Header Ads

ঋতব্রতর দাবিকে মান্যতা দিতে বাধ্য হল কেন্দ্র! এবার মেট্রো স্মার্ট কার্ডে থাকবে বাংলা ভাষা।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যসভায় নির্দল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবির জের, আগামী মে মাস থেকে কলকাতা মেট্রো কার্ডে বাংলা থাকবে "তৃতীয় ভাষা" হিসেবে। ২০১১ থেকে কলকাতা মেট্রোতে স্মার্ট কার্ড চালু হয়। ভাষার ভিত্তিতে গঠিত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, যেখানে ২০০১ আদমশুমারি অনুযায়ী ৮৬% বাসিন্দা বাঙালী এবং এই ৮৬% এর মধ্যে ৮৩% বাঙালী শুধুই বাংলা জানেন, সেই বাংলার রাজধানী শহর কলকাতার মেট্রো রেলে কেন্দ্রের রেল মন্ত্রক যে স্মার্ট কার্ড চালু করে, সেখানে বাংলাকে বাদ দেওয়া হয়, জায়গা পায় হিন্দি। ব্যবহার পদ্ধতির বিবরণও নেই বাংলায়, আছে হিন্দিতে।

কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন রেলের কাজ ৮৬% বাঙালীর পশ্চিমবঙ্গে রেল পরিষেবা দেওয়া। এবং সেই পরিষেবার ভাষা স্বাভাবিক ভাবেই প্রধান ভাবে হবার কথা বাংলা। সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, "কেন্দ্রীয় সরকার নির্লজ্জ ভাবে এই বাংলার মাটিতে রেল পরিষেবায় বাংলা ভাষাকে প্রান্তিক করেছে সচেতন ভাবে।" সাংসদ নজরবন্দির প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন "কেন্দ্রের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাংলা ভাষাকে প্রান্তিক এর প্রতিবাদে অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলা পক্ষ নামক এক বাংলা ও বাঙালীর ভাষা ও জীবিকার অধিকার সংগঠন এই নিয়ে কলকাতা মেট্রো ভবনে প্রতিবাদ জানায় এবং দিয়ে আসে ডেপুটেশন। কলকাতা মেট্রো কার্ডে বাংলা ভাষা চালু করার পাশাপাশি তারা দাবী রাখে রেল পুলিশ সহ পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিটি ভারতীয় রেল কর্মীর আবশ্যিক বাংলা ভাষা জ্ঞান এবং আগামীতে ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর কামরার ভিতরে ও বাইরে সকল সাইনবোর্ডে  বাংলাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, যেন তার স্থান হিন্দির নিচে না হয়। 

অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় এই দাবী নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করলে এই ন্যায্য দাবীর সাথে আমি একমত হই। পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ও বাঙালীর সাথে অবিচারের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান সুদৃঢ়। আমি রাজ্য সভায় এই নিয়ে প্রশ্ন তুলি। কেন কলকাতা মেট্রো কার্ডে বাংলা নেই এবং এই অবিচার দূর করতে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এতে কেন্দ্রের রেল মন্ত্রকের উত্তর তাদের বাংলাকে প্রান্তিক করার অবস্থানকেই প্রকাশ করে। তারা জানায় যে বাংলা দেওয়া হয়নি জায়গার অভাবে ! এই উত্তর কেন্দ্রের রেল মন্ত্রক এমন  এক রাজ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছে যেখানে ৮০%র বেশি মানুষ বাংলাভাষী। তারা আরও বলে, হিন্দি ও ইংরেজি নির্দেশাবলীতে মানুষ সড়োগড়ো হয়ে উঠেছে। কোন মানুষ? নিশ্চয়ই বাংলা ভাষী মানুষ না। ৮০% র বেশি বাংলাভাষী রাজ্যে বাংলায় পরিষেবা দেপার দায় কি ভাবে এড়াতে পারে কেন্দ্র, এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বাংলা-বিরোধী অবস্থান নিয়ে? ক্রেতা পরিষেবা কি ক্রেতার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ক্রেতার ভাষায় হওয়াই বাঞ্ছনীয় না? কেন্দ্রীয় সরকারের এই একই হিন্দি আধিপত্যবাদী মনোভাব আমরা দেখেছি আমরা বেঙ্গালুরুর মেট্রোর ক্ষেত্রে। সেখানে হিন্দি ঢুকিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ করেছে কর্ণাটক।

প্রতিরোধে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র, কর্ণাটক মেট্রোতে হিন্দি ঢোকানোর ষড়যন্ত্র বানচাল হয়েছে। রাজ্যসভায় আমার উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে রেল মন্ত্রক জানিয়েছে যে আগামী মে মাস থেকে কলকাতা মেট্রো কার্ডে বাংলা থাকবে "তৃতীয় ভাষা" হিসেবে। আমি জানিনা না এই "তৃতীয় ভাষা" বলতে রেল মন্ত্রক কি বুঝিয়েছে এবং আশা করছি যে  "তৃতীয় ভাষা" মানে এই নয় যে মর্যাদার দিক থেকে তৃতীয়। পশ্চিমবঙ্গে সকল রেল প্রকল্পে ও পরিষেবায় সর্বস্তরে সবার উপরে বাংলা ভাষা থাকাই স্বাভাবিক। কেন্দ্র -রাজ্য সম্পর্কের মূল ভিত্তি হল রাজ্যের মর্যাদা ও অধিকার। এই কারণেই সাংবিধানিকভাবে রাজ্যগুলিভাষা ভিত্তিক নীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি বাংলার প্রতিটি মানুষকে এই অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানাই, অভিনন্দন জানাই বাংলা পক্ষকে, অভিনন্দন জানাই ভাষার সমানাধিকার ও মাতৃভাষা অধিকারের পক্ষে থাকা সকল মানুষকে। ভারতীয় সংঘরাষ্ট্রে সকল ভাষা সমান। এটাই সমান অধিকারই হল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ভিত্তি।"

সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কে নজরবন্দির অভিনন্দন।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.