Header Ads

বাংলার বাইরে ওদের খবর পাঠান, ওদের বাংলা ভালো নেই |

ময়ূখ রঞ্জন ঘোষঃ যে এক বর্ণ বাংলা বোঝেনা, আলটপকা টুইট করে, কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা করছে বাঙালির সাথে মিশে যেতে, সে মানে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার ৫০লাখ টাকা ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে দিয়েছেন। রাজ্যের মারোয়ারী সমাজ ও নেমে পরেছে অর্থ সংগ্রহে। শেফ বিকাশ খান্না এক লাখ খাবারের প্যাকেট পৌঁছে দেবেন ঠিক করেছেন বাংলার বিভিন্ন এলাকায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাঁচ কোটি টাকা দান করছেন৷ কিন্তু এবার আমাদের হাত পাততে হবে বাকিদের কাছে। মোবাইলের কনট্যাক্ট লিস্ট দেখুন। গোটা পৃথিবীতে বাঙালি ছড়িয়ে।বাঙালি নয় কিন্তু বাঙালি হয়ে গেছিল ভাতে মাছে এরকম তামিল তেলেগু, বিহারি, মারোয়ারী যারা ছড়িয়ে। যারা বাংলাকে আজীবন ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ওদের কাছে পৌঁছতেই হবে আমাদের ক্ষয়ক্ষতির হিসেব নিয়ে। মমতা বন্দোপাধ্যায় একা এটা পারবেন না।
 খবর পাঠান অমিতাভ ঘোষকে। হাংরি টাইড ভালো নেই, সুন্দরবন ভালো নেই৷ যাদবপুরে যার পৈতৃক ভিটা সেই ঝুম্পা লাহিড়ীকে জানান, বাংলার ক্ষত এখন ঠিক কতখানি। প্রবাসী মনকাতর বাঙালিকে জানান ওদের প্রয়োজন এখন ঠিক কতোখানি৷ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দোপাধ্যায় আরো কয়েকজন নোবেলবিজয়ীকে আপিল করতে বলুন না। আচ্ছা গোটা পৃথিবীর যে বিশাল বিশাল কোম্পানির সিইওরা বাঙালি, তাদের কাছে মলিন রাজ্যবাসী হয়ে যাওয়া যায় না? বলা যায় না, " চিনতে পারছো বাবু, আমি তোমার শিকড় বলছি। তুমি দুর্গা পুজোর সময় আসতে আমার কাছে। বুড়ির চুল আর এগরোল খেতে ঠাকুর দেখে। ওই চারদিন মা ও কিচ্ছু বলতো না। চিনতে পারছো? আমি খুব অসুস্থ বাবু"। বিশ্বাস করুন বাংলার বাইরে কাজ করে আমি বুঝেছি বাংলা নিয়ে অবাঙালিদের ও আবেগ কতোখানি৷ দিল্লিতে বাঙালি শুনে পাঞ্জাবী ট্যাক্সি ড্রাইভার বলেছিল ভাড়া নেবো না। কারণ আমি নাকি সেই রাজ্যের লোক যেটা ওর সেকেন্ড হোম। মুম্বাইয়ে ঘোষ পদবি শুনে এক এক আগ্রওয়াল চোস্ত বাংলাতে বলেছিল, "দাদাভাই আমি ও বাঙালি তবে নিরামিষাশী। আমি ওল্ড মংক আর আলুভাজা খাই"। বিশ্বাস করুন আমি এরকম আইয়ার ব্রাহ্মণকে চিনি যে প্রতিবছর অপেক্ষা করে থাকে কবে অষ্টমির অঞ্জলি দিয়ে আরসালে বিরিয়ানি প্যাদাবে। ওরা আসবে, অভিমানিনীকে মানাতে ঠিক আসবে ওরা। অনেকে তো বাংলা পড়ে ও৷
ঠিক গলার কাছে দলা পাকাবে। ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে পড়বে। বাংলা কি মুখার্জি ব্যানার্জি ঘোষ বোস মন্ডল সাহার নাকি? এই বাংলা সিরাজুদ্দৌলার, এই বাংলা আন্টনি ফিরিঙ্গির, মাদার টেরিসা আর রোনাল্ড রসের। এর শ্বাস প্রশ্বাস জুড়ে আছে পাঞ্জাবী আর বিহারির সহাবস্থান । এর শিরায় শিরায় আফতাব আর অনাদির নকশিকাঁথা। এই বনস্পতির ছায়াতেই তো কতো হাজার জ্যোতিস্ক বেড়ে উঠেছিল তারপর উড়ে গেছিল। বাংলা বৃদ্ধাশ্রম হয়ে ঠিক অপেক্ষারত ছিল মায়ের মতো। " এসেছিস বাবা। আয় ফ্যানের তলায় বোস। সরবত এনে দিচ্ছি ঘামটা শুকোক। দুপুরে তোর প্রিয় মাছটা রাঁধা। বাবাকে বলেছিলাম সকাল সকাল বাজার করতে। বিকেলে কিন্তু একদম টইটই করে ঘুরবি না"। বাংলা মা ভালো নেই৷ খুব খুব অসুস্থ। আমার এই লেখাটা দিল্লি দুবাই স্যানফ্রান্সিস্কো বা সোভিয়েত, সন্তানদের প্লিস বলুন পাশে দাঁড়াতে। অনেকগুলো মাধ্যমে টাকা পাঠানো যাচ্ছে। লজ্জায় মাথা খেয়ে বলছি, টাকাটাই লাগবে আসলে এই সময়। নয়তো প্রিয়তমা কবেই বা টাকার কথা ভেবেছে। ওর হৃদয় তো দীঘির মতো গভীর, ভূবনডাঙার মাঠের সমান প্রায়। (সংগৃহীত)

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.