Header Ads

৮০ কোটির প্রতারণায় বন্ধ ব্যাঙ্ক! চরম অবস্থায় বহু কর্মচারী ও কয়েক হাজার গ্রাহক।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ রামকৃষ্ণপুর কোঅপারেটিভ ব‍্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সমবায়মন্ত্রী অরুপ রায়কে দীর্ঘ ১০ বছর বন্ধ থাকা এই ব‍্যাঙ্কের কর্মচারী ও গ্রাহকদের স্বার্থে ডেপুটেশন দেওয়া হলো। তিনি তা গ্রহণ করেছেন। ডেপুটেশন দিতে যাওয়া হয়েছিল হাইকোর্ট নিযুক্ত Revival & Recovery Committee " কে। কিন্তু কমিটির সদস‍্যরা তা গ্রহণ করেন নি। এই ব‍্যাঙ্ক দীর্ঘ ১০ বছর বন্ধ থাকার ফলে এই ব‍্যাঙ্কের প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহক তাদের এই ব‍্যাঙ্কে গচ্ছিত টাকা তোলার ক্ষেত্রে বঞ্চিত, এবং ৬০ জন কর্মচারী তাদের মাসিক মাহিনা থেকে বঞ্চিত। কর্মচারিদের পরিবার আজ চরম অর্থকষ্টের মধ‍্যে দিন কাটাচ্ছে। ১০ বছর বন্ধ থাকা অবস্থায় নিজের সংসার বাঁচানোর জন‍্য কিছু না কিছু করে সংসার চালাচ্ছিলো। কিন্তু এই কভিড ১৯ লকডাউনের এর ফলে সারা পৃথিবীতে অর্থনৈতিক সংকটে তৈরি হয়েছে।
ইউনিয়নের কর্মীদের অভিযোগ, "আমাদের কর্মচারিদের অনেকেরই চাকরি চলে গেছে যেটা তারা করে সংসার চালাচ্ছিল। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হবার মুখে। এই অবস্থায় এই ব‍্যাঙ্ক যদি খোলে তাহলে কর্মচারিদের পরিবার বাঁচবে।" উল্লেখ্য, এই ব‍্যাঙ্ক গত ৩রা আগষ্ট ২০১০ তারিখে বন্ধ হয়। অভিযোগ আর্থিক তছরুপ। রিজার্ভ ব‍্যাঙ্ক ২০০৯ সালের ২৬শে আগষ্ট এই ব‍্যাঙ্কের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে। তারপর ১৭ই জুন ২০১০ তারিখ এই ব‍্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করে।অথচ এই এই ব‍্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৮০ কোটি টাকা। রাজ‍্যসরকার যদি এই ব‍্যাঙ্কের জন‍্য ৭০ কোটি টাকা না দেয় এই ব‍্যাঙ্ক খুলবে না। রিজার্ভ ব‍্যাঙ্ক এই ব‍্যাঙ্কের লাইসেন্স ফেরৎ দেবে না। এই ব‍্যাঙ্কের গ্রাহকদের সাথে কর্মচারী ইউনিয়ন আদালতের দ্বারস্থ হয় ব‍্যাঙ্ক খোলার দাবী নিয়ে। পূর্বতন বাম সরকারের আমলে ৫০ কোটি টাকা দেবার পরিকল্পনা নেওয়া হয় এই ব‍্যাঙ্ক বাঁচানোর জন‍্য। কর্মচারিরা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই ব‍্যাঙ্ক পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছেন।
৩ জনের একটা কমিটি কোর্ট তৈরী করেছে। তারা ব‍্যাঙ্কে আসছে। হাইকোর্ট তার অর্ডারে পরিষ্কার করে উল্লেখ করেছেন যে কমিটি যদি মনে করে কর্মচারী গ্রাহক অথবা এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব‍্যক্তিদের সাথে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু কমিটি কোনো আলোচনা এখনও পর্যন্ত করেনি। ব‍্যাঙ্কের লোন আদায়ের কথা কোর্ট বলেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কত টাকা লোন এখনও পর্যন্ত আদায় হয়েছে তার রিপোর্ট কোর্টে জমা দেয় নি বা লোন আদায়ের জন‍্য কি কি পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে তার কোনো রিপোর্ট কোর্টে জমা দেয়নি। শুধুমাত্র secured loan অর্থাৎ Gold loan/ property mortgage loan/ kvp nsc loan এর অনাদায়ী লোনের টাকা ব‍্যাঙ্কে জমা দিয়ে তাদের গচ্ছিত জিনিস নিয়ে গেছে। কিন্তু আর কোনো কাজ এগোয় নি আমাদের দাবি যে ৪০ হাজার গ্রাহক ও ৬০ জন কর্মচারিদের স্বার্থে ব‍্যাঙ্ক খুলতে হবে। কারণ অনেক কষ্ট করে এই ব‍্যাঙ্কে টাকা জমা করেছিলো। আজ তারা অসহায় হয়ে পড়েছে। ব‍্যাঙ্ক থেকে তারা প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারছে না। কর্মচারীরা ব‍্যাঙ্ক বন্ধ হবার ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের এখন অন‍্যকিছুভাবে সংসার চালাতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২ জন কর্মচারী মারা গেছেন টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করতে না পেরে। অনেক গ্রাহক মারা গেছেন ব‍‍্যাঙ্কে টাকা থাকা সত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করতে না পেরে। সুতরাং ব‍্যাঙ্ক খুলতে হবে মানুষের স্বার্থে।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.