Header Ads

হাওড়ার অন্তঃসত্ত্বাকে ভর্তি না নেওয়ায় মৃত্যু সদ্যোজাতর, কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে কড়া ব্যবস্থা

নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে গিয়েছিলেন এক মহিলা। তাঁর অপরাধ তিনি করোনাণ আক্রান্ত জেলার বাসিন্দা। তাই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সরা। অগত্যা প্রসব বেদনা নিয়েই বাড়িতে ফেরেন প্রসূতি। ফুটফুটে শিশুর জন্ম দেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হয় সদ্যোজাতের। এমনি মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটলো হাওড়ায়। এবার সরাসরি অভিযোগ উঠলো কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে গোটা রাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিষয়টি নজরে আসার পরই তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। সূত্রের খবর ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ। প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা হাওড়ার বাসিন্দা এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের লোকজন।
 হাসপাতালে ভর্তি করতে হাওড়ায় বাড়ি শুনে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা। হাওড়া করোনা 'রেড জোন' হিসাবে চিহ্নিত করেছে রাজ্য। ততক্ষণে প্রবল যন্ত্রণা শুরু হয় মহিলার। অন্তঃসত্ত্বা মহিলার পরিবারের লোকজন হাসপাতালের ডেপুটি সুপারের দ্বারস্থ হন। ডেপুটি সুপার ভর্তির অনুমতি দিলেও গাইনি ওয়ার্ডে গিয়ে হেনস্তার সম্মুখীন হতে হয় ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। এরপর পরিবারের লোকজন ভর্তির জন্য কাকুতি-মিনতি জানাতে থাকেন। তবুও অমানবিকভাবে কর্তব্যরত নার্স চিকিৎসকরা ভর্তি নিতে অস্বীকার করে। উল্টে মুচলেকা লেখার জন্য চাপ দিতে থাকে। মুচলেকা তে লিখতে বলা হয় মহিলা কিংবা সদ্যোজাতের কোন ক্ষতি হলে তাঁর দায় নেবে না হাসপাতাল। পুরোই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বারে রোগীর আত্মীয়দের।
হাসপাতালে ভর্তি না করেই অন্তঃসত্ত্বাকে নিয়ে ফিরে আসতে হয় হাওড়ায়। বাড়িতেই প্রসব করেন ওই মহিলা। ফুটফুটে এক সন্তানের জন্মও দেন। কিন্তু চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হয় সদ্যোজাতর। এই খবর চাউর হতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর যায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে। নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দপ্তর। একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঐদিন কোন নার্স ও চিকিৎসকেরা কর্তব্যরত ছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। উঠে যাওয়া ঘটনাটিকে গর্হিত অপরাধ বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন সম্প্রতি দিল্লির পুরপ্রশাসক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও হাসপাতালের সুপারদের নিয়ে একটি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বৈঠক সারেন। বৈঠকে তিনি সমগ্র দেশব্যাপী হাসপাতলে যেকোনো রোগী এলেই তাঁকে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কোন রোগীকে চিকিৎসা থেকে বিরত রাখবে হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। এবার আমাদের রাজ্যও ঠিক এমনই অমানবিক ঘটনার সাক্ষী রইল। 

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.