Header Ads

সব ধর্মে মনুষ্যত্বকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়, নিপাত যাক উগ্র মৌলবাদ! প্রত্যয়ী ঘোষণা নরেন্দ্র মোদীর।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ তিন দিনের সফরে ভারতে এসেছেন জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লা। ১ মার্চ দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় একটি বিশেষ আলোচনাসভা। 'ইসলামিক হেরিটেজঃ প্রোমোটিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং অ্যান্ড মডারেশন' শীর্ষক এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জর্ডনের রাজা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী সহ ইসলামিক সংস্কৃতিক অসংখ্য উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব।

এদিনের আলোচনায় মূল বিষয় ছিল সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতি। ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে এই ধর্মের সংহতির বার্তা। বক্তব্য রাখার সময়ে জর্ডন রাজ দ্বিতীয় আবদুল্লা বলেন, ইসলাম ধর্ম প্রকৃত অর্থে শান্তির ধর্ম। সেই ধর্মকে কলুষিত করার পেছনে রয়েছে কিছু উগ্রবাদে বিশ্বাসী মানুষ যারা ইসলামের নামে হিংসা এবং হানাহানির এক ভয়াবহ আবহ তৈরি করে। তিনি জাতির উদ্দেশ্যে বলেন, একাধিক জাতির সমন্বয় এবং সহাবস্থানের মাধ্যমেই অগ্রগতি সম্ভব।

একই সুর শোনা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গলায়। ভারতবর্ষ যে বহুধর্মের সমন্বয়ের আরেক নাম তা আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান, মুসলিম সমস্ত ধর্মের মানুষ রয়েছেন এদেশে। তাঁর কথায়, “একটা ভুল ধারনাই গোটা দুনিয়ায় শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এটা বুঝতে হবে যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর অর্থ, কোনও বিশেষ ধর্মীয় মত বা আদর্শের বিরোধিতা করা নয়। সব ধর্মে মনুষ্যত্বকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।”

রাজা আবদুল্লা ধর্মীয় বিবাদ প্রসঙ্গে এদিন বলেন, ধর্মে ধর্মে লড়াইয়ের মূল কারণ ধর্ম নয়, এর কারণ উগ্র মৌলবাদ যা সমস্ত শান্তিকে নিমেষে শেষ করে ভেদাভেদের প্রাচীর গড়ে তোলে। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের বক্তৃতায় উঠে আসে একটা মূল কথা, ধর্মীয় ভেদাভেদ সৃষ্টিকারী উগ্রবাদকে হারিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সমন্বয়ের সুরকে।

বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান এবং সমন্বয়ই যে একমাত্র পথ জাতিকে ধর্মীয় উগ্রবাদে বিশ্বাসীদের হাত থেকে রক্ষা করার সেই বার্ত দেন দুই রাষ্ট্রের নেতারা। হাতে হাত রেখে সকল ধর্ম সকল জাতির পথ চলার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্যে দিয়েই শেষ হয় এদিনের আলোচনা সভা।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.