Header Ads

বদলির ক্ষেত্রে চরম সঙ্কটে অনার্স ক্যাটাগরির ২০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা! সমাধান কিভাবে? #SpecialArticle

কিংকর অধিকারীঃ স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী সারা রাজ্যে বহু শিক্ষক শিক্ষিকা অনার্স ক্যাটাগরিতে নিযুক্ত হয়েছেন। ২০০৯-এর রোপা অনুযায়ী তাদের গ্রেড পে ৪৭০০. বর্তমানে আপার প্রাইমারি, মাধ্যমিক (নবম-দশম) এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের জন্য পাস গ্র্যাজুয়েট এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট ক্যাটাগরির শিক্ষক নিয়োগের নিয়ম চালু হয়েছে। ফলে এখন আর নতুন করে অনার্স ক্যাটাগরির শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না। অথচ শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বর্তমানে প্রায় কুড়ি হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা এই ক্যাটাগরিতে নিযুক্ত রয়েছেন।
বর্তমানে এইসব শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ যখন অন্যান্য বিদ্যালয়ে বদলি হতে চাইছেন তখন তাঁরা বিরাট এক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ (স্পেশাল ট্রানস্ফার) বা সাধারণ বদলি(জেনারেল ট্রান্সফার)-র ক্ষেত্রে এইসব ক্যাটাগরির শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ ভবিষ্যতে আর কোনদিন ট্রানস্ফারের সুযোগ না পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ সব সরকারি কর্মীদের বেতন আটকে যেতে পারে। তাই সরস্বতী পুজোর ৫দিন ছুটি বাতিল ইতিমধ্যে বেশকিছু শিক্ষক-শিক্ষিকা স্পেশাল গ্রাউন্ডে বদলির জন্য হাতে অর্ডার কপি পেয়ে গিয়েছেন কিন্তু শিক্ষা দপ্তর থেকে তাঁদের জন্য কোন স্কুল বরাদ্দ করা হচ্ছে না। তাঁরা হাতে অর্ডার কপি নিয়ে শিক্ষা দপ্তরের দরজায় দরজায় হন্য হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে যে, বর্তমানে কোন শিক্ষক পদ অনার্স পোস্ট হিসাবে নেই। তাই তাঁদের বদলির জন্য কোন বিদ্যালয় দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা বিপাকে পড়েছেন। পাশ গ্রাজুয়েট বা পোস্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষকরা বদলির ক্ষেত্রে এই সুযোগ পেলেও অনার্স ক্যাটাগরির শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা শিক্ষকতার কাজে নিযুক্ত হয়েছেন। আজ যদি তাঁদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয় তার দায় কোনোভাবেই সাধারন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নয়। শিক্ষা দপ্তর থেকে নতুন নির্দেশিকা জারির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এই সমস্যার সমাধানে অনার্স ক্যাটাগরির সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পোস্ট গ্রাজুয়েট স্তরে উন্নীত করে সমস্যাটির সমাধান করা হোক। যাঁদের পোস্টগ্রাজুয়েট নেই তাঁদের পোস্ট গ্রাজুয়েট করার অনুমতি দেওয়া হোক।
আর যাঁদের পোস্ট গ্রাজুয়েট রয়েছে অথচ অনার্স পোস্টে রয়েছেন তাঁদের সকলকে পোস্টগ্রাজুয়েট স্তরের উন্নীত করার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তাছাড়া নতুন নিয়ম যদি কার্যকর করতে হয় তাহলে ২০১৬ সালের পূর্বে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর না করে নতুনভাবে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে কার্যকর করা হোক। তা যদি না করা হয় তাহলে মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিজেদের জেলায় বদলির জন্য যে ঘোষণা করেছেন তা কোনোমতেই এইসব শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে কার্যকর সম্ভব হবে না।
লেখকঃ কিংকর অধিকারী, রাজ্য সম্পাদক, শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.