এনআরএস কান্ডে ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ধিক্কার শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের। #Exclusive
নজরবন্দি ব্যুরোঃ এন আর এস হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারদের উপর পৈশাচিক আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ চলছে সারা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষে জুড়ে। সেই প্রতিবাদে সামিল হলেন এবার রাজ্যের শিক্ষকরাও। শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে, দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করা হয়েছে। ডাক্তারদের এই আন্দোলনকে আমরা সম্পূর্ণভাবে সমর্থন জানিয়েছে এই শিক্ষকদের মঞ্চ।
শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে যুগ্ম সম্পাদক, কিংকর অধিকারী জানিয়েছেন, "ঘটনার পরে এন আর এস হাসপাতালের ডাক্তারদের প্রতি সহানুভূতি বা সহমর্মিতা জ্ঞাপন না করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে যে ভাবে হুমকি প্রদর্শন করলেন তা অত্যন্ত ধিক্কারজনক। আমরা মনে করি মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য এই আন্দোলনকে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। ঘটনার পর ডাক্তারদের প্রতি সহানুভূতি বা সহমর্মিতার বার্তা না দিয়ে তিনি যেভাবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হুমকি প্রদর্শন করলেন আমরা ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে তীব্র ধিক্কার জানাই।"
আমরা মনে করি বিভিন্ন জায়গায় রোগী বনাম ডাক্তার এবং নার্সের দ্বন্দ্বের মূল কারণ হলো অপর্যাপ্ত সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা টিকে রয়েছে জুনিয়র ডাক্তারদের উপর নির্ভর করে। পূর্ণ সময়ের ডাক্তারদের অভাব সর্বত্র। প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য ডাক্তার এবং নার্স দিয়ে চলছে জেলা এবং শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল। স্বাভাবিকভাবেই অমানুষিক চাপ বাড়ছে ডাক্তার এবং নার্সদের উপর। সমস্ত হাসপাতালে নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি বা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। ফলে হাতেগোনা কয়েকটি বড় হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়। প্রত্যেক রোগীর পরিবার চায় তার রোগীটি যেন সর্বস্রেষ্ঠ চিকিৎসা পায়। অপ্রতুল পরিকাঠামো যা প্রদান করা কোন মতেই সম্ভব নয়। ফলে আজ ডাক্তার, নার্স বনাম রোগীদের যে দ্বন্দ্ব তা সামগ্রিক সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দৈনদশার কারণেই। উল্লেখ্য, ব্যক্তিগতভাবে কোনো ডাক্তার বাবু বা কোনো নার্সের অন্যায় আচরণকে আমরা সমর্থন করি না।
কেউ কেউ ডাক্তারদের এই আন্দোলনকে রোগী বনাম ডাক্তারদের লড়াই হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন। আমরা মনে করি ডাক্তারদের এই আন্দোলন কোন মতেই রোগীদের বিরুদ্ধে নয়। বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দৈন্যদশার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন। তাঁদের এই আন্দোলনের প্রতি জনগণের বিরাট একটা অংশের সমর্থন রয়েছে। সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে সমস্ত সমস্যার সমাধান লুকিয়ে রয়েছে। এই আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষকে শামিল করতে হবে।
আমরা যতটুকু জানি প্রতিটি হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা চালু রয়েছে। যেহেতু সামগ্রিকভাবে জনসাধারণের চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিষয়টি তাই আমাদের একান্ত অনুরোধ কোনভাবেই যাতে জরুরি পরিষেবা বন্ধ না হয় সেদিকে সহানুভূতির সহিত নজর রাখা দরকার। কোনোভাবেই যেন বিনা চিকিৎসায় একজন রোগীও মারা না যান সে বিষয়টিও মানবিকতার দৃষ্টিতে দেখতে হবে। তবেই বৃহত্তর স্বার্থে এই আন্দোলনে সমস্ত স্তরের মানুষ প্রকৃতই শামিল হবে। মনে রাখতে হবে কয়েক দিনের জন্য নয়, এই দাবি আদায় করতে গেলে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুচিন্তিত এবং সুশৃংখল ভাবে এই আন্দোলনকে পরিচালনা করতে হবে।"
শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের পক্ষ যে প্রস্তাব গুলি দেওয়া হয়েছে সেগুলি হল...
১) ডাক্তারদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে যে হুমকি প্রদর্শন করা হয়েছে তার জন্য ভুল স্বীকার করে সহানুভূতির সঙ্গে ডাক্তারদের পাশে থেকে সমস্যার সমাধান করুন মুখ্যমন্ত্রী।
২) আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের ন্যায্য দাবি গুলি মেনে নিয়ে অতি দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে।
৩) ডাক্তার বা নার্সের উপর আক্রমণ কারীদের জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৪) সারা রাজ্যে সামগ্রিকভাবে(জেলায় জেলায়) আধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিপন্ন রোগীরা যথার্থ চিকিৎসা পাবে।
৫) প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্থায়ীভাবে ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করতে হবে।
শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে যুগ্ম সম্পাদক, কিংকর অধিকারী জানিয়েছেন, "ঘটনার পরে এন আর এস হাসপাতালের ডাক্তারদের প্রতি সহানুভূতি বা সহমর্মিতা জ্ঞাপন না করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে যে ভাবে হুমকি প্রদর্শন করলেন তা অত্যন্ত ধিক্কারজনক। আমরা মনে করি মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য এই আন্দোলনকে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। ঘটনার পর ডাক্তারদের প্রতি সহানুভূতি বা সহমর্মিতার বার্তা না দিয়ে তিনি যেভাবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হুমকি প্রদর্শন করলেন আমরা ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে তীব্র ধিক্কার জানাই।"
আমরা যতটুকু জানি প্রতিটি হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা চালু রয়েছে। যেহেতু সামগ্রিকভাবে জনসাধারণের চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিষয়টি তাই আমাদের একান্ত অনুরোধ কোনভাবেই যাতে জরুরি পরিষেবা বন্ধ না হয় সেদিকে সহানুভূতির সহিত নজর রাখা দরকার। কোনোভাবেই যেন বিনা চিকিৎসায় একজন রোগীও মারা না যান সে বিষয়টিও মানবিকতার দৃষ্টিতে দেখতে হবে। তবেই বৃহত্তর স্বার্থে এই আন্দোলনে সমস্ত স্তরের মানুষ প্রকৃতই শামিল হবে। মনে রাখতে হবে কয়েক দিনের জন্য নয়, এই দাবি আদায় করতে গেলে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুচিন্তিত এবং সুশৃংখল ভাবে এই আন্দোলনকে পরিচালনা করতে হবে।"
শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের পক্ষ যে প্রস্তাব গুলি দেওয়া হয়েছে সেগুলি হল...
১) ডাক্তারদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে যে হুমকি প্রদর্শন করা হয়েছে তার জন্য ভুল স্বীকার করে সহানুভূতির সঙ্গে ডাক্তারদের পাশে থেকে সমস্যার সমাধান করুন মুখ্যমন্ত্রী।
২) আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের ন্যায্য দাবি গুলি মেনে নিয়ে অতি দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে।
৩) ডাক্তার বা নার্সের উপর আক্রমণ কারীদের জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৪) সারা রাজ্যে সামগ্রিকভাবে(জেলায় জেলায়) আধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিপন্ন রোগীরা যথার্থ চিকিৎসা পাবে।
৫) প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্থায়ীভাবে ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করতে হবে।

No comments