ভারতীয় অর্থনীতি রাজনীতির লাভবান বিত্তশালীরা৷ গরিব-মধ্যবিত্ত শুধুই ভোটব্যাঙ্ক৷ #SpecialArticle
অরুনাভ সেনঃ বাজারে বিক্রি নেই,দোকান খোলা,অথচ খরিদ্দার নেই৷তথৈবচ অবস্থা যেমন কৃষি ক্ষেত্রে তেমনই শিল্পে৷নেই নতুন বিনিয়োগ৷নিন্দুক বিশেষ করে বিজেপির সমর্থক নন এমন অর্থনীতিবিদদের মুখে দেশের অর্থনীতির নানা রোগের কথা আর তার কারন হিসেবে বারবার উঠে আসছিল নোটবন্দি ও জিএসটির কথা৷তবুও আমরা ভরসা করেছিলাম কেন্দ্রীয় সরকারের উপর৷কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যানই বলছে আর্থিক বৃদ্ধির হার নামছে৷পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৩-র জানুয়ারি মার্চের পর আর্থিক মন্দা এত খারাপ কখনও হয়নি৷অবশ্য মোদি সরকারের যাবতীয় কৃতিত্বের ফানুস কিন্তু এক লহমায় ফাটিয়ে দিয়েছেন কয়েকদিন আগে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান৷তিনি বলেছেন ৭০ বছরে ‘অভূতপূর্ব’ এমন আর্থিক সঙ্কট! অতীতে দেখা যায়নি৷মোদি-অমিত শাহ জুড়ি অবশ্য বারবার জাতীয়তাবাদ ও মেরুকরণের রাজনীতির তাস খেলে নির্বাচণী বৈতরণী পার হয়েছেন কিন্তু দেশের আর্থিক পরিস্থিতি বা সম্ভাব্য মন্দা নিয়ে কখনও মুখ খোলেন নি,বা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন "ভয়ের কিছু নেই"এমন কিছু বলে৷
প্রথম মোদি সরকারের বয়স মাত্র দুই বছর কয়েক মাস সরকারের বয়স, ভয়ঙ্কর একটি ঘোষনা করলেন প্রধানমন্ত্রী৷শুরু হল নোটবন্দি৷কাড়ার চেষ্টা হল মানুষের আর্থিক স্বাধীনতা৷কালো টাকা উদ্ধারের নামে অসংগঠিত ক্ষেত্রকে তছনচ করা হল৷অসংখ্য মানুষ কাজ হারালেন৷অসংখ্য মানুষের দুবেলা পেট ভরে খাওয়ার নিরাপত্তা উবে গেল৷অথচ এই অসংগঠিত ক্ষেত্র জাতীয় আয় এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে৷লোকাল ট্রেন থেকে এক্সপ্রেস ট্রেনের গতি পাওয়া ভারতীয় অর্থনীতির বিকাশে প্রথম কুঠারাঘাত নোটবন্দি৷প্রধানমন্ত্রী মানুন বা না মানুন নোটবন্দির সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়েছে৷কমেছে নগদের জোগান৷বাজার থেকে হারিয়েছে নগদ৷অথচ অর্থনীতিবিদরা বলেন নগদ টাকা অর্থনীতির দখিনা বাতাস৷নোটবন্দির ধাক্কা দেশের মানুষ,দেশের অর্থনীতি এখনও সামলে উঠতে পারেনি৷তারপরে গোদের উপর বিষ ফোঁড়া জিএসটি৷সত্যি কথা বলতে কি নোটবন্দি,জিএসটি ভারতীয় অর্থনীতির গতিকে স্লথ করেছে,অসংগঠি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের পাশাপাশি জীবন বিভীষিকাময় করে তুলেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের৷সেই প্রসঙ্গে অনেকেই বলেছেন,স্বীকার না করলেও