Header Ads

ডিএ- বেতন বৃদ্ধি নয়, বেতন কমানো রোধ! ডিএ আপনার অধিকার! পড়ুন বিশেষ প্রতিবেদন।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডিএ দেওয়া নিয়ে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত জটিলতা রাজ্য জুড়ে। বর্তমানে এই নিয়ে মামলা রয়েছে হাইকোর্টে। রাজ্য সরকারের তরফে ডিএ না দেওয়ার যুক্তি হিসেবে বিভিন্ন কারণ দেখানো হয়েছে। কখনো বা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল দাবি করেছেন যে সরকারি কর্মীদের কোনো ডিএ নাকি বাকি নেই। আবার কখনো বলা হয়েছে ডিএ দিতে বাধ্য নয় রাজ্যের সরকার। এই বিষয় বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় ডিএ কি এবং তা কেন দেওয়ার রীতি রয়েছে রয়েছে চাকরির ক্ষেত্রে।
ডিএ হল ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্স বা মহার্ঘ ভাতা। বাজার মূল্যের নিরিখে বাড়ানো হয় এই ভাতা। আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে বলা যায়, ডিএ দেওয়া আসলে সরকারি কর্মীদের মাইনে বাড়ানো নয়, বরং মাইনের কমে যাওয়াকে রোধ করা। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলিতে তো কর্মীরা ডিএ পান না। বাজার দর বাড়লে তাদেরও তো সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মীদের অ্যানুয়াল অ্যাপ্রেইজাল বা বেসিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার রীতি রয়েছে। সরকারি চাকরিতে ইনক্রিমেন্ট মানে শুধুই অভিজ্ঞতার দাম। তার সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক থাকে না। তাই ৫ বছর আগে কোনো ব্যক্তি ন্যূনতম অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় যে বেসিক পে পান ৫ বছর পর একই যোগ্যতায় একজন নতুন যোগ দেওয়া কর্মচারীও সেই বেসিক পে-ই পান। অপরদিকে বেসরকারি ক্ষেত্রে তা হয়না। বেসরকারি ক্ষেত্রে ৫ বছর আগে যে মাইনেতে একজন নতুন অনভিজ্ঞ কর্মচারীকে চাকরিতে নেওয়া হয়, ৫ বছর পরে সেই একই চাকরিতে একই যোগ্যতাসম্পন্ন কাউকে নিতে গেলে সাধারণত কোম্পানীরা বেশি মাইনে অফার করতে বাধ্য হয়। তাই তাদের আলাদা করে মহার্ঘভাতা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

তাহলে বলাই যায়, আসলে বেসরকারি কর্মীরাও DA পান কিন্তু যেহেতু সেই টাকাটা প্রতি নিয়ত মূল বেতনের সঙ্গে জুড়ে যেতে থাকে আর তাকে আলাদা করে রেখে আলাদা নামে ডাকা হয় না। বেসরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত যে ঘটনা ঘটতে থাকে অর্থাৎ মূল বেতনের সঙ্গে মহার্ঘ্যভাতার মিশে যাওয়া, সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তা-ই ঘটে দশ বারো বছর পর পর যখন বেতন কমিশনের রিপোর্ট কার্যকর করা হয়। তাই বেতন পুনর্বিন্যাসের ব্যাপারে বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মচারীরা সরকারি কর্মচারীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে একথা বলাই যায়। অর্থাৎ এই মুহূর্তে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাজার মূল্যের নিরিখে কমে গেছে। অনেক কম মূল্যে শ্রম দিতে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের। এক্ষেত্রেও আইন অমান্য করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তার কর্মচারীদের বঞ্চিত করে।

রাজ্য সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ার একেবারে খালি। এই দৈন্যের কারণেই নাকি সম্ভব হচ্ছে না ডিএ দেওয়া। বাস্তব পরিস্থিতি তা-ই যদি হয় তাহলে সরকারি কর্মীদের আকর্ষণীয় ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট স্কীম অফার কেন করছে না? এক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচ হবে অনেকটাই। কিন্তু সে পথে হাঁটছে না রাজ্যের সরকার। রাজ্যের ভাঁড়ার শূন্য একথা নিয়েও রয়েছে একাধিক বিরোধী যুক্তি। রাজ্য সরকারের যদি ভাঁড়ে মা ভবানী হয় তাহলে ক্লাব গুলির পেছনে এভাবে দেদার খরচা কি করে করছে সরকার? দান-খয়রাতিতে চলছে মহোৎসব। তাহলে ডিএ-র বেলাতেই কি শুধু টাকা নেই সরকারের? প্রশ্ন তুলছেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা।

তাই, সবশেষে একথা বলাই যায়, ডিএ রাজ্য সরকারের দয়ার দান কখনোই নয়। বরং তা তাদের প্রাপ্য, যা দিনের পর দিন আটকে রেখে সরকারি কর্মীদের বঞ্চনা করছে সরকার। বাজার মূল্য যেহেতু নির্ধারণ করে সরকার তাই সেই বর্ধিত বাজার মূল্যের সাথে তাল মিলিয়ে জীবনযাত্রার মান যাতে একই থাকে সেই দিকে নজর রাখাও সরকারেরই কর্তব্য। তাই সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার যে মামলা আদালতে রয়েছে তা সর্বতোভাবে যুক্তিসংগত।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.