Header Ads

সব মা - ই- সমান। সে মানুষ হোক বা ভয়ংকর কোন প্রানী! অবশ্যই পড়ুন

সুদীপ বল, ব্যাংগালুরু: সব মা - ই- সমান। সে মানুষ হোক বা ভয়ংকর কোন প্রানীই হোক। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা যে সবাই ভাবে। তার আরও একবার প্রমান পাওয়া গেল। যখন গত বুধবার রাত্রে কর্নাটকের চামারাজানগর জেলার গুন্ডলুপেট এলাকায় জঙ্গল ছেড়ে এক গৃহস্থের বাড়িতে এসে বিষাক্ত এক সাপ আশ্রয় নেবার চেষ্টা করে।
কিন্তু শত হলেও তো সে সাপ। তাও আবার বিষাক্ত। তা ছাড়া জানার তো উপায় নেই এত রাত্রে কেন সে জঙ্গল ছেড়ে এসে গৃহস্থের বাড়িতে আশ্রয় নিতে চাইছে। যথারীতি বাড়ির মালিক মহাদেবাপ্পা সহ বাড়ির অনান্য লোকজন সাপ টিকে তাদের বাড়ির বারান্দার মধ্যে ঘোরা ফেরা করতে দেখে হৈচৈ জুড়ে দেয়। চিৎকার শুনে পাড়ার অনান্য বাসিন্দারা ছুটে আসে।
বাসিন্দাদের মধ্যেই একজন জেলার সাপ ধরার বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাত সশি বাবু কে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়েই সাপ টিকে আক্রমনকারীদের হাত থেকে বাঁচাতে ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে।
সাপটি ততক্ষনে নিজেকে বাচাতে বারান্দা থেকে শোবার ঘরে ঢুকে পড়েছে। বাড়িতে ঢুকেই সাপ ধরার বিশেষজ্ঞ সশি বাবু সবাইকে সাপটির আশ পাশ থেকে সরিয়ে দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার সাহায্য খালি হাতে ওই বিষাক্ত সাপটিকে ধরে ফেলেন। পরে একটি বড় প্ল্যাস্টিকের বোতলে তাকে বন্দি ও করে ফেলেন।

সর্প ধরার বিশেষজ্ঞ সশি বাবু ভেবেছিলেন রাতটা সাপটিকে বোতল বন্দি রেখে পরের দিন সকালে এলাকার সোমাহল্লি ফরেস্টে ছেড়ে আসবেন। সেইমত বিষাক্ত সাপ বন্দি বোতলটিকে তিনি সঙ্গে করে নিজের সর্প রেস্কিউ সেন্টারে নিয়ে ফিরে আসেন।
বৃহষ্পতিবার সকালে ওই সর্প ধরার বিষারদ সশি বাবু যখন বোতলবন্দি সাপটিকে সোমাহল্লি ফরেস্টে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেবার জন্য তার রেস্কিউ সেন্টারে গিয়ে উপস্থিত হলেন। তখন তিনি আশ্চার্য্য হয়ে দেখতে পান বোতলের ভিতর ৭০ টি ডিম পেড়ে সাপটি ডিম গুলিকে আগলে রয়েছে।আর তখনি তিনি বুঝতে পারেন সাপটি কেন জঙ্গল ছেড়ে গতকাল ওই গৃহস্থের বাড়িতে এসে নিরাপদ আশ্রয় নিতে চেয়েছিল। এরপরেই সর্প ধরার বিশেষজ্ঞ সশি বাবু যোগ করে বলেন মাতৃ টান হয়তো একেই বলে। সন্তানের জন্ম থেকে তার সুরক্ষার বিষয় টি মানুষ সহ সব প্রানীর মায়েদের মধ্যেই রয়েছে। তা এই ঘটনা থেকেই আবারও প্রমান পাওয়া গেল।

সর্প ধরার বিষারদ সশি বাবু জানান এই অবস্থায় ডিম সুদ্ধ সাপ টিকে জংগলে ছেড়ে দিলে ডিম গুলো ভেঙে গিয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এই মুহুর্তে সাপটিকে জংগলে ছেড়ে আসা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন সাধারনত ডিম গুলি তা দিয়ে ফুটিয়ে উঠতে ষাট থেকে সত্তর দিন লাগবে সাপটির। তারপর বাচ্চা সহ সাপটিকে ফরেস্টে ছেড়ে আসা হবে। ততদিন ডিম সহ বিষধর সাপ টিকে এই রেস্কিউ সেন্টারে যত্ন সহকারে রেখে দেওয়া হবে।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.