Header Ads

পঞ্চায়েত জয়ের মন্ত্র শেখাবেন মমতা! 'নেই রাজ্যে'র বাসিন্দারা ভুলবেন তো সেই মন্ত্রে?

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ত্রিপুরায় ২৫ বছরের বামেদের ঘাঁটি থেকে উচ্ছেদ করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এই মুহূর্তে দেশের ২১টি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। স্বভাবতই আত্মবিশ্বাসে ফুটছে গেরুয়া শিবির। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ত্রিপুরায় বাম সরকারের পতনকে একটু গভীর ভাবে আলোচনা করলে অতীতের একটি স্মৃতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মিল খুঁজে পাওয়া যায় অনেক কিছুতেই। ২০১১ সাল। এরাজ্যের ক্ষমতায় তখন বাম সরকার। বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের সাথে আঁতাত করে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করলো তৃণমূল সরকার। রাজ্যে বামেদের ভরা বাজারে বাম ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসিয়ে সিংহাসনে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার আসা যাক ২০১৮ ত্রিপুরার বিধানসভা ভোটে। এখানেও বাম দুর্গে আঘাত হেনে জনগণের সমর্থনে রাজ্যের মসনদে বসলো বিজেপি।



মনে হতেই পারে যে এই দুটি বিষয়কে কেন এই আলোচনা প্রসঙ্গে আনা হল। এক্ষেত্রে বলতে হয়, ২০১১ এবং ২০১৮ তে দুটি ভিন্ন রাজ্যে লাল পতাকা অধ্যুষিত ভোটব্যাঙ্কে ধ্বস নামিয়ে রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বহু দূরে থাকা দুটি দল প্রবেশ করে ক্ষমতার অলিন্দে। এই তত্ত্বকে যদি আগামি পঞ্চায়েত নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া যায় তাহলে বর্তমানে এরাজ্যে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলের গদি কতটা নিরাপদ সেই নিয়ে সন্দেহ ওঠে বৈকি। তার ওপর শিক্ষক নিয়োগ সহ একাধিক নিয়োগ নিয়ে সমস্যায় জর্জরিত রাজ্য সরকার। ২০১৪ সালের পর থেকে রাজ্যে আর প্রায় নিয়োগ হয়ই নি।
সরকারি কর্মীদের ডিএ-র দেখা নেই।




সব মিলিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন রাজ্যের চাকরি হীন যুবসমাজ। আর এই ক্ষোভ যে ঘাসফুলের ভোটব্যাঙ্ককে টলিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট তা বুঝতে বাকি নেই শাসক দলেরও। আর সেই কারণেই আজ তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকে পঞ্চায়েত ভোট জয়ের চাবিকাঠি বাতলাবেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, রাজ্য ও জেলাস্তরের পাশাপাশি বুথ স্তরের নেতাদের এই বৈঠকে ডাকা হয়েছে। পঞ্চায়েত ভোটে কিভাবে বিরোধীদের মোকাবিলা করে ক্ষময়া কায়েম করা যায় তার পরামর্শ দেবেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো।

তবে এতকিছুর পরেও প্রশ্ন উঠছে, এইসব থিওরি আদৌ কাজে দেবে তো? যে রাজ্যে লক্ষ লক্ষ যুবক যুবতী চাকরির পরীক্ষায় পাশ করেও বেকার তকমা গায়ে লাগিয়ে ঘুরতে বাধ্য হন, যেখানে বঞ্চনার প্রতিবাদে ও নিয়োগের দাবিতে অনশন মঞ্চে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েন হবু শিক্ষকরা, সরকারি কর্মচারীরা যেখানে তাদের প্রাপ্য বর্ধিত বেতন থেকে বঞ্চিত হন দিনের পর দিন সেরাজ্যে কোনো গোপন চাবিকাঠিই কি ভোট জয়ের দরজা খুলে দিতে পারে? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.