Header Ads

সাভারকরকে 'বীর' বানানোর অপচেষ্টা বন্ধ করুক বিজেপি! সংসদে ফের সরব ঋতব্রত।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ আন্দামান সেলুরার জেল দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আজও সেলুরার জেলের কুঠুরি গুলো দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মরণ জয়ী লড়াইয়ের বীর গাথার কথা জানান দেয়। এই সেলুরার জেলের বন্দী বীরেরা অধিকাংশই ছিলেন অবিভক্ত বাংলার।
তবে উল্লাসকর দত্ত, বারীন ঘোষ প্রমুখ বিপ্লবীরা কোন সেল এ থাকতেন তা জানার কোনো উপায় না থাকলেও ব্রিটিশদের কাছে মুচলেকা দেওয়া সাভারকারের তথাকথিত সেলটি ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রদর্শিত। সেলের বাইরে লেখাও রয়েছে যে এই সেলটিতে সাভারকারকে রাখা হয়েছিল যাতে তিনি নাকি সরাসরি ফাসিঁঘরে ফাঁসি দেখতে পান। তার মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্যেই ব্রিটিশ সরকার এটা করেছিল। সন্ধ্যে বেলার লাইট এন্ড সাউন্ড শো-তেও সাভারকারের সেই ফাঁসি দেখানোর গল্প শোনানো হয়। এক কথায় সেলুরার জেল আলো করে রয়েছে ব্রিটিশদের কাছে মুচলেকা দেওয়া " বীর সাভারকারে"র মূর্তি। অথচ সেখানে মেলে না দেশের জন্য আত্মবলিদান করা অন্যান্য বিপ্লবীদের সম্পর্কে তথ্য।

দেশের স‌ৎস্কৃতি মন্ত্ৰালয়ের কাছে গত কয়েকটি অধিবেশন ধরেই প্রশ্ন তুলে আসছেন সাংসদ ঋতব্রত। তিনি জানতে চেয়েছেন, ১৯১০ থেকে ১৯২১ পর্যন্ত আন্দামান সেলুরার জেলে কতজন বিপ্লবীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে? প্রতিবারই উত্তর আসছিল যে মন্ত্ৰালয় তথ্য সংগ্রহ করছে। এই অধিবেশনেও একই প্রশ্ন করলে জবাব মেলে, ১৯১০ থেকে ১৯২১ পর্যন্ত আন্দামান সেলুরার জেলে কোনো বিপ্লবীকে ফাঁসি দেওয়া হয়নি।

কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯১০ থেকে ১৯২১ আন্দামান সেলুরার জেলে কোনো ফাঁসিই হয়নি। আর সাভারকর জেলে ছিলেন ১৯১১ থেকে ১৯২১ সাল অবধি। তাহলে তিনি ওই সেল থেকে ফাঁসি দেখতেন কি করে? তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে সাভারকরকে মহিমান্বিত করার জন্যেই কি ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানো হয়েছে? একটি নির্দিষ্ট সেলকে কেন্দ্র করে গল্পগাথা এবং লাইট এন্ড সাউন্ড এ প্রতিদিন মিথ্যাচার হচ্ছে?
ঋতব্রত দাবি করেন, "ব্রিটিশদের সেবাদাস, তাদের কাছে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পাওয়া সাভারকরকে গৌরবান্বিত করে "বীর" বানাবার যে চেষ্টা আরএসএস এবং বিজেপি চালিয়ে যাচ্ছে সেই অপচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ হোক।" তাঁর আরও দাবি, এক্ষুনি সংশোধন করা হোক সাভারকারের জন্য নির্দিষ্ট সেলের বাইরের প্রদর্শিত ইতিহাস এবং লাইট এন্ড সাউন্ড শো-এর চিত্রনাট্য।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.