নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটের দিন ঘোষনা হয়ে গেছে। প্রথমে নির্বাচন কমিশন তিন দিনে ভোট গ্রহণ করতে চাইলেও পরে রাজ্য সরকারের ইচ্ছায় সম্মতি জানিয়ে একদিনে গোটা রাজ্যে ভোট করার কথা ঘোষনা করে। আগামি ১৪ মে নির্বাচনের দিন ঘোষিত হয়েছে রাজ্যে। যদিও এখনো সেই তারিখে ভোট হওয়া নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আদালতে এই মুহূর্তে পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে বিরোধীদের করা মামলা চলছে। সেই মামলার শুনানিতে ভোটে রাজ্য সরকারি কর্মী যারা বুথে ডিউটি দিতে যাবেন তাদের নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চান বিচারপতি। নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ চান। এর পরেও গতকাল নবান্নে তড়িঘড়ি নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক হয়। ইতিমধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটে ডিউটিরত অবস্থায় গন্ডগোলের কারণে কোনো কর্মী মারা গেলে তার পরিবার পাবেন ২০ লক্ষ টাকা বিমা। আর কেউ গুরুতর আহত হলে ১০ লক্ষ টাকা এবং অপেক্ষাকৃত কম আহত হলে ৫ লক্ষ টাকা পাবে পরিবার।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন জমাকে ঘিরে যেভাবে অশান্তি ছড়িয়েছে রাজ্যে তাতে আতঙ্কিত ভোটকর্মীরা তথা রাজ্যবাসী। ভোটের ডিউটি দিতে যাওয়ার নামেই শিউরে উঠছেন ভোটকর্মীরা ও তাদের পরিবার। এক্ষেত্রে আশা করা হয়েছিল, বিমার ঘোষনাটি অনেকটা আশ্বস্ত করবে ভোটকর্মীদের। কিন্তু বাস্তবে তার ফল হল উলটো। আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন সরকারি কর্মীরা। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, "একজন মানুষের জীবনের মূল্য কিভাবে টাকা দিয়ে বিচার করা হচ্ছে? পরিবারের কেউ মারা গেলে টাকা দিয়ে সেই ক্ষতিপূরণ করা কি আদৌ সম্ভব?" আরও একটি প্রশ্ন তুলেছেন ভোটকর্মীরা। ভোটের অশান্তিতে মারা গেলে ২০ লক্ষ টাকা ঘোষনা হয়েছে, তার মানে অশান্তি হবেই এব্যাপারে নিশ্চিত সরকার? কারো বা ক্ষুব্ধ উক্তি, "নির্বাচন কমিশনারকে ভোটের ডিউটি দিতে পাঠানো হোক কোনো বুথে, তাহলে উনি বুঝবেন অশান্তি হলে কাজ করা কতটা অসম্ভব হয়ে যায়।"
একদিকে নির্বাচনের তারিখ ঘিরে অনিশ্চয়তা, আরেকদিকে ভোটকর্মীদের ক্ষোভের আগুন, সব মিলিয়ে এবারের পঞ্চায়েত ভোট ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
No comments