বিজেপির নেতারা বুঝেছেন নোটবন্দির সিদ্ধান্ত ভুল ছিল৷তবে সন্দেহ নেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নের ফেরিওয়ালা৷স্বপ্ন দেখান দেশের মানুষকে৷ বাজেটে পাঁচ হাজার কোটি মার্কিন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন ফেরি করেছে মোদি সরকার। কিন্তু বর্তমান অবস্থা বলছে সেই স্বপ্ন তো দূর অস্ত, বর্তমান জিডিপির হার ধরে রাখাই সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে,সরকারি পরিসংখ্যানও বলছে বৃদ্ধির হার কমছে৷এই পরিস্থিতি থেকে সরকার দেশের অর্থনীতি ও সাধারন মানুষ থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর পরিত্রানের কোনও পথ এখনও বাতলে দিতে পারিনি৷ দেশে ধুঁকছে গাড়ি শিল্প৷বিগত ৬মাসে প্রায় তিন লক্ষ কর্মী কাজ হারিয়েছেন৷সংস্থাগুলি নতুন করে আরও কর্মী ছাঁটাইয়ের দিকে হাঁটছে৷অর্থাৎ আবারও আরও বহু মানুষ কর্মহীন হবেন৷উৎপাদন ক্ষেত্রে কার্যত ভাঁটার টান৷ নতুন কোনও শিল্প বা বিনিয়োগের রাস্তা তৈরি করা যাচ্ছে না৷ একটা সময় ছিল যখন বাজারে নগদ লেনদেন চলত ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ৷কিন্তু এখন সেই পরিমাণ অনকেটাই কমে নি,কমেছে বাজারে নগদ মূলধনী লেনদেন ও বিনিয়োগ৷ নগদ মূলধন ধীরে ধীরে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। সেটা থামানো দরকার।না হলে রূগ্ন অর্থনীতির স্বাস্থ্য ফিরবে না৷অর্থাৎ বাজারের জন্য,দেশের অর্থনীতির উন্নতির জন্য জরুরী টাকা৷স্বচ্ছতার সঙ্গে নগদ লেনদেন৷ডিজিট্যাল ভারতবর্ষের স্বপ্ন আমরা সবাই দেখি,কিন্তু আমাদের মত সাধারন মানুষের চাহিদা খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থানের পাশাপাশি হাতে নগদ অর্থ,যে অর্থের সাহায্যে আমি কিনব পছন্দের কোনও জিনিস,বা নিজের অসুস্থতার সময় মনের মত স্থানে চিকিৎসা করানোর খরচ৷অনেকে বলেন বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম অর্থনীতি ভারতের,তার মানে আমরা বেশ ধনী!কিন্তু মানুষের মাথাপিছু আয় না বাড়লে দেশের আর্থিক সমৃদ্ধিও ঠিকঠাক হয় না৷৷এবার অনেকেই আপনাকে প্রশ্ন করতেই পারেন সত্যিই যদি ৫ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে ভারত পৌঁছে যায় তাহলে কেন নিন্দুক এত সমালোচনা করছেন৷এই প্রশ্ন ওঠা সঙ্গত,এবং এই প্রশ্ন মানুষ করবেন৷
