" তুলসী চক্রবর্তী" বাংলা ছবির ইতিহাসে এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা।
নজরবন্দিঃ জীবনে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাননি তুলসী চক্রবর্তী পাওনা হিসেবে ছিল অপমান, লাঞ্ছনা, বঞ্চনা আর শুধুই মিথ্যে প্রতিশ্রুতি.. একসময় সার্কাসের এই প্রাক্তন কর্মী একটি শটে র আগে মেকআপ রুমে মেকআপ করতে গিয়ে দেখলেন মেকআপ ম্যান দায়সারা গোছের মেকআপ করছে..
যখন তুলসী বাবুর মেকআপ নেবার পালা এল তখন " মেকআপ টা একটু ভালো করে করে দে বাবা" বলায় তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে মেকআপ ম্যান জানিয়েছিল-" ইঃ মেকআপ করবে মেকআপ?? কি এমন চরিত্র করেন যে মেকআপ করবেন?? যান যান.." পথের পাঁচালি তে প্রসন্ন গুরুমশাই এর চরিত্র করার সময়ই সত্যজিৎ রায়ের নজরে পড়েন তুলসী চক্রবর্তী। পরে সত্যজিৎ রায় যখন তাকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন "পরশ পাথর" এ হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলেছিলেন আনন্দে।
শুটিং এর সময় লোকেশন এ তার জন্য গাড়ী পাঠিয়ে দিতেন সত্যজিৎ রায় বিস্মিত তুলসী চক্রবর্তী বারংবার ড্রাইভার কে বলতেন-" বাবা আমি গাড়ী চেপে শুটিং করতে যাচ্ছি.. এ যে আমার বিশ্বাসই হচ্ছেনা".. সত্যজিৎ রায় একটি অমোঘ কথা বলেছিলেন তুলসী চক্রবর্তী সম্বন্ধে একটি সাক্ষাৎকারে উনি বলেন-" তুলসী চক্রবর্তী র অভিনয়ের কদর এই পোড়া দেশে কেউ করে না তবে আমেরিকায় জন্মালে উনি নিশ্চিত অস্কার পেতেন"। যদিও পরশ পাথরের জন্য সত্যজিৎ রায় তাঁকে প্রতিদিন একশো টাকা পারিশ্রমিক এর প্রস্তাব দিলে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন
"ওরে বাবা আমি এত টাকা পাওয়ার যোগ্য নই.. আর সিনেমা পাড়ায় যদি রটে যায় আমি রোজ একশো টাকা নিচ্ছি আমি আর কাজ পাব না মানিক বাবু"।প্রবল দারিদ্র্যের সঙ্গে আজীবন লড়াই
করলেও মুখের হাসি ছিল অনাবিল। অনুপকুমার কে ছেলে বলতেন তুলসী চক্রবর্তী প্রবল শীতে
একবার অনুপকুমার তুলসী চক্রবর্তী কে একটি সোয়েটার কিনে দেওয়ায় অনুপকুমার কে জড়িয়ে ধরে
কেঁদে ফেলেছিলেন তুলসী চক্রবর্তী।
যাকে সারাজীবন পর্দায় হাস্যরস পরিবেশন করে যেতে
হয়েছে অথচ তার কপালে বিধাতা "হাসি" লেখার আগে বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তুলসী চক্রবর্তী কে নিয়ে লিখলে শেষ হবে না। ১৯৬১ সালে ১১ ডিসেম্বের তিনি পরলোকগমন করেন মানময়ী গার্লস স্কুল, পথের পাঁচালি, পরশ পাথর, সাড়ে চুয়াত্তর, শুন বরনারী, দ্বীপ জ্বেলে যাই, মায়া মৃগ প্রমুখ ছবির এই শিল্পী.. বাংলা ছবির ইতিহাসের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা।
লেখাঃ গৌরব অধিকারী

No comments