Header Ads

কান্নাকাটি করলে দল করতে হবে না! মারের বদলে মার দিয়ে এস, আমি আছি: দিলীপ ঘোষ

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সময়টা ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচন, ভোট লুঠ-প্রার্থী না দিতে দেওয়া সব কিছু উপেক্ষা করে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এল বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ততক্ষনে সিপিআইএম থেকে টার্গেট সরিয়ে লক্ষ স্থির করে নিয়েছেন বিজেপি-র দিকে। স্লোগানে মুখরিত বাংলা, ২০১৯ বিজেপি ফিনিশ। চুপচাপ দেখছিলেন আর মুচকি হাসছিলেন দিলীপ ঘোষ। বলেছিলেন '১৯ এ হাফ, '২১ এ সাফ!
কেন হাসছিলেন তাঁর প্রমাণ পাওয়া গেছে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনেই!  টিভি চ্যানেলের ডিবেট হোক বা জনসভা সব জায়গাতেই দিলীপের সাবলীল উত্তর, মারের বদলা মার। মার খেতে খেতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাম সমর্থকদের মনের কথা, যেটা তারা নিজেদের নেতার কাছে প্রত্যাশা করে হতাস হয়েছে বার বার।২০১৯ এ দেশের সাথে সাথে রাজ্যের উত্তর দিল বাম জনতা, এক লাফে বিজেপি ২ থেকে ১৮!
যাই হোক মন্ত্রী হওয়ার অনুরোধ বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেছেন দিলীপ ঘোষ একথা এখন সবাই জানেন, তাঁর এক এবং একমাত্র উদ্দেশ্য রাজ্য থেকে তৃণমূল কে নির্মূল করা!
অন্যদিকে, জয়ের পর নিজের 'গড়' খরগপুরে ফিরলেন তিনি, হাজারো জনতা ফুলের মালা নিয়ে প্রিয় জননেতাকে অভিবাদন করতে প্রস্তুত। হাসিমুখে সবার সাথে কথা বললেন রাজ্যের এই মুহুর্তের অন্যতম জনপ্রিয় জননেতা। বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু কর্মী সমর্থক দলে দলে এসেছেন তাঁর সাথে দেখা করতে কেউবা অভিযোগ জানাতে। এই রকমই ঘাটাল থেকে আগত বেশ কিছু কর্মী সমর্থক দলের সভাপতি কে ভোট পরবর্তী তৃণমূলের অত্যাচারের বর্ননা দিচ্ছিলেন, তাঁদের মাঝপথেই থামিয়ে দিলেন দিলীপ ঘোষ। বললেন "কান্নাকাটি করলে দল করতে হবে না! মারের বদলে মার দিয়ে এস, আমি সবসময় সঙ্গে আছি"।
প্রায় সাথে সাথেই 'আক্রান্ত জনতা' গর্জে উঠল জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে, ম্যাজিকের মত ফিরে এল মনবল। দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দিলেন "অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করা চলবে না, ওরা একটা মারলে তোমরা চারগুন ফেরত দাও। বাকি আমি বুঝে নেব। প্রশাসন কে চালাচ্ছে বড় কথা নয়, জনগন কার সাথে আছে সেটাই বড় কথা।"
এরপরেই, খরগপুর থেকে বেরিয়ে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে বিজেপির জয় সেলিব্রেট করতে যান তিনি।
দুর্গাপুরের পাঁচমাথার মোড় থেকে বিজয় যাত্রা উত্সবের আয়োজন করা হয়েছিল। দলের সেই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে ভোটের আগে বিজেপির স্লোগান ১৯-এ হাফ আর ২১-এ সাফ-র প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন এই নির্বাচনে তৃণমূল প্রায় হাফ হয়ে গিয়েছে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আরও বেশ কয়েকটি আসন বিজেপির দখলে যেত। কিন্তু মারামারি করে, ভয় দেখিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন যেভাবে রাজ্যের মানুষের আশীর্বাদ আর বিশ্বাস বাড়ছে, তাতে তৃণমূল সরকার পড়ে যেতে পারে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই। বছর শেষের আগেই রাজ্যবাসীকে ফের ভোটের লাইনে দাঁড়াতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.