তৃণমূল অপরাজেয় এই মিথে বিশ্বাস হারাচ্ছেন দলের নেতা,জনপ্রতিনিধিরা! পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাম-কংগ্রেসের আসন সমঝেতা সম্ভবত ভেঙে যেতেই চলছে যদি কোনও আশ্চর্যের ঘটনা না ঘটে৷ভরা ব্রিগেডের পর বাম কর্মী সমর্থকদের বক্তব্য ছিল বামেরা লড়ুক নিজের শক্তিতে৷যদিও বামেদের ঘোষিত নীতি ছিল যেখানে বামেরা দূর্বল সেখানে ধর্মনিরপেক্ষ গনতান্ত্রিক শক্তিকেই বামেরা সমর্থন করবে৷স্বভাবত বাংলায় বিজেপি-তৃণমূলকে হারাতে তারা ২৫টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষনা করেছিলেন৷বাকি ১৭টি আসন কংগ্রেসের জন্য ছেড়ে রেখেছিলেন৷তবে কংগ্রেসের অনেক নেতা নাকি এমন আসন সমঝেতা মেনে নিতে পারেন নি,তারা একলা চলার নীতি নিয়ে নাকি একা লড়তে প্রস্তুত৷
যদিও প্রদেশ কংগ্রেসের এই একলা চলো নীতিকে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের অনেক রাজনীতি সচেতন মানুষ৷তাদের বক্তব্য সাধ আর সামর্থের ফারাকটা প্রদেশ নেতাদের বোঝা উচিৎ৷বামফ্রন্টের ঘাড়ে চেপে ১৬-এর বিধানসভা ভোটে জোট করে বেশী আসন জিতেছিল কংগ্রেস৷বাম সমর্থকদের ভোট কংগ্রেসে পড়লেও কংগ্রেসের ভোট সেভাবে পায়নি বামেরা৷অর্থাৎ ভোট শেয়ারিংটা প্রত্যাশিত মানে পৌঁছয়নি,স্বভাবত বামফ্রন্ট প্রার্থীদের প্রত্যাশার অনেক কম আসন পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়৷তবে বাংলায় এবারের লোকসভা নির্বাচনে মূল লড়াই তৃণমূল বনাম বিজেপি৷বিজেপির উত্থান হচ্ছে দ্রুত গতিতে,রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহে সেটি ক্রমশ দিনের আলোর মত স্পষ্ট হচ্ছে ,তৃণমূল বিরোধী মানুষেরাও ঠিক সেই কথাটি বিশ্বাস করছেন৷
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপির উত্থানটা মানুষ বুঝতে পারছিলেন৷পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভালমত বোঝা গেলো বামেরা নয় বিজেপিই বাংলার বিরোধী রাজনীতির পরিষরটা দ্রুত দখল করছে৷ বাংলার তৃণমূল বিরোধী মানুষদের বিশ্বাসের ভিতটাও দৃড় হল, বাম বা কংগ্রেস নয় তৃণমূলকে একমাত্র হারাতে পারবে বিজেপিই৷আসলে শাসক বিরোধী সিংহভাগ মানুষ চান তৃণমূলকে হারাতে হবে৷তাদের কাছে নীতি,আদর্শের থেকেও অনেক বেশী জরুরী তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করা৷তাদের বিশ্বাস তৃণমূলের যেকোনও অনৈতিক রাজনৈতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বারবার সরব হচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্ব,রাজনৈতিক ভাবে এবং সাংগঠনিক ভাবে ক্রমশ তৃণমূল বিরোধী স্বর আরও উচ্চগ্রামে নিয়ে যাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ,মুকুল রায়রা৷তবে তৃণমূলের ঘর ভাঙিয়ে মুকুল রায়ের দুই সাংসদ ও অর্জুন সিংহকে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করানো