Header Ads

কর্নাটক জিততে হবে, সেই প্রচলিত ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি! মৃত্যুর দাম যখন ১০ বা ৫০ লক্ষ!!

সুদীপ বল, ব্যাঙ্গালোর: ভোটের দিনক্ষন এখনও ঘোষনা না হলেও আগামী রবিবার প্রথম দফায় কংগ্রেস শাসিত কর্নাটক রাজ্যে ভোট প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তার আগে শাসক দলের হামলায় এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। সেই মৃত্যু নিয়ে ভোটের ময়দানে যাতে বিজেপি এক ইঞ্চি জমি ছিনিয়ে নিতে না পারে। সে জন্য মৃতর পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপুরন দেবার শাসক দল আশ্বাস দিলেও তা মানতে নারাজ বিজেপি। তাদের দলের তরফে ৫০ লাাখ টাকা ও তার স্ত্র্রীকে চাকরি দাবি জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক সংঘর্ষের কারনে মৃত্যুর জন্য সরকার মৃতর পরিবারকে ক্ষতিপুরন বাবদ টাকা দিচ্ছে। তাও আবার এক বা দুই লক্ষ নয় হাতে গুনে দশ লক্ষ টাকা। একথা আমরা বঙ্গবাসী উচ্চারন করা তো দূর কখনও কল্পনা করাও সম্ভব নয়। তাও আবার এই জামানায়।
যেখানে পশ্চিমবঙ্গ নামক বঙ্গ সংষ্কৃতির মরুদ্যানে আমরা প্রতিদিন রাজনৈতিক হামলার শিকার হয়ে কোন না কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী বা সমর্থকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখছি। সেখানে ক্ষতিপুরন বাবদ টাকা দেওয়াতো দুরের স্থান। শাসক দলের হলে নেতা মন্ত্রীদের মৃতের বাড়িতে গিয়ে সান্তনা জানিয়ে আসাটাই রেওয়াজ। আর বিরোধী হলে অতি সহজেই তাদের এলাকার সমাজ বিরোধী আখ্যা দিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার সহজ রাস্তাটাই আমরা দেখতে অভস্ত্য।

ঘটনার সুত্রপাত গত ১২ জানুয়ারী ব্যাঙ্গালোরের জেসি নগর এলাকার চিন্নাপ্পা গার্ডেন মহল্লায় বিজেপি র ডাকা বিবেক জয়ন্তি পালনকে ঘিরে। ওই মহল্লার বিজেপির বুথ কমিটি সেক্রেটারি পেশায় অটো চালক ২৮ বছরের যুবক সন্তোষ এলাকার অলি গলিতে বিবেক জয়ন্তী পালনের জন্য ফ্ল্যাগ ফেস্টুন লাগিয়ে ছিল দিনভর।কিন্তু দুপুর গড়াতে না গড়াতেই খবর আসে এলাকার ব্লক কংগ্রেসের ছেলে ওয়াসীম ও খাদের এবং তাদের আরও চার সঙ্গী মিলে সেই পোস্টার ফ্ল্যাগ, ব্যানার গুলো ছিঁড়ে দিচ্ছে।

এই খবর পেয়ে সন্তোষ ঘটনাস্থলে গিয়ে এর প্রতিবাদ জানায়। তাদের মধ্যে এক প্রস্থ ঝগড়াও হয় এই নিয়ে। এর পরেই সন্তোষ পুলিশের কাছে গিয়ে ওই কংগ্রেস নেতার ছেলে সহ চারজনের নামে অভিযোগ জানালে। পুলিশ প্রথমে তাকে চমকে ধমকে ফিরিয়ে দেয়। পরে চাপে পড়ে পুলিশ তার অভিযোগ নিলেও পালটা সন্তোষের বিরুদ্ধেও মামলা করে বলে বিজেপির অভিযোগ। এই নিয়ে এলাকায় দুই দলের মধ্যে হামেশাই উত্তেজনা চলছিল।

গত বুধবার রাত্রে সন্তোষ যখন তার এক আত্মীয়ের জন্মদিনের নিমন্ত্রন সেরে বাড়ি ফিরছিল সেই সময় তাকে ওই ব্লক কংগ্রেস নেতার ছেলে ওয়াসীম ও তার দলবল তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে আক্রমন চালায়। ওয়াসীম স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে ক্রুর ভাবে সন্তোষের তলপেটে বার বার আঘাত করতে থাকে বলে অভিযোগ। অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলে পরে স্থানিওরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্তোষকে মৃত বলে ঘোষনা করে।

রাজনীতির ঘনঘটায় ভোটের মুখে তা হিন্দুত্বের উপর আক্রমন হিসেবে চালানোর চেষ্টা চলে। সন্তোষের পরিবারের পক্ষ থেকে নিরেপেক্ষ তদন্ত সংস্থা দিয়ে তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি সন্তোষের পরিবারকে ক্ষতিপুরন বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা ও তার ছয় মাসের স্ত্রীকে চাকরির দাবি পুরন না করা অবদ্ধি তার মৃতদেহ নিতে অস্বিকার করা হয়।যদিও ভোটের মুখে বিষয়টি ক্রমশই জটিল আকার ধারন করছে দেখে কংগ্রেস ও আসরে নামে।এরপরেই ব্যাংগালুরু পুলিশ কমিশনার টি সুনীল কুমারের আশ্বাস মেলায় মৃতদেহ স্যতকারের জন্য নিয়ে যায় মৃতের পরিবার।কিন্তু বিকেলে রাজ্য সরকারের তরফে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রামলিংগ রেড্ডি দশলক্ষ টাকা ক্ষতিপুরনের কথা জানালে আবারও দুই যুযুধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে উত্তেজনার পারদ তুংগে ওঠে।

এর মধ্যেই আগামী কাল রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি এখানে জনসভা করবেন। মোদী কি ববলেন সে দিকে যেমন কংগ্রেস নেতৃত্ব নজর রেখখে চচলবে। পাশাপাশি তাদের দলের ননেতা ও যে আগামী সপ্তাহে পালটা হিসেবে শহরে আসছে তারো প্রচার চালাতে পিছিয়ে নেই কংগ্রেস দল।

গুজরাটে যেমন বিজেপি কে বেগ দিয়েছে কংগ্রেসের সদ্য নিযুক্ত হাই কমান্ড রাহুল গান্ধী। কর্নাটকেও তাদের নেতা তার চেয়ে ও বেশি নিশানা করবে বিজেপিকে বলে রাজ্য কংগ্রেসের দাবি।

রাজনৈতিক মহলের দাবি ইতিমধ্যে কংগ্রেস শাসিত কর্নাটকে কংগ্রেস দল অনেকটাই বিজেপির চেয়ে এগিয়ে আছে তাদের নানা জনমোহিনি নীতি নিয়ে। ৫ টাকায় সকালের পেটপুরে জলখাবার আর দুপুরের আহার মাত্র ১০ টাকায় ইন্দিরা ভোজনা লয় চালু করে পায়ের তলায় অনেকটাই ২২৪ আসনের কর্নাটক বিধানসভার ক্ষেত্রে জমি কংগ্রেস শক্ত করে নিয়েছে বলে দাবি।

যদিওইতিমধ্যে কংগ্রেসের অন্দরমহলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু ক্ষোভ ও ভোটার লিস্ট বেরোবার মুখে তিন জেলার ডেপুটি কালেকটরকে বদলি করেও পরে তা ইলেকশন কমিশনের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে সেই বদলির আদেশ ফেরত নেওয়া ও বিজেপির হিন্দুত্ব নিয়ে জিগির তোলার একটু চাপের মধ্যেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.