরেছেন। আপনাকে যেকোন প্রশ্ন অকপটে করা যায়, নির্ভয়ে করা যায়। রাগ, বা চিৎকার চ্যাঁচামেচির কোন অবকাশ নেই।
বিরোধীরা বলে আপনার মন্ত্রী নেতারা চোর! এর থেকে বড় মিথ্যা বোধহয় হতে পারেনা। পশ্চিমবঙ্গ আগে কখনও এত সৎ মন্ত্রীসভা পায়নি একথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। আরও অনেক কথা আছে... আসলে গত সাত বছরে এত প্রশংসা সূচক কাজ হয়েছে যে বলে শেষ করতে গেলে মহাভারত লেখা হয়ে যাবে। তাই এই এত্ত উন্নয়নের ভার মাথায় নিয়ে অন্য একটি কথা বলতে চাই। তার আগে সামান্য ইতিহাসের অবতারনা। আমার প্রসঙ্গ বিদ্যাসাগর সেতুকে নিয়ে আর প্রশ্ন ওটা কবে ভেঙে পড়বে?
যাই হোক বিদ্যাসাগর সেতুর কথায় আশা যাক, রবীন্দ সেতু তথা হাওড়া ব্রিজের ভার লাঘব করার উদ্যেশ্যে ১৯৭২ সালের ২০ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই সেতুর শিলান্যাস করেন। কাজ শুরু হয় সাত বছর পর ১৯৭৯ সালের ৩রা জুলাই। আর উদ্বোধন হয় ১৯৯২ সালের ১০ই অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু আর প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাওয়ের হাত ধরে।
আমি নিশ্চিত ইন্দিরা গান্ধী, নরসীমা রাও বা জ্যোতিবসু আপনার মত সৌন্দর্যের পূজারি ছিলেন না এমনকি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও না তাই তাঁরা বিদ্যাসাগর সেতুকে সেতু হিসেবেই ভেবেছিলেন বাহারি নীল সাদা টবে বৃক্ষ রোপণের যায়গা হিসেবে দেখেন নি।
বিদ্যাসাগর সেতু পেরোনোর সময় আপনার মত আমাদেরও এখন দারুন ভাল লাগে, নীল-সাদা আবহে সবুজের সমারোহ আহা মন ভরে যায়।
কিন্তু ভাল লাগার পাশাপাশি মন ভরাক্রান্ত হয়ে আসে ভয়ে! কারন যে সেতু রবীন্দ্র সেতুর ভার লাঘব করার জন্যে নির্মিত আজ সৌন্দর্যায়নের ধাক্কায় নাজানি কত টন অতিরিক্ত ভার বহন করছে। আমার জানানেই নীল সাদা সুসজ্জিত ঐ এক একটি টব কত ভারি। যদি ওই টব গুলির ওজন এক গ্রামও হয় সেটা বিদ্যাসাগর সেতুর জন্যে অতিরিক্ত ভার বলেই বিশ্বাস করি। কারন টব গুলি চলমান গাড়ি নয়। বাড়তি বোঝা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক সাধের বিদ্যাসাগর সেতুকে। আমি বিশ্বাস করি আপনি অত্যন্ত মানবিক, আপনি নিশ্চই আর একবার বিচার করবেন। আর আপনার মত বিবেচক কে পরামর্শ দেওয়ার ধৃষ্টতা করার জন্যে মার্যনা করবেন।

No comments