Header Ads

ডিএ মামলার রায় সামনের মাসে? হার প্রায় নিশ্চিত রাজ্য সরকারের! কেন? পড়ুন বিশ্লেষণ।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ডিএ নিয়ে অনেক বিতর্কের পর এই মামলার শুনানি শেষ হয়েছে দু-দিন আগে। আর এখনও বাকি আছে এই গুরুত্বপূর্ণ  মামলার রায়দান পর্ব। আর সেই রায়ের দিকে তাকিয়ে সরকারি কর্মচারীরা। তবে আইনজীবীদের একটা বড় অংশের মতে, সামনের মাসের শুরুতেই এই ডিএ মামলার রায় জানাতে পারে কলকাতা হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, বকেয়া ডিএ ও কেন্দ্রীয় হারে বেতন নিয়ে ক্ষোভ অনেক দিনের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের। রাজ্য সরকারের কাছে এই নিয়ে বারবার অনুরোধ জানিয়ে কোনও ফল না হওয়াতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে সরকারি কর্মচারিদের একটা বড় অংশ। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ১৯৫৪ সালের একটি মামলার রায় দেখিয়ে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত স্পষ্ট জানিয়ে দেন ডিএ সরকারি কর্মচারীদের অধিকারের নয়। আর তার পরিপ্রেক্ষিতে মামলাকারীদের পক্ষের দুই আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ও সর্দার আমজাদ আলিকে নিজের নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয় আদালত।
ইতিমধ্যেই বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর দুদিনের সওয়ালে তুলে ধরেছেন মূলত বেশকিছু বিষয়।
১. রাজ্য সরকারের আইন বলছে ডিএ সরকারি কর্মাচারদিকে অধিকারের মধ্যে পড়ে।
২. রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল ১৯৫৪ সালের যে রায়ের কথা বলছেন তারপরে সুপ্রিম কোর্টেই বহু মামলার রায়ে স্পষ্ট ডিএ সরকারি কর্মচারীদের অধিকারের মধ্যে পড়ে বলে জানিয়েছে।
৩. সুপ্রিমকোর্টর রায়ে স্পষ্ট বলা আছে বছরে দুবার করে ডিএ দিতে হবে।
৪. ডিএ-র হার প্রাইস ইনডেক্স বা পিআইএর উপর নির্ভর করবে।
বিকাশবাবুর সওয়ালের পর মামলাকারীদের তরফে অপর আইনজীবি সর্দার আমজাদ আলি আদালতের কাছে আধঘন্টার সময় চান নিজের বক্তব্য বলার জন্য। কিন্তু সময়াভাবে আগের দু-বার তা সম্ভব না হাওয়ায় আদালত আজ আমজাদ সাহেবের বক্তব্য শোনে। আমজাদ সাহেব প্রথমেই বলেন, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল ১৯৫৪ সালের যে রায়ের কথা বলছেন তা আসলে ১৯২২ সালের ‘কলোনিয়াল আইনের’ উপর দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু বর্তমানে ভারতবর্ষ স্বাধীন, তার নিজস্ব একটা সংবিধান আছে, তাহলে বর্তমানে কোন আইন কি পরাধীন ভারতের আইনের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
এরপরে আমজাদ সাহেব বলেন, রাজ্য সরকার যেসব কর্মী দিল্লি বা চেন্নাইয়ে কর্মরত তাঁদের সিপিআই মেনে ডিএ দিলেও, পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে যেসব কর্মী আছেন তাঁদের ক্ষেত্রে তা দিচ্ছে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে জানিয়েছিলেন যে, আমরা ডিএ দিই কিন্তু কোনও প্রাইসিং ইনডেক্সের নিয়ম মেনে তা দেওয়া হয় না। আমজাদ আলির প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার ‘পাবলিক মানি’ নিয়ে এরকম ভাবে কি চলতে পারে? আর সেটা আবার আদালতে এসে বুক ফুলিয়ে বলতে পারে?
এরপর আমজাদ সাহেব, ২০০৯ সালের রোপা আইন ও পে কমিশনের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে যে যে নিয়ম মেনে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন সবই সেই পে কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী। কারণ হিসাবে তিনি বলেন,  রাজ্য সরকার নিজেই সেই পে কমিশনের দেওয়া পরামর্শকে সংবিধানের ৩০৯ ধারা অনুযায়ী আইনে রূপান্তরিত করে। তাহলে তা ডিএ দেওয়ার ক্ষেত্রে মানবে না কেন রাজ্য।
মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী সর্দার আমজাদ আলি এরপর বিচারকদের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর একটি সভায় তোলা ‘ঘেউ ঘেউ’ প্রসঙ্গও তোলেন। আজ আমজাদ সাহেব আদালতের কাছে স্পষ্ট করে দেন, মুখ্যমন্ত্রী যতই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দাবিকে ‘বার্কিং’ (ঘেউ ঘেউ) বলুন, আসলে কিন্তু আমরা মহামান্য আদালতের কাছে তা ‘বেগিং’ (দাবি করছি) করছি, কোনোমতেই তা ‘বার্কিং’ নয়।

এই বলে আমজাদ সাহেব তাঁর শুনানি শেষ করেন। ফলে এই মামলার সবপক্ষের শুনানি আপাতত শেষ। এই ডিএ নিয়ে রাজ্যের আইনজীবীদের একটা বড় অংশের মতে, মামলার গতিপ্রকৃতি যেকিকে এগোচ্ছে তাতে নিশ্চিত পরাজয়ের সামনে দাঁডিয়ে আছে রাজ্য সরকার!

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.