ডেপুটেশন শিক্ষকদের, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে আসন্ন লোকসভায় ভোটের কাজ নয়।
ঐক্যমঞ্চের ১১ জনের এক প্রতিনিধিদল জেলাশাসকের এডিএম-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। আজকের ডেপুটেশন গ্রহণ করেন এ ডি এম (ডেভলপমেন্ট) প্রতিমা দাস।
তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই দেখা হবে। স্পর্শ কাতর বুথ গুলিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আগামী লোকসভা ভোটে ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা বিষয়ে আরো কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ডেপুটেশনের কপি এবং যেসব দাবি তুলে ধরা হয়েছে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।ঐক্যমঞ্চের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা সর্বসমক্ষে জানাতে হবে।
শুধু রাজকুমার নয়, অসংখ্য বুথে ভোটকর্মীদের উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন চলে। বহু জায়গায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে প্রাণরক্ষার তাগিদে ভোটকর্মীরা অন্যায় ও অনৈতিক আচরণের কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়। স্বাভাবিকভাবে তাই আসন্ন লোকসভা ভোটের আগে সবার মনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে স্মরণ করে শিক্ষক সমাজ আজ ভোটকর্মী হিসাবে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন। দাবি উঠেছে ভোট কর্মী ও ভোটারদের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী সহ যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের রাজ্য কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, "অবিলম্বে নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রতিশ্রুতি না দিলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে ভোট প্রক্রিয়া পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে।
কোন্ দল জিতবে বা কোন্ দল পরাজিত হবে তা দেখবার দায়িত্ব ভোটকর্মীর নয়। মানুষ যেন তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাধা না পান তা সুনিশ্চিত করতে হবে। আমরা ভোটকর্মী হিসাবে জীবনের নিরাপত্তা, মান-মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অক্ষুন্ন রেখে নির্বাচন পরিচালনার দাবি জানাচ্ছি।"
৪) ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ভোট কর্মীদের যথাযথ নিরাপত্তাসহ থাকা, খাওয়া এবং শৌচালয়ের যথেষ্ট ব্যবস্থা রেখে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করতে হবে। ৫) প্রিজাইডিং অফিসারের অভিযোগের ভিত্তিতে সেক্টর অফিসার বা রিটার্নিং অফিসার যথাযথ ভূমিকা পালন না করে প্রিজাইডিং অফিসারকে অনৈতিক কাজে বাধ্য বা প্ররোচিত করলে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে তৎক্ষণাৎ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৬) শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, একজন ভোটকর্মী বাড়ি থেকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং ভোটিং মেটেরিয়ালস জমা দেওয়ার পর বাড়ি ফেরার জন্য উপযুক্ত যানবাহন যথেষ্ট পরিমাণে রাখতে হবে। ৭) ভোটকর্মীদের হতাহতের ঘটনায় তৎক্ষণাৎ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। যে কোন ভোটকর্মী অসুস্থ বা আহত হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ সহ চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন কে নিতে হবে। ৯) প্রতিবন্ধীদের ভোট কর্মী হিসাবে নিয়োগ করে তাঁদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

No comments