এর উত্তরটা লুকিয়ে আছে সাংঘাতিক একটা তথ্যে৷আমাদের দেশের শতকরা ৭৩জন মানুষের সম্পদ মাত্র ১জনের কাছে কুক্ষিগত৷অর্থাৎ আকারে দেশের অর্থনীতি বড় হয়েছে,ধনী আরও ধনী হচ্ছেন,অথচ ৭৩%মানুষের আর্থিক অবস্থার কোনও উন্নতি হচ্ছে না৷আবার জয়ধ্বনী উঠছে ভারতীয় অর্থনীতি বিশ্বের ৫-৬-৭নম্বর স্থানেই ঘোরাফেরা করছে৷কিন্তু সাধারন মানুষের কী লাভ হচ্ছে?বোধহয় এই বিষয়ে অনেকের কাছে কোনও উত্তর নেই৷অর্থনীতির সাধারন তত্ব অনুযায়ী দেশের জিডিপি ৫ লক্ষ কোটি ডলারে যদি পৌঁছে যায় সাধারন ভাবে যে অঙ্ক সবাই মেলাবেন সেটি হল, দেশের মানুষের হাতে অনেক-অনেক টাকা থাকবে৷কিন্তু সত্যি কি তাই? যে দেশের ৭৩%মানুষের সম্পদ মাত্র ১শতাংশ মানুষ ভোগ করছেন তাদের টাকা প্রচুর বাড়বে,কিন্তু ৭৩%মানুষের সম্পদ কিভাবে বাড়বে সেই উত্তরটা মানুষ খুঁজছেন,বা চাইছেন যারা ৫লক্ষ ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন দেখাচ্ছেন,বা ভারতীয় অর্থনীতির আকার বৃহৎ বলে নিজের ঢোল নিজেই পেটাচ্ছেন৷আসলে অর্থনীতি এমন একটা বিষয় সেখানে একই বিষয়ে ভিন্ন মত বিশ্লেষন করে দুজনই পুরস্কার পেতে পারেন৷কিন্তু প্রশ্ন হল দেশের ৭৩শতাংশ মানুষের স্বার্থে কাদের বক্তব্যটা সঠিক৷অনেক অর্থনীতিবিদ বলেন জিডিপি বাড়ার অর্থ দেশের মানুষ সুখেই আছেন৷যদি তাদের কথাই ঠিক হয় তাহলে কিন্তু বলতে হবে আমি-আপনি বেশ খুশিই আছি৷হাতে আমাদের অঢেল অর্থ,পছন্দ মত জিনিস কেনার ক্ষমতা বেড়েছে,নিজের ভবিষ্যতের জন্য ব্যাঙ্কে জমছে টাকা,ব্যবসায়ীদের পসারে জোয়ার,গরিব মানুষ প্রায় নেই দেশে,আর থাকলেও তারা মোট জনসংখ্যার ক্ষুদ্র, শতাংশের হিসেবে আসেন না৷কারণ দেশের জিডিপি এখনই আড়াই লক্ষ কোটি ডলার টপকে গিয়েছে৷অর্থাৎ অতীতের তুলনায় ভারত এখন আর্থিক ভাবে ভীষন বলশালী একটি দেশ৷সেই অঙ্ক অনুয়ায়ী দেশের মানুষও এত সুখী আগে কখনও হয়নি!কিন্তু এর পরের কথাগুলো শুনলে সরকারে সমর্থক মানুষরা একটু রুষ্ঠ হবেন৷কিন্তু কি আর করা যাবে,দেশের অর্থনীতির বাস্তব চিত্রটার ব্যাখ্যা আরও মানুষ জানুক সেটাও নিশ্চয়ই আমরা চাইব,বা সেটি কাম্য৷দুঃখ করবেন না,বা দুঃখ পাবেন না ২০১৮ সালে ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস ইনডেক্স’ বলছে, গোটা বিশ্বে সুখের মাপকাঠিতে এ দেশের স্থান অনেক,অনেক পিছনে৷নিশ্চয়ই নম্বরটা শুনতে উদগ্রীব,হ্যাঁ আর বেশি গৌরচন্দ্রিকা না করেই বলে ফেলা ভাল নম্বরটা ১৪০ ৷শুনে নিশ্চয়ই আপনি দেশবাসী হিসেবে গর্ব অনুভব করছেন না? তারও আগে রয়েছে আসল প্রশ্ন। তা হল, দেশের জিডিপি বাড়লে কি আমজনতার হাতে বেশি টাকা আসবে?