Header Ads

"রাজনীতি করতে যোগ্যতা লাগে না!" তবে আর কত যোগ্য হতে হবে হবু শিক্ষকদের? হাতে আর ৪ দিন মাত্র।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যে শিক্ষক পদপ্রার্থীদের নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা দিনদিন বাড়ছে। সরকারের গড়িমসিতে ফের অসংখ্য চাকরি প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ার মুখে বিপুল সংখ্যক চাকরি প্রার্থীর।
২০১২ সালে টেট পরীক্ষায় সফল প্রার্থীদের এনসিটিই নিয়ম মেনে শংসাপত্র দিচ্ছিল না স্কুল সার্ভিস কমিশন। ফলে বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন চাকরি প্রার্থীরা। হাইকোর্ট সফল প্রার্থীদের টেট শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ দেয়। অবশেষে ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল সেই শংসাপত্র হাতে পান তারা। কিন্তু সেই শংসাপত্র এবার মূল্যহীন হয়ে যেতে বসেছে।

আগামি ৩১ মার্চ ওই শংসাপত্রের মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে। এরপর আর সেই শংসাপত্র আর কোনো কাজেই আসবে না। কিন্তু গত তিন বছরে মাত্র একবারই শিক্ষক পদে আবেদন করার সুযোগ পেয়েছেন চাকরি প্রার্থীরা। কারণ, ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে মাত্র একবারই টেট পরীক্ষা নিয়েছে সরকার। ফলে সরকারের গাফিলতিতে শংসাপত্রের মেয়াদ ফুরতে চলেছে লক্ষাধিক চাকরি প্রার্থীর। এই অবস্থায় আগামি ২৯ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন ওই সমস্ত প্রার্থীরা।

চাকরি প্রার্থীদের দাবি, যেহেতু সরকারের গড়িমসির কারণেই তারা চাকরি পাননি তাই সরকারকে এবার তাদের শংসাপত্রের মেয়াদ বাড়াতে হবে। তারা দাবি জানিয়েছেন, ২০১২ সালের টেটে সফল প্রার্থীদের আগামি আরও দুটি আপার প্রাইমারি নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনের সুযোগ দিতে হবে। শংসাপত্রের মেয়াদ বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন শুরু করে দিয়েছেন এসএসসি চাকরি প্রার্থী মঞ্চ নামে চাকরি প্রার্থীদের সংগঠন। দাবি না মানা হলে আগামিতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হবু শিক্ষকরা।
নচিকেতার সেই গান অনেকদিন আগেই বলেছে, "রাজনীতি করতে যোগ্যতা লাগে না"। কিন্তু শিক্ষক পদপ্রার্থীদের যোগ্যতার পরীক্ষা দিয়েই যেতে হচ্ছে। কিন্তু এতকিছুর পরেও দিনের শেষে খালি হাতে ফিরছেন তারা। পরীক্ষায় পাশ করে যোগ্যতা থাকা সত্তেও নিয়োগ থেকে বঞ্চিত অসংখ্য চাকরি প্রার্থী। সরকারি গাফিলতির কারণে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন চিরতরে শেষ হয়ে যেতে চলেছে তাদের। পরীক্ষায় সফল হয়েও বাস্তবে শূন্য হাতে ফিরছেন যে লক্ষ লক্ষ হবু শিক্ষক তাদের সেই অপ্রাপ্তির দায় কে নেবে? প্রশ্ন কিন্তু উঠেই যায়।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.