কে রাজ্য রাজনীতির সব থেকে বড় মাইলস্টোন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷বিশেষত বিজেপি নিশ্চিতভাবে বার্তা দিচ্ছে দল ভাঙানো নৈতিক কি অনৈতিক সেই প্রশ্নটি আপাতত উহ্য থাকুক,বরং পাখির চোখ হোক তৃণমূলকে পর্যদুস্ত করতে হবে,বাংলা থেকে বিজেপির অনেক সাংসদকে লোকসভায় পাঠাতে হবে,সেইজন্য যা,যা করার বিজেপি নেতৃত্ব সবই করবেন৷
বিজেপির শীর্ষ নেতারা বাংলার মানুষকে বার্তা দিতে সফল হচ্ছেন তৃণমূলের চোখে চোখ রেখে রাজনীতি করার হিম্মত দেখাতে পারে একমাত্র বিজেপিই৷তবে প্রশ্ন আসে যেসব সাংসদ,বিধায়ক যারা তৃণমূল ছাড়লেন তারা কি শুধুই লোকসভায় টিকিট পাননি বলেই তৃণমূল ছাড়লেন?উত্তর সম্ভবত সেটি নয়৷বরং এদের তৃণমূল ছাড়ার পিছনে আরও অনেক বড় রাজনৈতিক অঙ্ক কাজ করছে৷জনমানসের পালসটা তারা অনুভব করছেন৷তৃণমূল বিরোধী মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত রাজ্যে বাড়ছে৷তারা বুঝতে পারছিলেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া ক্রমশ জোরালো হচ্ছে৷বিজেপির দিকে দিনে,দিনে বাড়ছে সমর্থনের পাল্লা৷স্বভাবত সৌমিত্র খাঁ,অনুপম হাজরা,থেকে অর্জুন সিংহের মত নেতারা তৃণমূল ছাড়ার ঝুঁকিটা নিলেন৷আসলে তৃণমূল অপরাজেয় এই মিথেই আর বিশ্বাস করছেন না তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি থেকে অনেক নেতা৷তারাও তাদের মত অঙ্ক কষছেন কিভাবে ভবিষ্যতে ক্ষমতার মূল স্রোতের সঙ্গে থাকা যায়৷তাদের বিশ্বাস ও পর্যবেক্ষন তৃণমূলের রাজনীতিতে ভাঁটার টান,বরং বিজেপির প্রতি সাধারন মানুষের সমর্থন প্রতিদিন বাড়ছে৷স্বভাবত তারাও জল মাপছেন,জল যেদিকে ভারী হবে সেদিকে ঝুঁকে যেতে হয়ত তাদের বিলম্ব হবে না!রাজ্য রাজনীতির এই চিত্র যেন ২০০৯-এর চিত্রের হুবুহু এক প্রতিচ্ছবি৷
আবার একটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত৷২০০৯-এ রাজ্যে শাসন ক্ষমতায় বামফ্রন্ট অথচ মানুষের সমর্থন দিন,দিন ঢলে পড়ছে তৃণমূলের দিকে৷তৃণমূল যেমন ক্রমশ শাসক বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছিল,মানুষকে প্রভাবিত করতে পেরেছিল বামফ্রন্টকে হারিয়ে দেওয়া সম্ভব,বামেরা শুধু প্রশাসনিক ক্ষমতায় আছে,কিন্তু তাদের জনসমর্থনের ভিতটাই নড়ে গিয়েছে,ঠিক তেমনই ২০১৯, দশ বছর পর আবার রাজ্যের রাজনীতিতে একই ছবির পুনরাবৃত্তি৷বিজেপি নেতৃত্ব মানুষকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হচ্ছেন,মানুষকে বিশ্বাস করাতে পারছেন তৃণমূল অপরাজেয় নয়,তৃণূমূলের সাংগঠনিক শক্তির ভিতটা প্রতিনিয়ত ঠুনকো হচ্ছে,বামফ্রন্টকে যদি হারিয়ে দিতে পারে মানুষ,তবে সেই মানুষই আবার পারবেন তৃণমূলের ভিত নড়িয়ে দিতে,তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে৷

No comments