সেটিরও সোজা উত্তর না৷ তবে জিডিপি করে দেশের মধ্যে কলকারখানায়,চাষে ব্যবসায় মোট উৎপাদনের একটা সম্ভাব্য পরিমান আঁচ , যায়,কিন্তু মানুষের জীবনযাত্রায় সামগ্রিক কি উন্নতি হল,সেটা কখনও পরিমাপ করা যায় না৷বিশেষত ভারতের মত দেশে সেটি একেবারেই অসম্ভব,যেখানে দেশের ১শতাংশ মানুষ ৭৩শতাংশের সম্পদ কুক্ষিগত করে রেখেছে৷তাহলে আপনারাই বলুন দেশের অর্থনীতির এ কোন জিডিপি বৃদ্ধি, যার সুফল পায় ১শতাংশ মানুষ,উল্টোদিকে ৭৩শতাংশ মানুষ সংসার চালাতে হিমসিম খান,তাদের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসা তো অনেক দূর৷ অর্থাৎ, জিডিপি-র সঙ্গে মানুষের জীবনের সামগ্রিক উন্নয়নের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আমাদের দেশে অন্তত নেই যেখানে সম্পদের বন্টন অসম,যেখানে ধনী আরও ধনী হয়,যেখানে দেশের ১শতাংশ মানুষ ৭৩শতাংশের সম্পদ কায়দা করে কুক্ষিগত করে রাখতে পারছে৷ অর্থনীতিবিদরা খুব পরিস্কার বলেন দেশের জিডিপি বাড়ার অর্থ দেশের প্রতিটি নাগরিকের জিডিপি বাড়া বা আয় উন্নতি বৃদ্ধি নয়৷
জিডিপি-র আয়তন ধরলে ভারত পৃথিবীর মধ্যে বেশ এগিয়ে থাকা অর্থনীতি। তার অর্থ যদি এই হত আমরা দেশের সব নাগরিকরা বেশ ধনী,সেটা বেশ ভালই হত৷কিন্তু আসল রহস্য যে এখানেই,বিশ্বের সপ্তম বৃহৎ অর্থনীতি বলে যে প্রচার সরকার বা সরকারে থাকা রাজনৈতিক দলটির কর্মী-সমর্থকেরা করে থাকেন, সেটি যে সব মানুষের ধনী হওয়া নয়,ছোট কয়েকটি উদাহরন দিলে আরও পরিস্কার বুঝবেন মানুষ৷যেমন ধরুন ইন্দোনেশিয়ার জিডিপি ভারতের তিন ভাগের এক ভাগ, অথচ সেখানকার মানুষের মাথাপিছু আয় ভারতের দ্বিগুণ।একই চিত্র ব্রিটেনের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য৷ ভারতের নাগরিকদের মাথা পিছু আয়ের তুলনায় সেদেশের মানুষের আয় ২১গুন বেশি৷অথচ দুটি দেশের জিডিপি প্রায় একই রেখায় দাঁড়িয়ে৷মজার বিষয় ভারত ও ব্রিটেনের জিডিপি প্রায় সমান সমান৷সত্যি কথা বলতে কি ভারতের গণতন্ত্র যতই বিশ্বের বৃহৎ গণতন্ত্র বলে আমরা গর্বিত হই না কেন,আমাদের দেশের গণতন্ত্র মূলত আমাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছে৷নাগরিকের অন্যান্য মৌলিক চাহিদা ভারতীয় গণতন্ত্র মেটাতে পেরেছে বলে কেউ দাবি করতে পারবেন না৷
একটা তথ্য ভারতের সাংসদদের মধ্যে ৪২৭জন কোটিপতি৷নিন্দুক বলেন ভারতীয় গনতন্ত্রে এখনও আসল নিয়ন্ত্রক বিত্তশালীরা৷আর সাধারন মানুষ শুধুই ভোটব্যাঙ্ক৷ভাবুন যে দেশে সম্পদের এত অসম বন্টন,যে দেশের ৭৩শতাংশ মানুষের সম্পদ কুক্ষিগত করে রেখেছে মাত্র ১শতাংশ মানুষ,যে দেশের অর্থনীতি বাড়লে সাধারন মানুষের খুব বেশি লাভ হয়না,অন্তত ভারতের মত দেশে এই তত্ব অত্যন্তই সঠিক যেখানে ১ শতাংশ মানুষের কব্জায় ৭৩ শতাংশের সম্পদ৷আর গরিব মানুষের আয় বিগত ১বছরে বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ। আকারে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম হলেও ভারতীয় অর্থনীতির জিডিপি বাড়ায় প্রত্যক্ষ ভাবে লাভ দেশের সাধারন মানুষ বুঝতে পারেন না৷অথচ দেশের ৭৩ শতাংশের সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখা লোকেদের সম্পদ বাড়ছে৷কিন্তু দেশের অর্থনীতির মন্দার আঁচ তাদের উপর পরে না!