Header Ads

৩৯ বছর আগে মৃতার নাম ভোটার তালিকায়, তোলা হতো পেনশন এর টাকা। #EXCLUSIVE

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ৩৯ বছর আগে মৃত মায়ের নাম ভোটার তালিকায় আর তা দেখে অবাক প্রয়াত সুধীর বর্মনের ছোট ছেলে মিঠু বর্মন। কেওটা টায়ারবাগানের বাসিন্দা মিঠু বর্মন এর অভিযোগ, তাঁর বাবা সুধীর বর্মনের মৃত্যু হয়েছে ২০০৭ সালে। তিনি রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের কর্মী ছিলেন।

 তার অনেক আগে ১৯৮১ সালে মৃত্যু হয়েছে সুধীর বর্মন এর স্ত্রী অর্থাৎ মিঠুর  মা যূথিকা বর্মনের। স্বভাবতই মায়ের নাম আর ভোটার তালিকায় না থাকার ই কথা কিন্তু মিঠু যা দেখলো তা সে নিজেই বিশ্বাস করতে পারল না। মৃত্যুর প্রায় ৪০ বছর  পর ভোটার তালিকার ১৯০ বিধানসভা কেন্দ্রের ২০৯ নং অংশে আবার তাঁর মায়ের নাম। তালিকায় স্বামীর নামের জায়গায় দিব্বি রয়েছে মৃত বাবা সুধীর বর্মনের নাম। একই রয়েছে বাড়ির নম্বর। কিন্তু মিঠুবাবু তার মায়ের পাশে থাকা ভোটার লিস্ট এর ছবি দেখে কার্যত চমকে ওঠে  কারণ, ছবিটি তাঁর বাবার দ্বিতীয় পক্ষের বউ ওরফে মিঠুবাবুর সৎ মায়ের।

মিঠুবাবু জানান, তাঁর মায়ের মৃত্যুর দু’‌বছর পর তাঁর বাবা আবার বিয়ে করেছিলেন। সৎ মায়ের নাম মায়ারানি বর্মন। বিষয়টি খোঁজ নিতে তিনি জেলার নির্বাচনী কার্যালয় এর অফিসে যান। সেখানকার তথ্য অনুযায়ী তিনি দেখেন ভোটার কার্ডের নম্বরটাও এক শুধু পরিবর্তন করা হয়েছে নামটি। ২০১৫ সালের ভোটার তালিকায় দেখা যায় নাম রয়েছে মায়ারানি বর্মন। অথচ ২০১৮ সালে সেই নাম পরিবর্তন করে যূথিকা বর্মন করে ফেলা হয়েছে।

আবার সম্পত্তির অংশে সরকারি রেকর্ডে সৎ মায়ের আসল নাম দেওয়া রয়েছে। এটাই মিঠুর সন্দেহ হয়। খোঁজ নিয়ে দেখেন তার মায়ের নাম নকল করে তোলা হচ্ছে পেনশন এর টাকা! তারপরই পরিষ্কার হয় পুরো ব্যাপারটি।

মিঠুবাবুর অভিযোগ, তাঁর বাবার অবর্তমানে সৎ মা পেনশন পেলে তাঁর আপত্তি নেই। তবে  তাঁর মৃত মায়ের নাম ভাঁড়িয়ে পেনশন তোলায় আপত্তি রয়েছে তার। অভিযোগ, শুধুমাত্র পেনশনের লোভেই এই কাজ করছেন তাঁর সৎ মা। মিঠুবাবুরা চার ভাই। সকলে একমত হয়ে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে চুঁচুড়া থানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো অভিযোগ নেয়নি পুলিশ। বাধ্য হয়ে তিনি পরিবহণ দপ্তরের যেতে বাধ্য হন। সেখানে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। একইসঙ্গে শুক্রবার সদর মহকুমা শাসক অরিন্দম বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানান বলে জানা গেছে!

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.