তৃণমূলের সভায় গেলে নয়, হকের দাবীতে পথে নামলেই ছুটির প্রশ্ন! ভোট বাক্সে জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার শিক্ষকদের।
নজরবন্দি ব্যুরোঃ গতকাল অরাজনৈতিক প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারী টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ডাকে তিলোত্তমার রাজপথে হয় এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত করেন রাজ্যের হাজারো প্রাথমিক শিক্ষক। তারপর রামলীলা ময়দানে হয় বিক্ষোভ সমাবেশ। মূলত এনসিটিই এর নিয়ম মেনে সঠিক যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বভারতীয় বেতনক্রম মেনে PRT স্কেল চালু করার দাবীতেই এই আন্দোলন। অনেকদিন থেকেই UUPTWA সোচ্চার হয়েছে PRT স্কেলের দাবীতে। ইতিমধ্যেই কলকাতা চারবার স্বাক্ষী থেকেছে শিক্ষক বিদ্রোহের।
সমস্ত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দের ডেপুটেশন দেওয়ার পর দু দফায় ডেপুটেশন দেওয়া হয় শিক্ষা সচিবকে। শিক্ষামন্ত্রী নাকি দেখা করার সময় দিয়েও প্রথমদিন ছিলেন কোণ্নগরের সুইমিং পুলে বলে অভিযোগ ওঠে সংগঠনের তরফে। সেদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা স্মারকলিপি জমা করে এসেছিলেন বিকাশ ভবনের রিসিভ সেকশনে। দ্বিতীয়বার অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী দেখা করেন ও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু সেই আশ্বাসই সার। কাজের কাজ কিছুই হয় নি। সংগঠনের অভিযোগ, বারংবার মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও উনি সময় দেন নি, উল্টে ওনার এডিশনাল সেক্রেটারি দেখা করে আশ্বাস বাণী দেন। তাই গতকাল আবার শিক্ষামন্ত্রীকে ডেপুটেশন দেওয়ার জন্য আগে থেকেই অনুমতি নেন সংগঠনের শিক্ষকরা। তিনি দুপুর ১টায় দেখা করবেন বলে জানিয়ে কথার খেলাপ করেছেন বলে দাবী করেছেন UUPTWA-র রাজ্য নেতৃত্ব।
শিক্ষকদের দাবি, দেখা না করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন "বিক্ষোভ মিছিল না করে কয়েকজন প্রতিনিধি এসে আমার সঙ্গে দেখা করতে পারতেন।" -এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলার শিক্ষক মহল। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি সন্দীপ ঘোষ বলেন, "আর কিভাবে ওনার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চাওয়া যেতে পারে, তা উনি পরিস্কার করে জানালে ভালো হয়।" সংগঠনের রাজ্য সম্পাদিকা পৃথা বিশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর "আন্দোলন করতে ছুটি নিয়ে এসেছে কিনা খবর নেব।" -এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা কেউ শখে রাস্তায় নামি নি। উনিই আমাদের বাধ্য করিয়েছেন রাস্তায় নামতে। শিক্ষকরা নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। উনি নিজে ওনার সাংবিধানিক দায়িত্ব ঠিকমত পালন করুন আগে। শিক্ষামন্ত্রী এর মতন একটি চেয়ারে বসে উনি কি করে মিথ্যে সম্ভাষণ করছেন? কতবার আর কিভাবে ওনার সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করব? দুপুর ১টায় দেখা করবেন বলেও কেন উনি দেখা করলেন না?
আর আমরা যারা আজ রাস্তায় নেমেছি তারা প্রত্যেকে রীতিমত নিজের প্রাপ্য ছুটি নিয়েই রাস্তায় নেমেছি। ছুটির দিনে তো আর উনি আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন না! আর উনি শুধু আমাদের ছুটি নিয়ে মিছিলে হাঁটাটাই কেন দেখছেন? একুশে জুলাই, উনিশে জানুয়ারী যারা সমাবেশে যোগদান করেছিলেন ও সুদূর কোচবিহার থেকে আসার জন্য দুদিন আগেই রওনা হয়েছিলেন তারা সবাই ছুটি নিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়েছিল তো? উনি আমাদের যোগ্য সম্মান, যোগ্য বেতন দিয়ে আগে নিজের দায়িত্ব পালন করুন। আর উনি অন্য রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বদের আগমনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তা আমরা তো ওনাদের সকলকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। ওনারা আসলেন না কেন?"
গতকাল সমাবেশ থেকে মুখ্যমন্ত্রী কে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছেন সংগঠনের বঞ্চিত প্রাথমিক শিক্ষকরা। মঞ্চ থেকে সভাপতি সন্দীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী আলোচনায় না বসলে আমরা দিল্লীতে গিয়ে ধর্ণা দেব। আর আপনাকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করতে আগ্রহী সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে ওই ধর্ণায় ডেকে জানাব যে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ২০০৯ সালে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন তার কতটা পূরণ করেছেন আর ওনার রাজ্যে জাতীর মেরুদন্ড তৈরি কারী প্রাথমিক শিক্ষকদের কি দুরবস্থা।" অতি সম্প্রতি বিদ্যালয়ের কর্মদিবসের দিন এক রাজনৈতিক সভায় সারা বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য প্রাথমিক শিক্ষক যোগ দেন। এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এর প্রতিক্রিয়া দাবী করেন UUPTWA এর সহঃ সভাপতি শান্তনু মন্ডল। এদিন মঞ্চ থেকে "PRT যেখানে, ভোট সেখানে।" স্লোগানও শোনা যায়। এর থেকেই স্পষ্ট যে লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রাথমিক শিক্ষকদের বঞ্চনা নিয়ে রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতি ভালোরকম উত্তপ্ত হতে চলেছে।

No comments