উল্টোদিকে সাধারন মানুষের জীবন-ধারনটাই দৈন্যন্দিন সংগ্রামে রূপান্তরিত হয়৷ভারতীয় অর্থনীতির এই মন্দা শুরু হয়েছিল নোটবন্দির দিন থেকেই,জিএসটি চালুর পর সেই মন্দা আরও ভয়ঙ্কর হয়েছে৷বাংলাদেশের মুদ্রার সাথে ভারতের মুদ্রার দামের ফারাক কমছে,উল্টোদিকে ডলার হচ্ছে মহার্ঘ্য৷সেই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রানের পথ সরকার যদি খুঁজে না বের না করতে পারে,ধনীদের জীবনে কোনও প্রভাব পড়বে না,তবে গরিব আরও গরিব হবেন জোর গলায় বলা যায়৷আর দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেনী,যাদের পুঁজি কেবল শিক্ষা ও মস্তিষ্ক,তারাও থাকবেন না স্বস্তিতে৷হয়ত পেটভরে খাওয়ার গ্যারান্টি থাকবে,কিন্তু সংসার নির্বাহ করে মাস-মাস টাকা জমিয়ে বেড়াতে যাওয়া,বা মনের মত কিছু জিনিস কেনার স্বাধীনতায় বড় বাঁধা আসতে পারে,সেই কথা এখনই হলফ করে বলা যায়৷ আর তার সঙ্গে দোষর ঝিমিয়ে পড়া দেশের অর্থনীতি৷তবে মন্দা অর্থনীতির প্রভাবে বড়লোকদের গায়ে তেমন আঁচড় লাগে না। মারা পড়ে নিচুতলার গরিব মানুষগুলিই।এ সব নিয়ে অবশ্য তেমন তর্কবিতর্ক নেই,হেলদোলও নেই সরকার বাহাদুরের৷তারা জানে মেরুকরণের রাজনীতি আর জাতীয়তাবাদ কে ঊস্কে দিতে পারলে ভোটে জয় আসবে৷ এর থেকে ভোটে জেতার বিকল্প ভাল অস্ত্র আর নেই৷
প্রথম মোদি সরকারের বয়স মাত্র দুই বছর কয়েক মাস সরকারের বয়স, ভয়ঙ্কর একটি ঘোষনা করলেন প্রধানমন্ত্রী৷শুরু হল নোটবন্দি৷কাড়ার চেষ্টা হল মানুষের আর্থিক স্বাধীনতা৷কালো টাকা উদ্ধারের নামে অসংগঠিত ক্ষেত্রকে তছনচ করা হল৷অসংখ্য মানুষ কাজ হারালেন৷অসংখ্য মানুষের দুবেলা পেট ভরে খাওয়ার নিরাপত্তা উবে গেল৷অথচ এই অসংগঠিত ক্ষেত্র জাতীয় আয় এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে৷লোকাল ট্রেন থেকে এক্সপ্রেস ট্রেনের গতি পাওয়া ভারতীয় অর্থনীতির বিকাশে প্রথম কুঠারাঘাত নোটবন্দি৷প্রধানমন্ত্রী মানুন বা না মানুন নোটবন্দির সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়েছে৷কমেছে নগদের জোগান৷বাজার থেকে হারিয়েছে নগদ৷অথচ অর্থনীতিবিদরা বলেন নগদ টাকা অর্থনীতির দখিনা বাতাস৷নোটবন্দির ধাক্কা দেশের মানুষ,দেশের অর্থনীতি এখনও সামলে উঠতে পারেনি৷তারপরে গোদের উপর বিষ ফোঁড়া জিএসটি৷সত্যি কথা বলতে কি নোটবন্দি,জিএসটি