Header Ads

আবেদনকারীদের কেউই আর প্রাথমিকে শিক্ষকতার যোগ্য নয়! আদালতে ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার।

নজরবন্দি ব্যুরো: গিয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন? রিপোর্ট তো দেখে মনে হচ্ছে ঘরে বসে বানানো। শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় এই মর্মেই পশ্চিমবঙ্গকে সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনার মুখে পড়তে হল। সেই মতো নতুন করে প্রতিটি চাকরি প্রার্থীর বিস্তারিত পরিচয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতা আগামী ৩ মে’র মধ্যে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিল বিচারপতি ক্যুরিয়ন জোসেফ, বিচারপতি নবীন সিনহা ও বিচারপতি এম সান্তনাগৌড়ার বেঞ্চ।
রাজ্যে পাঠশালা প্রথা উঠে যাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে অনেকে প্রাথমিকে শিক্ষকতার চাকরি পেলেও, পড়ে থাকেন অনেক শিক্ষক। তাদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা সহ একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠে। সেই মতো কয়েক হাজার শিক্ষক চাকরির দাবিতে আদালতের মামলা করেন।
প্রথমে হাইকোর্ট,পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন সংগঠক শিক্ষকরা। ২০০৮ সাল থেকে এই মামলা চলছে বলে জানা গিয়েছে। কাদের-কাদের যোগ্যতা আছে, তা বাছতে তিন সদস্যের একটি ‘ভেরিফিকেশন কমিটি’ গঠনের জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ওই নির্দেশিকাতে বলা হয়, প্রাথমিকে শিক্ষকতার চাকরির ক্ষেত্রে এদের অগ্রাধিকার দেওয়া যায় কি না, সেটাও দেখবে রাজ্য। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার রিপোর্ট তৈরি করে জমাও দেয়। যেখানে জানানো হয়, আবেদনকারীদের কেউই আর প্রাথমিকে শিক্ষকতার যোগ্য নয়।
আর সেই রিপোর্ট দেখেই বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত।
বিচারপতি নবীন সিনহা রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, রিপোর্টটা আপনি পড়েছেন? এভাবে কোনও ভেরিফিকেশন কমিটি রিপোর্ট দিতে পারে? এ তো দেখেই বোঝা যাচ্ছে ঘরে বসে বানানো। সর্বোচ্চ আদালতের এই প্রশ্নের মুখে পড়ে চুপ করে থাকে রাজ্যের আইনজীবী।

অপরদিকে,  আবেদনকারী সংগঠক শিক্ষকদের আইনজীবী বলেন, রাজ্য সরকারের অবহেলায় কয়েক হাজার চাকরি প্রত্যাশীর ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। রাজ্য আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেয়নি। বেঞ্চ তখনই রাজ্যকে নতুন করে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেয়। 

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.