ভারতীয় অর্থনীতির গতিকে স্লথ করেছে,অসংগঠি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের পাশাপাশি জীবন বিভীষিকাময় করে তুলেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের৷সেই প্রসঙ্গে অনেকেই বলেছেন,স্বীকার না করলেও বিজেপির নেতারা বুঝেছেন নোটবন্দির সিদ্ধান্ত ভুল ছিল৷তবে সন্দেহ নেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নের ফেরিওয়ালা৷স্বপ্ন দেখান দেশের মানুষকে৷ বাজেটে পাঁচ হাজার কোটি মার্কিন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন ফেরি করেছে মোদি সরকার। কিন্তু বর্তমান অবস্থা বলছে সেই স্বপ্ন তো দূর অস্ত, বর্তমান জিডিপির হার ধরে রাখাই সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে,সরকারি পরিসংখ্যানও বলছে বৃদ্ধির হার কমছে৷এই পরিস্থিতি থেকে সরকার দেশের অর্থনীতি ও সাধারন মানুষ থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর পরিত্রানের কোনও পথ এখনও বাতলে দিতে পারিনি৷ দেশে ধুঁকছে গাড়ি শিল্প৷বিগত ৬মাসে প্রায় তিন লক্ষ কর্মী কাজ হারিয়েছেন৷সংস্থাগুলি নতুন করে আরও কর্মী ছাঁটাইয়ের দিকে হাঁটছে৷অর্থাৎ আবারও আরও বহু মানুষ কর্মহীন হবেন৷উৎপাদন ক্ষেত্রে কার্যত ভাঁটার টান৷ নতুন কোনও শিল্প বা বিনিয়োগের রাস্তা তৈরি করা যাচ্ছে না৷ একটা সময় ছিল যখন বাজারে নগদ লেনদেন চলত ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ৷কিন্তু এখন সেই পরিমাণ অনকেটাই কমে নি,কমেছে বাজারে নগদ মূলধনী লেনদেন ও বিনিয়োগ৷ নগদ মূলধন ধীরে ধীরে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। সেটা থামানো দরকার।না হলে রূগ্ন অর্থনীতির স্বাস্থ্য ফিরবে না৷অর্থাৎ বাজারের জন্য,দেশের অর্থনীতির উন্নতির জন্য জরুরী টাকা৷স্বচ্ছতার সঙ্গে নগদ লেনদেন৷ডিজিট্যাল ভারতবর্ষের স্বপ্ন আমরা সবাই দেখি,কিন্তু আমাদের মত সাধারন মানুষের চাহিদা খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থানের পাশাপাশি হাতে নগদ অর্থ,যে অর্থের সাহায্যে আমি কিনব পছন্দের কোনও জিনিস,বা নিজের অসুস্থতার সময় মনের মত স্থানে চিকিৎসা করানোর খরচ৷অনেকে বলেন বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম অর্থনীতি ভারতের,তার মানে আমরা বেশ ধনী!কিন্তু মানুষের মাথাপিছু আয় না বাড়লে দেশের আর্থিক সমৃদ্ধিও ঠিকঠাক হয় না৷৷এবার অনেকেই আপনাকে প্রশ্ন করতেই পারেন সত্যিই যদি ৫ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে ভারত পৌঁছে যায় তাহলে কেন নিন্দুক এত সমালোচনা করছেন৷এই প্রশ্ন ওঠা সঙ্গত,এবং এই প্রশ্ন মানুষ করবেন৷

No comments